📄 ‘বাইদাখ’ নামক মনোরম জায়গা
[৭৯] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন-জান্নাতে 'বাইদাখ' নামক একটি নহর রয়েছে, তার উপর ইয়াকুতের তাঁবু রয়েছে, তাতে চির কুমারী বাঁদীগণ থাকবে। চারদিকে থাকবে মনোরম বাতাস। সাদা মেঘ তাদের ঠিক কাছাকাছি থাকবে। জান্নাতবাসীরা বলবে-(হে ফেরেশতারা কিংবা খাদিমরা!) আমাদেরকে 'বাইদাখ' নামক স্থানে নিয়ে চল, সে স্থানে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে, তারা সে স্থানে এসে সকল বাঁদীদেরকে গভীর ভালবাসার দৃষ্টিতে দেখতে থাকবে। কারো প্রতি মুগ্ধ হলে তাকে স্পর্শও করবে; সে বাদীও তার সাথে চলতে থাকবে। দু'জনে মুনোমুগ্ধকর সময় পার করবে।
[৮০] আল্লাহ তাআলার বাণী: فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخতَانِ সেখানে আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্ররণ। এর ব্যাখ্যায় আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতবাসীদের ঘরসমূহের উপর দিয়ে মিশক ও আম্বর প্রবাহিত হবে, যেভাবে দুনিয়াতে ঘরসমূহের উপর দিয়ে বৃষ্টি প্রবাহিত হয়।
[৮১] আল্লাহ তাআলার বাণী: فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ সেখানে আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ। এর ব্যখ্যা সাঈদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, এ প্রস্রবন হবে পানি ও ফলসমূহের।
[৮২] বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে দু'টি নহর প্রবাহিত রয়েছে, তা [নাদ্দাখাতান তথা] দু'প্রস্রবন থেকে অধিক উত্তম।
[৮৩] আল্লাহ তাআলার বাণী: يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا এটা একটা ঝর্ণা। যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে—তারা একে প্রবাহিত করবে। উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বসরার একজন শাইখ বলেন-তাদের সাথে স্বর্ণের পানশালা থাকবে, তারা যেদিকে ঝুঁকবে সেটিও তাদের সাথে তাদের সুবিধা মত সেদিকেই ঝুঁকবে।
টিকাঃ
[*] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৩২৪।
[*] সুরা আর রহমান: ৬৬।
[*] আত তাফসির, কুরতুবি: ১৭/১৮৫।
[*] সুরা আর রহমান: ৬৬।
[**] সুরা ইনসাফ: ৬।
[*] আদ দুররুল মানসুর, সুয়ূতী: ৬/১৯৮।
📄 হাউযে কাউসার সম্পর্কে আরো কয়েকটি বর্ণনা
[৮৪] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঠ করলেন, إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আমাকে হাউযে কাউসার দান করা হয়েছে, সেটা প্রবাহমান, তাতে কোন ফাটল নেই। তার উভয় তীরে মণিমুক্তার তাঁবু রয়েছে। আমি তার গভীরে হাত দিয়ে আযফার মিশক নিরেট সুগন্ধযুক্ত মৃগনাভি দেখতে পেলাম; তার কঙ্করগুলো হলো মণিমুক্তার।
[৮৫] আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝেই ছিলেন। হঠাৎ তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। তারপর মুচকি হেসে মাথা উত্তোলন করলেন। আমরা জানতে চাইলাম, আপনি হাসলেন কেন? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার ওপর এই মুহূর্তে একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তিনি পড়লেন, بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ { إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ فَصَلَّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ } ثُمَّ قَالَ أَتَدْرُونَ مَا الْكَوْثَرُ ফোকলনা আল্লাহু ওয়া রসূলুহু আলাম। কল ফাইন্নাহু নাহরুন ওয়া আদানিল রাব্বি আয্যা ওয়া জাল্লা আলাইহি খইরুন কাষীরু হুয়া হাউযুন তারিদু আলাইহি উম্মতি ইয়াওমাল কিয়ামাতি আনিয়াতুহু আদাদুন নুজুম ফায়ুখতালাজুল আব্দু মিনহুম ফা আকুলু রব্বি ইন্নাহু মিন উম্মতি ফায়াকুলু মা তাদরী মা আহদাসাত বাদাকা. শুরু করছি অতিশয় দয়ালু পরম করুণাময় আল্লাহর নামে। আমি তোমাকে কাউসার দান করেছি। অতএব, তুমি তোমার রবের জন্য নামাজ পড়ো এবং কুরবানি করো। নিশ্চয় তোমার শত্রুই নির্বংশ হবে।' তারপর বললেন-তোমরা কি জানো কাউসার কী? আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটি একটি নদী। যার প্রতিশ্রুতি আমার রব আমাকে দিয়েছেন। তাতে রয়েছে অনেক কল্যাণ। সেটি এমন একটি হাউজ, যার পাত্রসংখ্যা তারকারাজির সমান। কিয়ামতের দিন আমার উম্মত সেখান থেকে পান করার জন্য আসবে। তাদের মধ্য থেকে কিছু বান্দাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব-হে আমার রব! সে তো আমার উম্মত। তখন আল্লাহ বলবেন-তুমি জানো না, তোমার অবর্তমানে তারা (দীনের মধ্যে) নতুন কী আবিষ্কার করেছে!
[৮৬] আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আমি জান্নাতে ভ্রমন করছিলাম, এমন সময় এক ঝর্ণার কাছে এসে দেখি, তার দু'ধারে মুক্তার গম্বুজ রয়েছে। আমি বললাম, হে জিবরিল! এটা কি? তিনি বললেন, এটা ঐ কাউসার যা আপনার রব আপনাকে দান করেছেন। তার ঘ্রাণে অথবা মাটিতে ছিল উত্তম মানের মিশক এর সুগন্ধি।
[৮৭] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, حَوْضِي مَسِيرَةُ شَهْرٍ وَزَوَايَاهُ سَوَاءٌ وَمَاؤُهُ أَبْيَضُ مِنْ الْوَرِقِ وَرِيحُهُ أَطْيَبُ مِنْ الْمِسْكِ وَكِيزَانُهُ كَنُجُومِ السَّمَاءِ فَمَنْ شَرِبَ مِنْهُ فَلَا يَظْمَأُ بَعْدَهُ أَبَدًا . আমার হাউজের আয়তন হবে একমাসের দূরত্বের সমপরিমাণ। তার কোণগুলো সমান। তার পানি রূপার চেয়ে সাদা, তার গন্ধ মিশকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণযুক্ত, তার পাত্রগুলো আকাশের তারকারাজিসম। যে ব্যক্তি সেখান থেকে পান করবে, সে পরবর্তী সময়ে কখনো পিপাসার্ত হবে না।
[৮৮] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, الْكَوْثَرُ نَهْرُ فِي الْجَنَّةِ حَافَتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ وَمَجْرَاهُ عَلَى الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنْ الْمِسْكِ وَمَاؤُهُ أَحْلَى مِنْ الْعَسَلِ وَأَبْيَضُ مِنْ الثَّلْجِ. কাউসার জান্নাতে অবস্থিত একটি নদী। তার কিনারাগুলো স্বর্ণের। এটি প্রবাহিত হবে মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের ওপর দিয়ে। তার মৃত্তিকা হবে মিশকের চেয়েও সুগন্ধিময়। তার পানি হবে মধুর চেয়ে মিষ্ট এবং বরফের চেয়ে সাদা।
[৮৯] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, بَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ فِي الْجَنَّةِ إِذَا أَنَا بِنَهَرٍ حَافَتَاهُ قِبَابُ الدُّرِّ الْمُجَوَّفِ قُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ رَبُّكَ فَإِذَا طِينُهُ أَوْ طِيبُهُ مِسْكُ أَذْফَرُ. আমি জান্নাতের মধ্যে ভ্রমণ করতে করতে হঠাৎ একটি নদীর কাছে পৌঁছে গেলাম। যার কিনারে মুক্তার তৈরি পাত্র ছিল। আমি বললাম, জিবরিল এটা কী? তিনি বললেন, এটাই সেই কাউসার-আপনার রব আপনাকে যা দান করেছেন। এর মাটি বা সুঘ্রাণ হলো অজস্র মিশক।
[৯০] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কাউসার জান্নাতে অবস্থিত একটি নদী। তার কিনারাগুলো স্বর্ণের। এটি প্রবাহিত হবে মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের ওপর দিয়ে। তার মৃত্তিকা হবে মিশকের চেয়েও সুগন্ধিময়। তার পানি হবে মধুর চেয়ে মিষ্ট এবং বরফের চেয়ে সাদা।
[৯১] মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, فَإِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَى الْجَنَّةِ وَأَوْسَطُهَا وَفَوْقَ ذَلِكَ عَرْشُ الرَّحْمَنِ وَمِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ জান্নাতে একশ'টি স্তর আছে। প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝে আকাশ-জমিনসম দূরত্ব। জান্নাতুল ফিরদাউস উচ্চতায় জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে আছে এবং অবস্থানগতভাবে সমস্ত জান্নাতের মাঝামাঝি আছে। এর ওপরেই আল্লাহর আরশ। আরশ থেকেই জান্নাত নহরগুলো প্রবাহিত হবে। অতএব, যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাও, তার কাছে ফিরদাউস চাও।
[৯২] উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতের একশতটি স্তর রয়েছে। প্রতি দুই স্তরের মাঝে আসমান-জমিনের সমান ব্যবধান বিদ্যমান। ফিরদাউস হচ্ছে সবচেয়ে উঁচু স্তরের জান্নাত, সেখান থেকেই জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হয় এবং এর উপরেই আল্লাহ তাআলার আরশ স্থাপিত। তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করার সময় ফিরদাউসের প্রার্থনা করবে।
[৯৩] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাউসার কী? তিনি বললেন- সেটি একটি নদী, যা আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দান করেছেন। যার পানি হবে দুধের চেয়ে শুভ্র, মধুর চেয়ে মিষ্ট। সেখানে এমন পাখি থাকবে, যার গর্দানগুলো হবে উটের মতো। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এটা তো অবশ্যই উটপাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-এটা খাওয়ার জন্য, যা জান্নাতের অনেক সুন্দর নিয়ামত।
[৯৪] মুতামির রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে একটি নহর রয়েছে, যাতে চির কুমারী বাঁদী থাকবে।
টিকাঃ
[**] সূরা আল কাউসার: ১।
[***] আল মুসনাদ, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল: ৩/১৫২।
[৮৭] সহিহ মুসলিম: ৬০৭।
[৮৮] আস সুনান, তিরমিযি: ৩৩৬। অন্য বর্ণনায় আছে-আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাউসার কী? তিনি বললেন-সেটি একটি নদী, যা আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দান করেছেন। যার পানি হবে দুধের চেয়ে শুভ্র, মধুর চেয়ে মিষ্ট। সেখানে এমন পাখি থাকবে, যার গর্দানগুলো হবে উটের মতো। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এটা তো অবশ্যই উটপাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-এটা খাওয়া জান্নাতের অনেক সুন্দর নিয়ামত। [আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৪৬৫]
[*] সহিহ বুখারি: ৪২৪৪১
[*] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ৩২৪৪১
[১] সহিহ বুখারি: ৬০৯৫।
[২] হাসান। আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ৩২৮৪।
[*] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৪৫৩। ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন-হজরত আতা ইবনু ইয়াসার রহমাতুল্লাহি আলাইহি হজরত মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাক্ষাৎ পাননি।
[*] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি : ২৪৬৫।
[*] সহিহ মুসলিম: ১/৩০০; আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৪২।
[*] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৩১২।
📄 চারটি নহর
[৯৫] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَرْبَعَةُ أَنْهَارٍ فُجَّرَتْ مِنَ الْجَنَّةِ، نَهْرَانِ ظَاهِرَانِ وَنَهْرَانِ بَاطِنَانِ، النِّيلُ وَالْفُرَاتُ، وَسَيْحَانُ وَجَيْحَانُ চারটি নহর জান্নাত থেকে প্রবাহিত হয়েছে, তন্মধ্যে দু'টি নহর প্রকাশ্য ও দু'টি নহর অপ্রকাশ্য। প্রকাশ্য নহরদ্বয় হল নীল ও ফুরাত আর অপ্রকাশ্য নহরদ্বয় হল—'সাইহান ও জাইহান।'
অন্য বর্ণনায় আছে-তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-সাইহান, জাইহান (দু'টি নদ) এবং ফুরাত ও নীল (দু'টি নদ) এসবের প্রত্যেকটিই জান্নাতের নহরসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।
টিকাঃ
[*] সহিহ মুসলিম: ৪/২১৮৩।
["] সহিহ মুসলিম: ৭০৫৩।
📄 জান্নাতের স্তর
[৯৬] উবায়দা ইবনুল জাররা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে একশত স্তর রয়েছে, প্রত্যেক দু'স্তরের মাঝে আসমান-জমিন সমান ব্যবধান। সর্বোচ্চ জান্নাত হচ্ছে-জান্নাতুল ফেরদাউস। আর ফেরদাউসের উপরই আরশ রয়েছে। তা থেকেই জান্নাতের নহরগুলো প্রবাহিত হয়, সুতরাং তোমরা প্রার্থনা করার সময় আল্লাহ তাআলার নিকট ফেরদাউসের প্রার্থনা করবে।
টিকাঃ
[*] তুলনীয় হাদিস নং: ১৮, ৭৭।