📄 তুবা বৃক্ষ
[৬১] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, জান্নাতে তুবা নামক একটি বৃক্ষ রয়েছে, আল্লাহ তাআলা সে বৃক্ষটিকে বলবেন-আজ আমার বান্দার জন্য বিদীর্ণ হয়ে তার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করো। সেই গাছটি বিদীর্ণ হয়ে একটি ঘোড়া তার লাগাম ও জিনসহ বের করে দিবে এবং তার দেহ-কাঠামো তার ইচ্ছানুযায়ী হবে। সে বৃক্ষটি আরো একটি উষ্ট্রী তার জিন ও লাগামসহ বের করে দিবে এবং তার দেহ-কাঠামো হবে তার ইচ্ছানুযায়ী। পোষাকও হবে তা থেকেই। জান্নাতী ব্যক্তি এগুলো দেখে অবাক হয়ে যাবে।
[৬২] মুগিস ইবনু সুমাই রাহিমাহুল্লাহু বলেন-'তুবা' হলো জান্নাতের একটি বৃক্ষ। তার ছায়া হবে অনেক দীর্ঘ। অভিজ্ঞ আরোহী ব্যক্তি পাঁচ বছর অথবা দু'বছর পর্যন্ত ও যদি উটের উপর আরোহন করে ঘুরতে থাকে; তবুও সে বৃক্ষটির ছায়া চলে শেষ করতে পারবে না। এমনকি চলতে চলতে বয়োবৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তার ছায়ায় শেষ অবদি পৌঁছতে পারবে না। জান্নাতের প্রতিটি বালাখানায় তুবা বৃক্ষের ডাল ঝুলে থাকবে। যখন জান্নাতীরা ফল খাওয়ার ইচ্ছা করবে, সে ডালগুলো আরো ঝুলে তাদের সামনে চলে আসবে। পাখি উড়ে গেলে যখন তাদের খেতে ইচ্ছে হবে, তখন তা টুকরো টুকরো গোশতের ভূনা হয়ে সামনে এসে যাবে। জান্নাতীরা তাদের ইচ্ছামত আহার করতে পারবে।
[৬৩] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, 'তুবা' হলো জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম। এ বৃক্ষ থেকেই জান্নাতীদের জন্য রঙ বে-রঙের পোষাক তৈরী করা হবে।
[৬৪] হুমাইদ ইবনু হিলাল রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে খেজুর বৃক্ষের কাণ্ড হবে ইয়াকুতের (নীল কান্তমণীর)। তার তৃণাচ্ছাদিত ভূমি হবে স্বর্ণের। তার ফল বরফ অপেক্ষা অধিকতর শুভ্র হবে, মাখন অপেক্ষা অধিকতর নরম হবে। মধু অপেক্ষা অধিকতর মিষ্ট হবে। সেই গাছ থেকেও জান্নাতীদের জন্য পোষাক তৈরী করা হবে।
টিকাঃ
[৬১] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৬৫।
[৬২] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৬৮।
[৬৩] আত তাফসির, মুজাহিদ:১/৩২৮, সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৪১০।
[৬৪] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২২৮।
📄 তুবা বৃক্ষের ছায়া হলো শ্রেষ্ঠ মিলনমেলা
[৬৫] মালিক ইবনু দিনার রাহিমাহুল্লাহু বলেন, অনেক ভাই-বন্ধু রয়েছে যারা তাদের ভাই-বন্ধুর সাথে সাক্ষাত ও খোশগল্প করতে পছন্দ করেন, কিন্তু এই দুনিয়ার কর্ম ব্যস্ততা তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, অচিরেই আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়জনকে এমন এক বালাখানায় একত্রিত করবেন; যেখানে তাদের মাঝে কোন আড়াল থাকবে না। মালিক ইবনু দিনার বলেন, হে আমার ভাই, আমিও আল্লাহর নিকট আবেদন করবো-তিনি যেন আমাকে ও তোমাদেরকে একটি বালাখানায় তুবা বৃক্ষের নিচে একত্রিত করেন। সেটা হবে বান্দাদের শ্রেষ্ঠ মিলন মেলা।
[৬৬] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-'তুবা' হাবশী ভাষায় একটি বিশেষ জান্নাতের নাম।
[৬৭] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতের জমিন হবে রূপার। মাটি হবে মিশকের; গাছসমূহের শিকড়গুলো হবে স্বর্ণের; পাতা-পল্লবগুলো হবে ইয়াকুত ও মণি-মুক্তার। তার ফলগুলো হবে অনেক মিষ্টি। জান্নাতীরা দাঁড়িয়ে, বসে যেভাবে ইচ্ছে ফল খেতে পারবে। যে দাঁড়িয়ে খেতে চাইবে, তারও কোনো কষ্ট হবে না। আর যে বসে খেতে চাইবে, তারও কোন কষ্ট হবে না।
টিকাঃ
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২২৯।
📄 জান্নাত সংক্রান্ত কিছু আয়াতের তাফসির
[৬৮] আল্লাহ তাআলার বাণী: يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে। এর ব্যাখ্যায় আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতের জমিন হবে রূপার। এবং জান্নাত হবে স্বর্ণের।
[৬৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে একটি বৃক্ষ রয়েছে, যার ছায়ায় আরোহী ব্যক্তি শত বছর অথবা সত্তর বছর পর্যন্ত চলবে। (তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না।) এ সংখ্যা নির্দিষ্ট করণের বিষয়ে শুবা রাহিমাহুল্লাহুর সন্দেহ রয়েছে। তার নাম হল ‘শাজারাতুল খুলদ’ (চিরস্থায়ী সম্প্রসারিত ছায়াদানকারী বৃক্ষ)।
[৭০] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَطَلْحٍ মَنْضُودٍ তারা থাকবে সারিবদ্ধ কাঁদি কাঁদি কলায়। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-'তলহিন' দ্বারা বিভিন্ন রঙের বাদাম উদ্দেশ্য।
[৭১] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَظِلٍ مَمْدُودٍ সম্প্রসারিত ছায়া। এর ব্যাখ্যায় আমর ইবনু মাইমুন রাহিমাহুল্লাহু বলেন, সে ছায়ার পরিমাণ হবে এক হাজার বছরের দূরত্ব।
টিকাঃ
[*] সুরা ইবরাহিম: ৪৮।
[*] আত তাফসির, তাবারি: ২৭/১৮৩; সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৩/২৪৪।
[*] সুরা আল ওয়াকিয়া: ৩০।
[**] আত তাফসির, তাবারি: ২৭/১৮৩।