📄 জান্নাতে খেজুর বৃক্ষ
[৫৬] আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে একটি স্বর্ণের খেজুর বৃক্ষ রয়েছে, তার কাণ্ডগুলো হবে স্বর্ণের। কাঁচা খেজুরের ছড়া ও তার কাঁদিগুলো শুকনো ও স্বর্ণের হবে। ফলগুলো বড় মটকার ন্যায় হবে; রং হবে দুধ ও রূপার চেয়েও অধিক শুভ্র। তার ঘ্রাণ মিশকের সুঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত হবে। তার স্বাদ চিনির চেয়েও মিষ্ট এবং মাখন ও ঘির চেয়েও অধিকতর নরম হবে।
[৫৭] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—জান্নাতে খেজুর বৃক্ষের কাণ্ডগুলো হবে সবুজ মণি-মুক্তার, তার কাঁদি হবে লাল স্বর্ণের। তার ফল হবে বড় মটকা অথবা বড় বালতির ন্যায়। তার ফলগুলো দুধের চেয়েও অধিক শুভ্র হবে; মধুর চেয়েও হবে অধিক মিষ্ট। মাখনের চেয়েও হবে অধিক নরম। তাতে কোন আটি থাকবে না।
টিকাঃ
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২২৯১।
📄 জান্নাতের ফলের বর্ণনা
[৫৮] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতের জমিন হবে রূপার। মাটি হবে মিশকের; গাছসমূহের শিকড়গুলো হবে স্বর্ণের; পাতা-পল্লবগুলো হবে ইয়াকুত ও মণি-মুক্তার। তার ফলগুলো হবে অনেক মিষ্টি। জান্নাতীরা দাঁড়িয়ে, বসে যেভাবে ইচ্ছে ফল খেতে পারবে। যে দাঁড়িয়ে খেতে চাইবে, তারও কোনো কষ্ট হবে না। আর যে বসে খেতে চাইবে, তারও কোন কষ্ট হবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে।
[৫৯] আল্লাহ তাআলার বাণী: قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে। বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—জান্নাতীদের কেউ কেউ জান্নাতের ফলকে ঘুমন্ত অবস্থায়ও ধরবে।
টিকাঃ
[*] সুরা আল-ইনসান: ১৪।
[*] সুরা আল-হাক্ক: ২৩।
[**] আয যুহদ, হান্নাদ: ১১।
📄 তুবা বৃক্ষের বর্ণনা
[৬০] আলি ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে তুবা নামক একটি বৃক্ষ রয়েছে, সে বৃক্ষ ছায়ায় উৎকৃষ্ট অশ্বের একজন আরোহী একশ বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। [তবু তার ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না] তার পাতা ও অপক্ক খেজুর সবুজ বর্ণের প্রশমিত। তার পুষ্প মসৃণ ও হলুদ বর্ণের। তার ঘণ শাখা পল্লব বিশিষ্ট হবে চিকন ও মোটা [সবুজ] রেশমের। আর তার ফল হবে রেশমী জোড়া। তার আঠা হবে মধু ও যানজাবিল। তার সমতল ভূমি লাল ইয়াকুত পাথরের ও সবুজ মণি-মুক্তার এবং তার মাটি সুগন্ধযুক্ত মিশক এ আম্বরের। তার কপূর হলুদ বর্ণের।
📄 তুবা বৃক্ষ
[৬১] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, জান্নাতে তুবা নামক একটি বৃক্ষ রয়েছে, আল্লাহ তাআলা সে বৃক্ষটিকে বলবেন-আজ আমার বান্দার জন্য বিদীর্ণ হয়ে তার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করো। সেই গাছটি বিদীর্ণ হয়ে একটি ঘোড়া তার লাগাম ও জিনসহ বের করে দিবে এবং তার দেহ-কাঠামো তার ইচ্ছানুযায়ী হবে। সে বৃক্ষটি আরো একটি উষ্ট্রী তার জিন ও লাগামসহ বের করে দিবে এবং তার দেহ-কাঠামো হবে তার ইচ্ছানুযায়ী। পোষাকও হবে তা থেকেই। জান্নাতী ব্যক্তি এগুলো দেখে অবাক হয়ে যাবে।
[৬২] মুগিস ইবনু সুমাই রাহিমাহুল্লাহু বলেন-'তুবা' হলো জান্নাতের একটি বৃক্ষ। তার ছায়া হবে অনেক দীর্ঘ। অভিজ্ঞ আরোহী ব্যক্তি পাঁচ বছর অথবা দু'বছর পর্যন্ত ও যদি উটের উপর আরোহন করে ঘুরতে থাকে; তবুও সে বৃক্ষটির ছায়া চলে শেষ করতে পারবে না। এমনকি চলতে চলতে বয়োবৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তার ছায়ায় শেষ অবদি পৌঁছতে পারবে না। জান্নাতের প্রতিটি বালাখানায় তুবা বৃক্ষের ডাল ঝুলে থাকবে। যখন জান্নাতীরা ফল খাওয়ার ইচ্ছা করবে, সে ডালগুলো আরো ঝুলে তাদের সামনে চলে আসবে। পাখি উড়ে গেলে যখন তাদের খেতে ইচ্ছে হবে, তখন তা টুকরো টুকরো গোশতের ভূনা হয়ে সামনে এসে যাবে। জান্নাতীরা তাদের ইচ্ছামত আহার করতে পারবে।
[৬৩] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, 'তুবা' হলো জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম। এ বৃক্ষ থেকেই জান্নাতীদের জন্য রঙ বে-রঙের পোষাক তৈরী করা হবে।
[৬৪] হুমাইদ ইবনু হিলাল রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে খেজুর বৃক্ষের কাণ্ড হবে ইয়াকুতের (নীল কান্তমণীর)। তার তৃণাচ্ছাদিত ভূমি হবে স্বর্ণের। তার ফল বরফ অপেক্ষা অধিকতর শুভ্র হবে, মাখন অপেক্ষা অধিকতর নরম হবে। মধু অপেক্ষা অধিকতর মিষ্ট হবে। সেই গাছ থেকেও জান্নাতীদের জন্য পোষাক তৈরী করা হবে।
টিকাঃ
[৬১] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৬৫।
[৬২] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৬৮।
[৬৩] আত তাফসির, মুজাহিদ:১/৩২৮, সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৪১০।
[৬৪] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২২৮।