📄 জান্নাতের বৃক্ষ
[৪৬] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ في الجنة شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلُّهَا سبعون سَنَةً. জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী সত্তর বছর পর্যন্ত চলবে। (এরপরেও তা অতিক্রম করতে পারবে না।)
[৪৭] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ রয়েছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলবে। (তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না) সে গাছটির নাম হল ‘শাজারাতুল খুলদ’ (চিরস্থায়ী গাছ)।
[৪৮] আবু সাইদ আল খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতের মাঝে এমন একটি গাছ রয়েছে, যা দ্রুতগামী শক্তিশালী অশ্বারোহী একশ বছর পর্যন্ত চলার পরও তা সে অতিক্রম করতে পারবে না।
[৪৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। আর তোমরা চাইলে নিম্মোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করতে পারো: وَظِلَّ مَمْدُودٍ এবং সম্প্রসারিত ছায়া। এ বর্ণনাটি কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, তিনি সত্য বলেছেন। শপথ ঐ সত্তার, যিনি মুসা আলাইহিস সালামের ভাষায় তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন। একজন আরোহী দু'বছরের উটের উপর আরোহন করে ঐ গাছের শিকড়ের পাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে করে বয়োবৃদ্ধ হয়ে যাবে, তবুও তার শেষ প্রান্তে পৌঁছতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে সেই গাছটি রোপণ করেছেন এবং তিনি তাতে ফুঁক দিয়েছেন। আর তার ঘন শাখা-পাতা-পল্লবগুলো জান্নাতের প্রাচীরের নেপথ্য। জান্নাতের নহরগুলো ঐ গাছের তলদেশ দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে।
[৫০] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَظِلَّ مَمْدُودٍ এবং সম্প্রসারিত ছায়া। উপরোক্ত আয়াতের তাফসিরে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- সম্প্রসারিত ছায়াদানকারী বৃক্ষটি জান্নাতের একটি কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার পরিমাপ হল, সে বৃক্ষটির ছায়ার চারপাশে একজন পরিশ্রমী আরোহী শত বছর পর্যন্ত চললেও সে পথ পথ কখনো শেষ হবে না। জান্নাতীরা এসব গাছের নিচে বসে বসে নিলুয়া বাতাস গ্রহণ করতে থাকবে।
[৫১] সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতের মাঝে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর ভ্রমণ করেও তা শেষ করতে পারবে না।
টিকাঃ
[**] আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫২৩; সহিহ, মুসলিম: ৪/২১৭৫।
[**] আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বাল: ২/৪০৪।
[*] সহিহ মুসলিম: ৭০৩১।
[*] সুরা ওয়াকিয়া: ৩০।
[°] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৬৭।
[*] সুরা ওয়াকিয়া: ৩০।
[*] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৪৪০১।
[*] সহিহ মুসলিম: ৭০৩০।
📄 মনোমুগ্ধকর আওয়াজ
[৫২] আবদাহ ইবনু আবি লুবাবা রাহিমাহুল্লাহ বলেন—জান্নাতে একটি বৃক্ষ আছে, যার ফল হবে নীল ও পদ্মরাগমণি, যমরূদ ও মণিমুক্তার। অতঃপর আল্লাহ তাআলা একটি বাতাস প্রেরণ করবেন, তাতে এক ধরণের আওয়াজ সৃষ্টি হবে। সে আওয়াজ এতই মুগ্ধকর ও শ্রুতিমধুর হবে, যা ইতিপূর্বে কেউ কখনো কোনোদিন শোনেনি।
[৫৩] আব্দুল্লাহ ইবনু আবি হুযাইল রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে শাম অথবা আম্মানে ছিলাম। আমরা পরস্পর জান্নাতের আলোচনা করলে তিনি বললেন, জান্নাতের আঙ্গুর অথবা অন্যান্য ফলের একটি গুচ্ছ হবে মদিনা থেকে সানআ (একটি জায়গার নাম) পর্যন্ত।
টিকাঃ
[**] আদ দুররুল মানসুর, সুয়ূতী: ৬/১৫৭।
📄 জান্নাতের গাছগুলো হবে স্বর্ণের
[৫৪] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতের প্রতিটি গাছের কাণ্ডই স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত।
[৫৫] আবু উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতের খেজুর বৃক্ষগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকবে। জান্নাতের বাগানের ফলগুলো বড় বড় মটকার ন্যায় হবে। বাগানের তলদেশ দিয়ে নহর বয়ে যাবে। সে বৃক্ষের একটি গুচ্ছর পরিমাণ হবে দশ গজ লম্বা।
টিকাঃ
[*] আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫২৫।
📄 জান্নাতে খেজুর বৃক্ষ
[৫৬] আতা ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে একটি স্বর্ণের খেজুর বৃক্ষ রয়েছে, তার কাণ্ডগুলো হবে স্বর্ণের। কাঁচা খেজুরের ছড়া ও তার কাঁদিগুলো শুকনো ও স্বর্ণের হবে। ফলগুলো বড় মটকার ন্যায় হবে; রং হবে দুধ ও রূপার চেয়েও অধিক শুভ্র। তার ঘ্রাণ মিশকের সুঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত হবে। তার স্বাদ চিনির চেয়েও মিষ্ট এবং মাখন ও ঘির চেয়েও অধিকতর নরম হবে।
[৫৭] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—জান্নাতে খেজুর বৃক্ষের কাণ্ডগুলো হবে সবুজ মণি-মুক্তার, তার কাঁদি হবে লাল স্বর্ণের। তার ফল হবে বড় মটকা অথবা বড় বালতির ন্যায়। তার ফলগুলো দুধের চেয়েও অধিক শুভ্র হবে; মধুর চেয়েও হবে অধিক মিষ্ট। মাখনের চেয়েও হবে অধিক নরম। তাতে কোন আটি থাকবে না।
টিকাঃ
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২২৯১।