📄 জান্নাতীদের সেবক
[২৮] আব্দুর রহমান আল-হাবালি রাহিমাহুল্লাহু বলেন—বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করার সময় প্রথমেই সত্তর হাজার সেবকের সাথে সাক্ষাত হবে, তারা সবাই মণিমুক্তার ন্যায় উজ্জল হবে।
[২৯] আব্দুর রহমান আল মাআফিরী রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতবাসীদের থেকে একজনের জন্য সেবকদের দু'টি সারি থাকবে; উভয় সারির পার্শ্বদেশ দেখা যাবে না। একজন সেবক চলতে থাকলে তার পিছনে আরো অনেক সেবক চলতে থাকবে।৩২
[৩০] দাহহাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন-মুমিন বান্দা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন একজন ফেরেশতা তার সম্মুখভাগে থাকবে। সে তার অনুসরণ করে জান্নাতের অলি-গলি পথগুলো দেখতে থাকবে। সে বলবে, তুমি যে সব জিনিস দেখছো তা কি লক্ষ্য করছো? সে বলবে, আমি স্বর্ণ-রুপার অনেক প্রাসাদসমূহ দেখছি এবং অন্তরঙ্গ অনেক জিনিসসমূহ দেখছি। ফেরেশতা তাকে বলবে, এই সবগুলোই তোমার। যখন এসবগুলো তাকে প্রদান করা হবে; তখন জান্নাতের শাহী মহলের প্রতিটি দরজা থেকে হুর রমণীরা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে থাকবে আর বলতে থাকবে, আমরা তোমার জন্য, আমরা তোমার জন্য। তুমি আমাদের জন্য।
টিকাঃ
[*] আয-যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪২৭১।
এ হাদিসের উদ্দেশ্য অপর একটি হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়। আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-মুমিন বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা একটি সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আর তার নিকট সেবকদের দু'টি সারি থাকবে। উভয় সারির প্রান্তে দু'টি বিন্যস্ত দরজা থাকবে। আল্লাহর ফেরেশতাগণ থেকে একজন ফেরেশতা দরজার নিকটতম সেবকের নিকট সাক্ষাত করার জন্য অনুমতি চাইবে। মুমিন বান্দা বলবে, তোমরা তাকে আসতে দরজা খুলে দাও। অনুমতি পেয়ে ফেরেশতা প্রবেশ করে জান্নাতীকে বিনীত সুরে সালাম দিয়ে কথাবার্তা বলে ফিরে আসবে। [আয-যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২/৬৮]-অনুবাদক।
📄 জান্নাতের উপাদানসমূহ
[৩১] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَرْضُ الْجَنَّةِ بَيْضَاءُ عُرْصَتُهَا صُخُورُ الْكَافُورِ وَقَدْ أَحَاطَ بِهِ الْمِسْكُ مِثْلَ كُثْبَانِ الرَّمْلِ فِيهَا أَنْهَارُ مُطَرِدَةٌ فيজتمع فِيهَا أَهْلُ الْجَنَّةِ أَدْنَاهُمْ وَآخِرُهُمْ فَيَتَعَارَفُونَ فَيَبْعَثُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بريح الرَّحْمَةِ فَتُهِيجُ عَلَيْهِمْ رِيحَ ذَلِكَ الْمِسْكِ فَيَرْجِعُ الرَّجُلُ إِلَى زَوْجَتِهِ وَقَدِ ازْدَادুর طِيبًا وَحُسْنًا فَتَقُولُ لَهُ قَدْ خَرَجْتَ مِنْ عِنْدِي وأনা بك معجبة وأن بِكَ الْآنَ أَشَدُّ عُجْبًا.
জান্নাতের মাটি হবে শুভ্র। তার আঙ্গিনা হবে কাপূরের। আঙ্গিনাকে মিশকের ঘ্রাণের মাধ্যমে সুগন্ধিময় করে রাখা হবে। যেমন বালুর স্তুপ কোথাও জমা করে রাখা হয়। তাতে থাকবে প্রবাহিত নহরসমূহ। সেখানে তাদের মধ্যকার সবচে' নিম্নস্তর জান্নাতী ও (জান্নাতে প্রবেশকারী) শেষ ব্যক্তি সকলেই একত্রিত হবে। তারা একজন অপরজনকে চিনতে পারবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের কাছে রহমতের নিলুয়া বাতাস প্রেরণ করবেন। (এ অবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর একখন্ড মেঘ এসে তাদেরকে ছেয়ে ফেলবে এবং) তা থেকে তাদের উপর সুগন্ধিযুক্ত মৃগনাভির ন্যায় সুঘ্রাণরে বৃষ্টি- বাতাস বর্ষিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই আকর্ষণীয় রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করবে। স্ত্রী তাকে বলবে, তুমি আমার নিকট থেকে যাওয়ার সময়ও তোমার প্রতি আমার গভীর ভালবাসা ছিল আর এখন তোমার প্রতি আমার গভীর ভালবাসা আরো মজবুত হয়েছে।
টিকাঃ
[*] হাদিউল আরওয়াহ: ১০৫। এ হাদিসের বিষয় বস্তু আরো স্পষ্টত বর্ণিত হয়েছে আস সুনান ইবনু মাজাহ: ৪৩৩৬।
📄 সকালের নরম বাতাসের উৎস
[৩২] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আল্লাহ তাআলা 'জান্নাতু আদন'-কে নিজ হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কোনো একদিন তিনি তাতে দৃষ্টি দিবেন এবং বলবেন, قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গিয়েছে।৩৪
অতঃপর জান্নাতু আদন-কে তালাবদ্ধ করে দেয়া হবে; আল্লাহ তাআলা যাকে চান, সে ব্যতীত অন্য কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারবে না। জান্নাতু আদন প্রতিদিন সকাল বেলায় খোলা হয়। আর দুনিয়াতে আমরা ভোরের যে বাতাস এবং মিষ্টান্নতা দেখতে পাই, তা সেই জান্নাত থেকে আসে।
টিকাঃ
[*] সুরা আল মুমিনুন: ১।
📄 জান্নাতু আদনের স্থান
[৩৩] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতে আদনের স্থান হল-অন্যান্য জান্নাতের একেবারে গভীরে। নিঝুম নীরব কোনো এক জায়গাতে।
টিকাঃ
[*] আদ দুররুল মানসুর, ইমাম সুয়ূতী: ৫/২।