📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতু আদন: যেখানে আছে সর্বসুখ

📄 জান্নাতু আদন: যেখানে আছে সর্বসুখ


[২৫] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আল্লাহ তাআলা 'জান্নাতে আদন'কে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। (তার নির্মাণ) একটি শুভ্র মণি-মুক্তার ইট; অপর একটি ইট রক্তিম বর্ণের ইয়াকুত পাথরের। অপর একটি ইট সবুজ বর্ণের যমরূদ পাথরের। এর গাঁথুনির উপকরণ হল-সুগন্ধিযুক্ত মৃগনাভী। তার ঘাস হবে জাফরানের; কঙ্করসমূহ হবে মণিমুক্তার; মাটি হবে আম্বরের। কিয়ামতের দিন মহান রাব্বে কারিম 'জান্নাতু আদন'কে বলবেন-তুমি কথা বলো। তখন সে বলবে, قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে। ২৭
অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন-আমার বড়ত্ব ও মহত্বের শপথ! কোন কৃপণ আমাকে অতিক্রম করা ছাড়া তোমার কাছে যেতে পারবে না। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। ২৯

টিকাঃ
[২৭] সুরা মুমিনীন: ১।
[২৮] সুরা হাশর: ৯।
[২৯] আল মুসতাদরাক, হাকিম: ২/৩৯২।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ‘জান্নাতু আদন’ নাম রাখার কারণ

📄 ‘জান্নাতু আদন’ নাম রাখার কারণ


[২৬] হাসান আল বসরি রাহিমাহুল্লাহু বলেন—'জান্নাতু আদন'-কে 'আদন' নামে নামকরণ করা হয়েছে এজন্য যে, আল্লাহর আরশ এই জান্নাতের উপরে রয়েছে। এখান থেকেই জান্নাতের নহরগুলো প্রবাহিত হবে। 'জান্নাতু আদন'-এর নিয়ামাহ এবং সেখানের হুরদের সৌন্দর্যতা অন্যান্য সকল হুরদের উপরে থাকবে।
[২৭] হুমাইদ ইবনু হিলাল রাহিমাহুল্লাহু বলেন—লোকেরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে শুভ্র এবং ভিআইপি পোষাক পরিধান করানো হবে এবং অলঙ্কারে সজ্জিত করা হবে। অতঃপর তাকে তার [হুর] স্ত্রীগণ ও সেবকদেরকে দেখানো হবে। জান্নাতের এসব নিয়ামাহ দেখে জান্নাতী ব্যক্তি অনেক আনন্দিত হবে। এত আনন্দ হবে যে, আনন্দের অতিশয্যে যদি মৃত্যুবরণ সম্ভব হত, তবে মৃত্যুবরণই করত। তাকে বলা হবে, তুমি যেসব নিয়ামাহ এবং সুখ তোমার সামনে দেখতে পাচ্ছো, এগুলো সারাজীবন তোমার কাছে থাকবে, এগুলো কখনো নিঃশ্বেস হবে না।

টিকাঃ
[°] নোট: ব্যাখ্যাকারীগণ বলেছেন-'আদন' হল জান্নাতের ভিতর বা মাঝের অংশকে বলা হয়। কেউ কেউ বলেছেন-'আদন' শব্দের অর্থ হল বসবাস করা অর্থাৎ যে জান্নাতে তারা বসবাস করবে, তাদের যে বাসস্থান হবে তাকে আদন বলা হয়। আত তাফসির, মাতুরিদী: ৬/৩৩৩।-অনুবাদক।
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪২৯।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের সেবক

📄 জান্নাতীদের সেবক


[২৮] আব্দুর রহমান আল-হাবালি রাহিমাহুল্লাহু বলেন—বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করার সময় প্রথমেই সত্তর হাজার সেবকের সাথে সাক্ষাত হবে, তারা সবাই মণিমুক্তার ন্যায় উজ্জল হবে।
[২৯] আব্দুর রহমান আল মাআফিরী রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতবাসীদের থেকে একজনের জন্য সেবকদের দু'টি সারি থাকবে; উভয় সারির পার্শ্বদেশ দেখা যাবে না। একজন সেবক চলতে থাকলে তার পিছনে আরো অনেক সেবক চলতে থাকবে।৩২
[৩০] দাহহাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন-মুমিন বান্দা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন একজন ফেরেশতা তার সম্মুখভাগে থাকবে। সে তার অনুসরণ করে জান্নাতের অলি-গলি পথগুলো দেখতে থাকবে। সে বলবে, তুমি যে সব জিনিস দেখছো তা কি লক্ষ্য করছো? সে বলবে, আমি স্বর্ণ-রুপার অনেক প্রাসাদসমূহ দেখছি এবং অন্তরঙ্গ অনেক জিনিসসমূহ দেখছি। ফেরেশতা তাকে বলবে, এই সবগুলোই তোমার। যখন এসবগুলো তাকে প্রদান করা হবে; তখন জান্নাতের শাহী মহলের প্রতিটি দরজা থেকে হুর রমণীরা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে থাকবে আর বলতে থাকবে, আমরা তোমার জন্য, আমরা তোমার জন্য। তুমি আমাদের জন্য।

টিকাঃ
[*] আয-যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪২৭১।
এ হাদিসের উদ্দেশ্য অপর একটি হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়। আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-মুমিন বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা একটি সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আর তার নিকট সেবকদের দু'টি সারি থাকবে। উভয় সারির প্রান্তে দু'টি বিন্যস্ত দরজা থাকবে। আল্লাহর ফেরেশতাগণ থেকে একজন ফেরেশতা দরজার নিকটতম সেবকের নিকট সাক্ষাত করার জন্য অনুমতি চাইবে। মুমিন বান্দা বলবে, তোমরা তাকে আসতে দরজা খুলে দাও। অনুমতি পেয়ে ফেরেশতা প্রবেশ করে জান্নাতীকে বিনীত সুরে সালাম দিয়ে কথাবার্তা বলে ফিরে আসবে। [আয-যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২/৬৮]-অনুবাদক।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের উপাদানসমূহ

📄 জান্নাতের উপাদানসমূহ


[৩১] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَرْضُ الْجَنَّةِ بَيْضَاءُ عُرْصَتُهَا صُخُورُ الْكَافُورِ وَقَدْ أَحَاطَ بِهِ الْمِسْكُ مِثْلَ كُثْبَانِ الرَّمْلِ فِيهَا أَنْهَارُ مُطَرِدَةٌ فيজتمع فِيهَا أَهْلُ الْجَنَّةِ أَدْنَاهُمْ وَآخِرُهُمْ فَيَتَعَارَفُونَ فَيَبْعَثُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بريح الرَّحْمَةِ فَتُهِيجُ عَلَيْهِمْ رِيحَ ذَلِكَ الْمِسْكِ فَيَرْجِعُ الرَّجُلُ إِلَى زَوْجَتِهِ وَقَدِ ازْدَادুর طِيبًا وَحُسْنًا فَتَقُولُ لَهُ قَدْ خَرَجْتَ مِنْ عِنْدِي وأনা بك معجبة وأن بِكَ الْآنَ أَشَدُّ عُجْبًا.
জান্নাতের মাটি হবে শুভ্র। তার আঙ্গিনা হবে কাপূরের। আঙ্গিনাকে মিশকের ঘ্রাণের মাধ্যমে সুগন্ধিময় করে রাখা হবে। যেমন বালুর স্তুপ কোথাও জমা করে রাখা হয়। তাতে থাকবে প্রবাহিত নহরসমূহ। সেখানে তাদের মধ্যকার সবচে' নিম্নস্তর জান্নাতী ও (জান্নাতে প্রবেশকারী) শেষ ব্যক্তি সকলেই একত্রিত হবে। তারা একজন অপরজনকে চিনতে পারবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের কাছে রহমতের নিলুয়া বাতাস প্রেরণ করবেন। (এ অবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর একখন্ড মেঘ এসে তাদেরকে ছেয়ে ফেলবে এবং) তা থেকে তাদের উপর সুগন্ধিযুক্ত মৃগনাভির ন্যায় সুঘ্রাণরে বৃষ্টি- বাতাস বর্ষিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই আকর্ষণীয় রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করবে। স্ত্রী তাকে বলবে, তুমি আমার নিকট থেকে যাওয়ার সময়ও তোমার প্রতি আমার গভীর ভালবাসা ছিল আর এখন তোমার প্রতি আমার গভীর ভালবাসা আরো মজবুত হয়েছে।

টিকাঃ
[*] হাদিউল আরওয়াহ: ১০৫। এ হাদিসের বিষয় বস্তু আরো স্পষ্টত বর্ণিত হয়েছে আস সুনান ইবনু মাজাহ: ৪৩৩৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px