📄 জান্নাতীদের বিবরণ
[১৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-সর্বপ্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমন্ডল হবে পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জল। অতঃপর যে দলটি তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমন্ডল আকাশের সর্বাধিক সুন্দরতম দীপ্তিমান উজ্জল তারকার ন্যায় হবে।
[২০] মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা গর্ব প্রকাশ করে বলল-জান্নাতে পুরুষ অধিক হবে, না মহিলা? এ কথা শ্রবণে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বলেননি, যে দলটি জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করবে তাদের মুখাবয়ব পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে উর্দ্ধাকাশের আলোকিত নক্ষত্রের মতো। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দু'জন সহধর্মিণী। গোশতের এ পাশ হতে তাদের পায়ের নলার মগজ দৃশ্য হবে। জান্নাতের মাঝে কেউ (আর) অবিবাহিত থাকবে না।
[২১] আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কম বয়সী হোক বা বেশী বয়সী যে মৃত্যুবরণ করে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদেরকে জান্নাতে তেত্রিশ বছর যৌবনতার দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, কখনো এর চেয়ে বেশী (বয়স) আর বৃদ্ধি পাবে না; ঠিক জাহান্নামীদের (বয়স)ও অনুরূপ হবে।
টিকাঃ
[*] সহিহ, মুসলিম: ৪/২১৭৫; আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৩৫।
[৩] সহিহ, মুসলিম: ৭০৩৯।
[*] আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৬২; আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪২২।
📄 জান্নাতের স্তর
[২২] উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতে একশ'টি স্তর রয়েছে। প্রতি দু'স্তরের মাঝখানে একশত বছরের ব্যবধান রয়েছে। আর ফেরদাউস হচ্ছে সবচেয়ে উঁচু স্তরের জান্নাত। সেখান থেকে জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হয়েছে। আর এর উপরই আল্লাহ তাআলার আরশ স্থাপিত। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা সময় জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রার্থনা করবে।
[২৩] ফুযাইল ইবনু ইয়ায রাহিমাহুল্লাহু বলেন, তোমরা কি জানো, জান্নাতকে কেন সুসজ্জিত ও সুন্দরতম করা হয়েছে? কেননা তার ছাদের উপর সকল সৃষ্টি জগতের রবের আরশ।
[২৪] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতবাসীগণ যখন জান্নাতে বসবাস করবে, রবের আরশের নূরে তাদের বাসস্থানের ছাদ ঝলমল করবে। জান্নাতীদের নুর চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে থাকবে।
টিকাঃ
[*] আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৩১; আস সুনান, ইবনু মাজাহ: ৪৩৩১।