📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের রূপ-লাবণ্য

📄 জান্নাতীদের রূপ-লাবণ্য


[১৫] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-শপথ ঐ সত্ত্বার যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন! তাঁর শপথ করে বলছি, জান্নাতবাসীদের রূপ-লাবণ্য কোনোদিন কমবে না। জান্নাতবাসীদের রূপ-লাবণ্য বৃদ্ধি পেতে থাকবে। দুনিয়াতে (মানুষদের) যেভাবে কদর্যতা ও বার্ধক্যতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

টিকাঃ
["] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ২৬৪। এ হাদিসের উদ্দেশ্য অপর একটি হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যেটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে একটি বাজার হবে, যেখানে জান্নাত অধিবাসীগণ প্রত্যেক শুক্রবারে একত্রিত হবে। তখন উত্তর দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হবে, যা তাদের চেহারা ও কাপড়ে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেবে। ফলে তাদের শোভা-সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে। অতঃপর তারা রূপ-সৌন্দর্যের বৃদ্ধি নিয়ে তাদের স্ত্রীগণের কাছে ফিরবে। তখন তারা তাদেরকে দেখে বলবে, 'আল্লাহর কসম! আপনাদের রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে!' তারাও বলে উঠবে-আল্লাহর শপথ, আমাদের যাবার পর তোমাদেরও রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে। [সহিহ মুসলিম: ২৮৩৩।-অনুবাদক।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য

📄 জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য


[১৬] সাবিত আল-বুনানী রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন, জান্নাতবাসীদেরকে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেয়া হবে, যদি এসব বৈশিষ্ট্য দেয়া না হত; তবে তারা জান্নাত থেকে উপকৃত হতে পারত না। সেসব বৈশিষ্ট্য হলো-তারা সেখানে চির যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। পরিতৃপ্ত থাকবে, কখনো ক্ষুধার্ত হবে না। কাপড় পরিহিত থাকবে কখনো বিবস্ত্র হবে না। সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। আল্লাহ তাআলা তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকবে না; পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষও থাকবে না। তাদের সকলের অন্তর এক অন্তরের ন্যায় হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে থাকবে।
[১৭] মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلاثِينَ سَنَةٌ জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের শরীরে লোম থাকবে না, দাড়ি-গোঁফও থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক।
[১৮] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে দাড়ি-গোঁফহীন ও শরীরে লোমহীন, দাগবিহীন উজ্জল্যময়, কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট এবং চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক। আদম আলাইহিস সালামের ন্যায় দৈর্ঘ্য হবে। আর তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট গজ প্রন্থে সাত গজ।

টিকাঃ
[২০] আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৪৫।
[*] হাসান। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৪৫। আবু ঈসা বলেন, এই হাদিসটি হাসান গরীব। উক্ত হাদিসটি কাতাদার কোন কোন শিষ্য তার সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন, মুসনাদরূপে বর্ণনা করেননি।
[২১] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ২৫৫। সহিহ হাদিসে এসেছে-আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তার দৈর্ঘ্য হলো ষাট হাত। সৃষ্টির পর তিনি তাকে বললেন, যাও এদেরকে সালাম করো। সেখানে একদল ফেরেশতারা বসা ছিলেন। সালামের জবাবে তারা কি বলে তা খুব মনোযোগ সহকারে শুনো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন ও বললেন, “আসসালামু আলাইকুম”। জবাবে তারা বললেন, “আসসালামু আলাইকা ওয়ারহমাতুল্লাহ”। তাঁরা ওয়ারহমাতুল্লাহ বাড়িয়ে বলেছেন। অবশেষে তিনি বললেন, যে লোক জান্নাতে যাবে সে আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি বিশিষ্ট হবে। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন তারপর আদম আলাইহিস সালামের পর থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ ক্রমশই খাটো হয়ে আসছে। [সহিহ মুসলিম: ৭০৫৫]

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের বিবরণ

📄 জান্নাতীদের বিবরণ


[১৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-সর্বপ্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমন্ডল হবে পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জল। অতঃপর যে দলটি তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমন্ডল আকাশের সর্বাধিক সুন্দরতম দীপ্তিমান উজ্জল তারকার ন্যায় হবে।
[২০] মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা গর্ব প্রকাশ করে বলল-জান্নাতে পুরুষ অধিক হবে, না মহিলা? এ কথা শ্রবণে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বলেননি, যে দলটি জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করবে তাদের মুখাবয়ব পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে উর্দ্ধাকাশের আলোকিত নক্ষত্রের মতো। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দু'জন সহধর্মিণী। গোশতের এ পাশ হতে তাদের পায়ের নলার মগজ দৃশ্য হবে। জান্নাতের মাঝে কেউ (আর) অবিবাহিত থাকবে না।
[২১] আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কম বয়সী হোক বা বেশী বয়সী যে মৃত্যুবরণ করে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদেরকে জান্নাতে তেত্রিশ বছর যৌবনতার দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, কখনো এর চেয়ে বেশী (বয়স) আর বৃদ্ধি পাবে না; ঠিক জাহান্নামীদের (বয়স)ও অনুরূপ হবে।

টিকাঃ
[*] সহিহ, মুসলিম: ৪/২১৭৫; আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৩৫।
[৩] সহিহ, মুসলিম: ৭০৩৯।
[*] আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৬২; আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪২২।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের স্তর

📄 জান্নাতের স্তর


[২২] উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতে একশ'টি স্তর রয়েছে। প্রতি দু'স্তরের মাঝখানে একশত বছরের ব্যবধান রয়েছে। আর ফেরদাউস হচ্ছে সবচেয়ে উঁচু স্তরের জান্নাত। সেখান থেকে জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হয়েছে। আর এর উপরই আল্লাহ তাআলার আরশ স্থাপিত। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা সময় জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রার্থনা করবে।
[২৩] ফুযাইল ইবনু ইয়ায রাহিমাহুল্লাহু বলেন, তোমরা কি জানো, জান্নাতকে কেন সুসজ্জিত ও সুন্দরতম করা হয়েছে? কেননা তার ছাদের উপর সকল সৃষ্টি জগতের রবের আরশ।
[২৪] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতবাসীগণ যখন জান্নাতে বসবাস করবে, রবের আরশের নূরে তাদের বাসস্থানের ছাদ ঝলমল করবে। জান্নাতীদের নুর চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে থাকবে।

টিকাঃ
[*] আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৩১; আস সুনান, ইবনু মাজাহ: ৪৩৩১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px