📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতে কোনো দুঃখ নেই

📄 জান্নাতে কোনো দুঃখ নেই


[১১] আবু বকর রাহিমাহুল্লাহু জান্নাতীদের ব্যাপারে বলেন-হে জান্নাতের অধিবাসীগণ, তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। পূর্ণ যৌবনের অধিকারী হবে, কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনো কষ্ট অনুভব করবে না। আর এটিই হল আল্লাহর এ বাণীর মর্ম, যেখানে মহান রব বলেছেন, وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تعلمون
এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।

টিকাঃ
["] সুরা আল আরাফ: ৪৩।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতে কোনো কষ্ট নেই

📄 জান্নাতে কোনো কষ্ট নেই


[১২] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যে আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে, জান্নাতে) সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। জান্নাতে অনেক আরামে জীবন-যাপন করবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। পরনের পোষাকও পুরাতন হবে না, যৌবনকালও কখনো শেষ হবে না (সে হবে অনন্তযৌবনা)।
[১৩] ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-যে জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সেখানে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন-যাপন করবে, মৃত্যুবরণ করবে না। সেখানে কোনো দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। না তার পরনের কাপড় ময়লা হবে আর না তার যৌবনকাল শেষ হবে (সে হবে অনন্তযৌবনা)। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতকে কোন বস্তু দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে? জবাবে তিনি বললেন-সোনা-রুপার ইটের গাঁথুনি দিয়ে জান্নাতকে নির্মাণ করা হয়েছে। একটি রুপার ইট, তারপর একটি সোনার ইট, এভাবে গাঁথা হয়েছে। এর গাঁথুনির উপকরণ হল, সুগন্ধিযুক্ত মৃগনাভি এবং কঙ্করসমূহ মণি-মুক্তার আর মাটি হল জাফরানের।
[১৪] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কোন আহ্বানকারী জান্নাতী লোকদেরকে আহ্বান করে বলবে, এখানে সর্বদা তোমরা সুস্থ থাকবে, কক্ষনো অসুস্থ হবে না। তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো তোমরা মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কক্ষনো তোমরা বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কক্ষনো আর তোমরা কষ্ট-ক্লেশে পতিত হবে না। এটাই মহামহিম আল্লাহর বাণী: আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। (সুরা আরাফ: ৪৩) এর ব্যাখ্যা।

টিকাঃ
[] সহিহ মুসলিম: ৪/২১৮১; আস সুনান, তিরমিযি: ২৫২৬।
[*] সহিহ মুসলিম: ৪/৫২৮; আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বাল: ২/২৭০।
[*] সহিহ মুসলিম : ৭০৪৯।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের রূপ-লাবণ্য

📄 জান্নাতীদের রূপ-লাবণ্য


[১৫] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-শপথ ঐ সত্ত্বার যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন! তাঁর শপথ করে বলছি, জান্নাতবাসীদের রূপ-লাবণ্য কোনোদিন কমবে না। জান্নাতবাসীদের রূপ-লাবণ্য বৃদ্ধি পেতে থাকবে। দুনিয়াতে (মানুষদের) যেভাবে কদর্যতা ও বার্ধক্যতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

টিকাঃ
["] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ২৬৪। এ হাদিসের উদ্দেশ্য অপর একটি হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যেটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে একটি বাজার হবে, যেখানে জান্নাত অধিবাসীগণ প্রত্যেক শুক্রবারে একত্রিত হবে। তখন উত্তর দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হবে, যা তাদের চেহারা ও কাপড়ে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেবে। ফলে তাদের শোভা-সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে। অতঃপর তারা রূপ-সৌন্দর্যের বৃদ্ধি নিয়ে তাদের স্ত্রীগণের কাছে ফিরবে। তখন তারা তাদেরকে দেখে বলবে, 'আল্লাহর কসম! আপনাদের রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে!' তারাও বলে উঠবে-আল্লাহর শপথ, আমাদের যাবার পর তোমাদেরও রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে। [সহিহ মুসলিম: ২৮৩৩।-অনুবাদক।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য

📄 জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য


[১৬] সাবিত আল-বুনানী রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন, জান্নাতবাসীদেরকে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেয়া হবে, যদি এসব বৈশিষ্ট্য দেয়া না হত; তবে তারা জান্নাত থেকে উপকৃত হতে পারত না। সেসব বৈশিষ্ট্য হলো-তারা সেখানে চির যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। পরিতৃপ্ত থাকবে, কখনো ক্ষুধার্ত হবে না। কাপড় পরিহিত থাকবে কখনো বিবস্ত্র হবে না। সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। আল্লাহ তাআলা তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকবে না; পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষও থাকবে না। তাদের সকলের অন্তর এক অন্তরের ন্যায় হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে থাকবে।
[১৭] মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلاثِينَ سَنَةٌ জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের শরীরে লোম থাকবে না, দাড়ি-গোঁফও থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক।
[১৮] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে দাড়ি-গোঁফহীন ও শরীরে লোমহীন, দাগবিহীন উজ্জল্যময়, কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট এবং চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক। আদম আলাইহিস সালামের ন্যায় দৈর্ঘ্য হবে। আর তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট গজ প্রন্থে সাত গজ।

টিকাঃ
[২০] আস সুনান, তিরমিযি: ২৫৪৫।
[*] হাসান। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৪৫। আবু ঈসা বলেন, এই হাদিসটি হাসান গরীব। উক্ত হাদিসটি কাতাদার কোন কোন শিষ্য তার সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন, মুসনাদরূপে বর্ণনা করেননি।
[২১] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ২৫৫। সহিহ হাদিসে এসেছে-আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তার দৈর্ঘ্য হলো ষাট হাত। সৃষ্টির পর তিনি তাকে বললেন, যাও এদেরকে সালাম করো। সেখানে একদল ফেরেশতারা বসা ছিলেন। সালামের জবাবে তারা কি বলে তা খুব মনোযোগ সহকারে শুনো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন ও বললেন, “আসসালামু আলাইকুম”। জবাবে তারা বললেন, “আসসালামু আলাইকা ওয়ারহমাতুল্লাহ”। তাঁরা ওয়ারহমাতুল্লাহ বাড়িয়ে বলেছেন। অবশেষে তিনি বললেন, যে লোক জান্নাতে যাবে সে আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি বিশিষ্ট হবে। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন তারপর আদম আলাইহিস সালামের পর থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ ক্রমশই খাটো হয়ে আসছে। [সহিহ মুসলিম: ৭০৫৫]

ফন্ট সাইজ
15px
17px