📄 তোমরা এখানে সুখে থাকো
[১০] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, জান্নাতীদেরকে ডেকে বলা হবে-তোমরা এখানে সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা এখানে অনেক সুখে থাকবে। তোমরা সর্বদা পরিতৃপ্ত থাকবে, কখনো ক্ষুধার্ত হবে না। তোমরা চিরযৌবনা হয়ে বসবাস করবে, কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না। তোমাদের কেশগুচ্ছ কখনো এলোমেলো হবে না; সবসময় সিঁথি করা থাকবে। তোমাদের শরীরের অবকাঠামো সর্বদা সুন্দর থাকবে, কখনো চামড়াগুলোও পরিবর্তন হবে না। তোমরা সারাজীবন সুখে থাকবে, কখনো দুঃখ তোমাদের স্পর্শ করবে না।১৪
টিকাঃ
[*] অন্য বর্ণনায় আছে-আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামাত দিবসে মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকারে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তাঁরা ঘাড় মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবে, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবেন হ্যাঁ, এ হল মৃত্যু। কেননা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে, তখন সম্বোধনকারী বলবে তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা তারা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর (সেটি) যবেহ করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক। তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন (এখানে) থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন- “তাদের সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিবস সম্বন্ধে যখন সকল ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ এখন তারা গাফিল, তারা অসতর্ক দুনিয়াবাসী-অবিশ্বাসী।” (সুরা মারইয়াম: ১৯; মুসলিম ২৮৪৯।)-অনুবাদক।
📄 জান্নাতে কোনো দুঃখ নেই
[১১] আবু বকর রাহিমাহুল্লাহু জান্নাতীদের ব্যাপারে বলেন-হে জান্নাতের অধিবাসীগণ, তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। পূর্ণ যৌবনের অধিকারী হবে, কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনো কষ্ট অনুভব করবে না। আর এটিই হল আল্লাহর এ বাণীর মর্ম, যেখানে মহান রব বলেছেন, وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تعلمون
এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।
টিকাঃ
["] সুরা আল আরাফ: ৪৩।
📄 জান্নাতে কোনো কষ্ট নেই
[১২] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যে আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে, জান্নাতে) সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। জান্নাতে অনেক আরামে জীবন-যাপন করবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। পরনের পোষাকও পুরাতন হবে না, যৌবনকালও কখনো শেষ হবে না (সে হবে অনন্তযৌবনা)।
[১৩] ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-যে জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সেখানে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন-যাপন করবে, মৃত্যুবরণ করবে না। সেখানে কোনো দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। না তার পরনের কাপড় ময়লা হবে আর না তার যৌবনকাল শেষ হবে (সে হবে অনন্তযৌবনা)। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতকে কোন বস্তু দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে? জবাবে তিনি বললেন-সোনা-রুপার ইটের গাঁথুনি দিয়ে জান্নাতকে নির্মাণ করা হয়েছে। একটি রুপার ইট, তারপর একটি সোনার ইট, এভাবে গাঁথা হয়েছে। এর গাঁথুনির উপকরণ হল, সুগন্ধিযুক্ত মৃগনাভি এবং কঙ্করসমূহ মণি-মুক্তার আর মাটি হল জাফরানের।
[১৪] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কোন আহ্বানকারী জান্নাতী লোকদেরকে আহ্বান করে বলবে, এখানে সর্বদা তোমরা সুস্থ থাকবে, কক্ষনো অসুস্থ হবে না। তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো তোমরা মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কক্ষনো তোমরা বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কক্ষনো আর তোমরা কষ্ট-ক্লেশে পতিত হবে না। এটাই মহামহিম আল্লাহর বাণী: আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। (সুরা আরাফ: ৪৩) এর ব্যাখ্যা।
টিকাঃ
[] সহিহ মুসলিম: ৪/২১৮১; আস সুনান, তিরমিযি: ২৫২৬।
[*] সহিহ মুসলিম: ৪/৫২৮; আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বাল: ২/২৭০।
[*] সহিহ মুসলিম : ৭০৪৯।
📄 জান্নাতীদের রূপ-লাবণ্য
[১৫] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-শপথ ঐ সত্ত্বার যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন! তাঁর শপথ করে বলছি, জান্নাতবাসীদের রূপ-লাবণ্য কোনোদিন কমবে না। জান্নাতবাসীদের রূপ-লাবণ্য বৃদ্ধি পেতে থাকবে। দুনিয়াতে (মানুষদের) যেভাবে কদর্যতা ও বার্ধক্যতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
টিকাঃ
["] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ২৬৪। এ হাদিসের উদ্দেশ্য অপর একটি হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যেটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে একটি বাজার হবে, যেখানে জান্নাত অধিবাসীগণ প্রত্যেক শুক্রবারে একত্রিত হবে। তখন উত্তর দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হবে, যা তাদের চেহারা ও কাপড়ে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেবে। ফলে তাদের শোভা-সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে। অতঃপর তারা রূপ-সৌন্দর্যের বৃদ্ধি নিয়ে তাদের স্ত্রীগণের কাছে ফিরবে। তখন তারা তাদেরকে দেখে বলবে, 'আল্লাহর কসম! আপনাদের রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে!' তারাও বলে উঠবে-আল্লাহর শপথ, আমাদের যাবার পর তোমাদেরও রূপ-সৌন্দর্য বেড়ে গেছে। [সহিহ মুসলিম: ২৮৩৩।-অনুবাদক।