📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ওপারের নিয়ামাহ

📄 ওপারের নিয়ামাহ


[৪] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কখনো কল্পনাও করেনি। এ কথাটি অনুরূপ আল-কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে, কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ। (সুরা আস সাজদাহ : ১৭)।

অন্য বর্ণনায় আছে-আবু হুরাইরা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চক্ষু কক্ষনো দেখেনি, কোন কর্ণ কক্ষনো শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ যা কক্ষনো চিন্তাও করেনি। এসব নিয়ামত আমি জমা রেখে দিয়েছি। তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যা অবগত করিয়েছেন তা অবগত হয়েছেন।

টিকাঃ
[*] সহিহ মুসলিম: ৪/২১৭৫; আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বল: ৫/৩৩৪।
[*] সহিহ মুসলিম: ৭০২৪।
[*] সহিহ মুসলিম: ৭০২৫।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 নবিজির বর্ণনায় জান্নাত

📄 নবিজির বর্ণনায় জান্নাত


[৫] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কোন কোন জিনিষের মাধ্যমে জান্নাতকে নির্মাণ করা হয়েছে? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ وَمِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ مَنْ يَدْخُلْهَا يَنْعَمْ لَا يَبْؤُسُ وَيُخَلَّدْ لَا يَمُوتُ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ. (জান্নাতকে স্বর্ণ-রৌপ্যের ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।) একটি রূপার ইট তারপর একটি স্বর্ণের ইট দিয়ে গাঁথা হয়েছে। আর সুগন্ধিযুক্ত মৃগনাভি এবং মণি-মুক্তার কঙ্করসমূহ দ্বারা প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে অত্যন্ত সুখে জীবন-যাপন করবে। কোনো প্রকার দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। সেখানে সে (জান্নাতী) অনন্তকাল বাস করবে; কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। জান্নাতীর পরনের পোষাক কখনো পুরাতন হবে না। তাদের যৌবনকাল কোনো কালেও শেষ হবে না। (সে অনন্তযৌবনা হবে।)'

টিকাঃ
['] আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫২৬; আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বাল: ২/৩০৫।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের প্রাঙ্গণে মাটির বিবরণ

📄 জান্নাতের প্রাঙ্গণে মাটির বিবরণ


[৬] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-জান্নাতের মাটি জাফরান ও ওয়ারসের (এক প্রকার সুগন্ধিযুক্ত ঘাস) হবে।
[৭] জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতের প্রাঙ্গণ সমতল হবে। সজ্জিত হবে দাগবিহীন চাদরের ন্যায়। চারদিক ঝকঝক করতে থাকবে। জান্নাতীরা এমন প্রাঙ্গণ দেখলে মন খুশিতে পাগলপারা হয়ে যাবে।

টিকাঃ
[*] আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫২৬; আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বাল: ২/৩০৫।
[*] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ১৫২।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ওপারেতে সর্বসুখ

📄 ওপারেতে সর্বসুখ


[৮] আল্লাহ তাআলার বাণী: يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا সেদিন দয়াময় রবের কাছে মুত্তাকীনদেরকে অতিথিরূপে সমবেত করব।
আলি ইবনু আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বললাম-ইয়া রাসুলুল্লাহ! তাদের সকলকে কি পায়দল হেঁটে সমবেত করা হবে?
জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তারা কবর থেকে উত্থিত হবে, তাদেরকে শুভ্র উট দিয়ে অভিবাদন জানানো হবে। তাদেরকে শুভ্র উটের উপর আরোহন করিয়ে সমবেত করা হবে। উটের অনেকগুলো ডানা থাকবে। ডানাগুলো হবে স্বর্ণের। সেগুলোর পায়ের নল থেকে আলো ঝলমল করে বিচ্ছুরিত হবে। তার প্রতি কদমের দূরত্ব হবে দৃষ্টিসীমার শেষ পরিধি পর্যন্ত। তাদেরকে জান্নাতের দরজায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে (সিদরাতুল মুনতাহা) তার গোড়া থেকে দুটি ঝর্ণা প্রবাহিত হবে। যখন তারা দুটির একটি থেকে পান করবে তাদের চেহারায় স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা প্রকাশ পাবে। অপরটি থেকে যখন অজু করবে, তখন তাদের কেশগুচ্ছ কখনো এলোমেলো হবে না। অতঃপর তারা দরজা খোলার জন্য কড়া নাড়বে। হে আলি! যদি তুমি কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে! প্রত্যেক হুরের নিকট সংবাদ পৌঁছবে যে, তার স্বামী এসে পড়েছে। (তার সাথে সাক্ষাতের জন্য) দ্রুতপ্রবণতা ও আনন্দ লুকিয়ে রাখবে।
(হুর স্ত্রী) সে তার দায়িত্বে নিয়োজিত খাদিমদেরকে তার স্বামীর জন্য দরজা খুলে দেওয়ার জন্য পাঠাবে। যদি আল্লাহ তাআলা তার সাথে তার পরিচয় না করিয়ে দেন তবে সে অবশ্যই তার আলো ও জ্যোতি দেখে তার সামনেই সিজদায় লুটে পড়বে। সে বলবে, আমি আপনার সেবক। আমাকে আপনার সেবার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে। খাদেম জান্নাতী ব্যক্তিকে হুরের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য চলতে থাকবে। সেও তার পদচিহ্ন অনুসরণ করে তার পিছে পিছে চলতে থাকবে। ঐ দিকে জান্নাতী ব্যক্তি জন্য হুর রমণী পথপানে তাকিয়ে থাকবে। হুর রমণীর কাছাকাছি চলে আসলে সে তাঁবু থেকে বের হবে এবং তাকে ধরে আলিঙ্গন করবে আর বলতে থাকবে,
তুমি আমার ভালবাসা, তুমি আমার প্রেম। তুমি আমার মনের মানুষ। আমি তোমার ভালবাসা। আমি চির সন্তুষ্ট; আমি কখনো অসন্তুষ্ট হব না। আমি তো তোমার আনন্দ-উল্লাসের জন্যই; আমার আর দুঃখ-কষ্ট নেই। আমি চিরদিনের জন্য, আমার আমার প্রস্থান নেই।
অতঃপর একটি ঘরে প্রবেশ করবে যার ভিত্তি থেকে ছাদ পর্যন্ত এক লক্ষ গজ দূরত্ব হবে। এবং তার নির্মাণ মণি-মুক্তার পাথর দ্বারা হবে। তার রাস্তা হবে (তিন বর্ণের) রক্তিম বর্ণের, সবুজ শ্যামল ও স্বর্ণ বা হলদে বর্ণের। সেখানকার রাস্তাগুলো একটি অপরটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ থাকবে না।
জান্নাতী ব্যক্তি বিছানার নিকট আসবে, তাতে শয্যার উপর শয্যা থাকবে। এভাবে সত্তরটি শয্যা থাকবে এবং সত্তরজন হুরও থাকবে। প্রত্যেক স্ত্রীর পরনে সত্তর জোড়া কাপড় থাকবে; জোড়া কাপড়সমূহের ভিতর দিয়েও উভয় পায়ের নলার মগজ দেখা যাবে।
জান্নাতী ব্যক্তি হুর রমণীর সাথে রোমান্স করতে থাকবে। তাদের তলদেশ দিয়ে দূর্গন্ধহীন পঙ্কিলতামুক্ত স্বচ্ছ নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। তাতে রয়েছে পরিশোধিত মধুর নহরসমূহ, যা মধুমক্ষিকার পেট থেকে নির্গত নয়। সেখানে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহরসমূহও রয়েছে, যা মানুষদের পা দিয়ে নিংড়িত নয়। তাতে আরো থাকবে নির্মল দুধের নহর; যার স্বাদ অপরিবর্তনীয় যা গৃহপালিত পশুর পেট থেকে নিষ্কাশিত নয়। বরং সবগুলো জান্নাত থেকে সৃষ্টি করা হবে।
যখন জান্নাতীদের খাবারের ইচ্ছা জাগবে, তখন একটি সাদা পাখি উড়ে চলে আসবে, তারা তার যে পার্শ্বসমূহ থেকে যত ইচ্ছা আহার করবে। অতঃপর সেটি যখন উড়ে যেয়ে আবার আসবে, তখন তাদের কাছে বিভিন্ন রকম ফলমূলসমূহ থাকবে। জান্নাতীরা যখন কোনো ফল আহার করার ইচ্ছা করবে, তখন ফলগুলো হাতের মুঠোয় এসে যাবে। তারা সেখান থেকে মনঃপুতভাবে— (শুয়ে, বসে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই) সেই ফলগুলোকে আহার করতে পারবে। এটাই হলো রাব্বে কারিমের ওয়াদার প্রমাণ:
وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ
উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে।১০
সুরক্ষিত মোতিসাদৃশ সেবকগণ তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে। এইসব সেবকগণ জান্নাতীদের বিভিন্ন খিদমতে লিপ্ত থাকবে। এইসব সুখগুলোর মাধ্যমে জান্নাতীরা এপারে দুঃখগুলো ভুলে যাবে।

টিকাঃ
[১০] সূরা আর রহমান: ৫৪।
[১১] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ২৮০-২৮১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px