📘 ওপারের সুখগুলো 📄 আছে কি কোনো জান্নাতের পাগল ব্যক্তি?

📄 আছে কি কোনো জান্নাতের পাগল ব্যক্তি?


[১] উসামা ইবনু যাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাতের আলোচনায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন, ألا مُشَمَّرُ إِلَيْهَا هِيَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ رَيْحَانَةٌ تَهْتَزُّ وَنَهَرُ مُطَرِدُ وَزَوْجَةٌ لَا تَمُوتُ فِي حُبُورٍ وَنَعِيمٍ فِي মَقَامٍ أَبَدًا. জান্নাতের জন্য কোমর বেঁধে কর্ম সম্পাদনকারী কেউ কি আছে? জান্নাত এবং কাবার রবের শপথ করে বলছি! জান্নাতের পুষ্পরাজি সুঘ্রাণ ছড়াবে। সেখানে থাকবে বহমান স্রোতস্বিনী, পরমা (রূপসী) চির অমর স্ত্রী, চিরস্থায়ী বাসস্থান সবুজ শ্যামলিময় নিয়ামতে ভরপুর।
[২] উসামা ইবনু যাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতের জন্য কোমর বেঁধে কর্ম সম্পাদনকারী কেউ কি আছে? জান্নাতের বিকল্প বা সমতুল্য কিছু নেই। কাবার রবের শপথ করে বলছি, (জান্নাত এত সুন্দর, এত সুন্দর যে) তার আলো ঝলমল করে বিচ্ছুরিত হতে থাকবে। পুষ্পরাজি সুঘ্রাণ ছড়াতে থাকবে চারদিক। (সেখানে) থাকবে সুউচ্চ অট্টালিকাসমূহ, বহমান স্রোতস্বিনী, সুমিষ্ট ফলের প্রাচুর্য, অলংকারে সজ্জিতা পরমা রূপসী (সুন্দরী) স্ত্রী, চিরস্থায়ী বাসস্থান সবুজ শ্যামলিময় নিয়ামতে ভরপুর হবে, গগণচুম্বী নিরাপদ ও মনোরম বাড়িঘর (থাকবে)। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা এ জান্নাতের জন্য কোমর বাঁধলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন— তোমরা বরং ইনশা আল্লাহ (আল্লাহ যদি চান) বলো। অতঃপর সকলেই ইনশা আল্লাহ বললেন।

টিকাঃ
['] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ২৫; তাফসিরে বাগাভী: ১/৪২।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ওপারের সুখগুলো

📄 ওপারের সুখগুলো


[৩] সাহল ইবনু সাদ আস সাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, সে মজলিসে তিনি জান্নাতের বিভিন্ন নিয়ামাহর কথা আলোচনা করলেন। সবশেষে তিনি বললেন, فِيهَا مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ জান্নাতে এমন নিয়ামত (সুখ-সামগ্রী) বিদ্যমান রয়েছে, যা কোন চক্ষু দর্শন করেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি এবং কোনো মানুষের মনে তার ধারণার উদ্রেকও হয়নি। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন, تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ. فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে পৃথক থাকে। তারা তাদের রবকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা দান করে। কেউ জানে না তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ তার জন্য নয়ন-প্রীতিকর কি পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
বর্ণনাকারী বলেন-এ বিষয়টি আমি মুহাম্মাদ ইবনু কাব আল-কুরদিকে বললে তিনি (বিস্মিত হয়ে) জিজ্ঞেস করলেন, আবু হাযিম কি তোমাকে এ হাদিসটি শুনিয়েছেন? আমি বললাম-হ্যাঁ, তাদের মাঝে অনেক বিচক্ষণ লোক রয়েছে। তারা আল্লাহর জন্য তাদের আমল গোপন করেছে আল্লাহও তাদের জন্য তাদের পুরস্কার গোপন করেছেন। তারা যেদিন তাদের রবের নিকট পৌঁছবে, সেদিন তাদের চক্ষুদ্বয় শীতল হবে। জান্নাতের বিভিন্ন সুখে তাদের বুক ভরে যাবে।

টিকাঃ
[*] যয়িফ। আস-সুনান, ইবনু মাজাহ: ৪৩৩২; আস সহিহ, ইবনু হিব্বান: ২৬২।
[°] সুরা সাজদা: ১৬/১৭।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ওপারের নিয়ামাহ

📄 ওপারের নিয়ামাহ


[৪] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কখনো কল্পনাও করেনি। এ কথাটি অনুরূপ আল-কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে, কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ। (সুরা আস সাজদাহ : ১৭)।

অন্য বর্ণনায় আছে-আবু হুরাইরা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চক্ষু কক্ষনো দেখেনি, কোন কর্ণ কক্ষনো শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ যা কক্ষনো চিন্তাও করেনি। এসব নিয়ামত আমি জমা রেখে দিয়েছি। তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যা অবগত করিয়েছেন তা অবগত হয়েছেন।

টিকাঃ
[*] সহিহ মুসলিম: ৪/২১৭৫; আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বল: ৫/৩৩৪।
[*] সহিহ মুসলিম: ৭০২৪।
[*] সহিহ মুসলিম: ৭০২৫।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 নবিজির বর্ণনায় জান্নাত

📄 নবিজির বর্ণনায় জান্নাত


[৫] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কোন কোন জিনিষের মাধ্যমে জান্নাতকে নির্মাণ করা হয়েছে? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ وَمِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ مَنْ يَدْخُلْهَا يَنْعَمْ لَا يَبْؤُسُ وَيُخَلَّدْ لَا يَمُوتُ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ. (জান্নাতকে স্বর্ণ-রৌপ্যের ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।) একটি রূপার ইট তারপর একটি স্বর্ণের ইট দিয়ে গাঁথা হয়েছে। আর সুগন্ধিযুক্ত মৃগনাভি এবং মণি-মুক্তার কঙ্করসমূহ দ্বারা প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে অত্যন্ত সুখে জীবন-যাপন করবে। কোনো প্রকার দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। সেখানে সে (জান্নাতী) অনন্তকাল বাস করবে; কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। জান্নাতীর পরনের পোষাক কখনো পুরাতন হবে না। তাদের যৌবনকাল কোনো কালেও শেষ হবে না। (সে অনন্তযৌবনা হবে।)'

টিকাঃ
['] আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫২৬; আল মুসনাদ, আহমাদ ইবনু হাম্বাল: ২/৩০৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px