📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি

📄 আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি


প্রিয় ভাই,
জনৈক সালাফের মৃত্যুক্ষণ ঘনিয়ে এল। তার মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হলো। তাকে বলা হলো, হে অমুক, তুমি কি বেঁচে থাকতে চাও? তখন তিনি বললেন, 'হে আমার সম্প্রদায়, আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়া অনেক কঠিন!'
আল্লাহু আকবার! দুনিয়ার কোনো মানুষের সামনে যাওয়ার আগে আমরা শত হিসেব-নিকেশ করে তারপর যাই। একটু সময় নিয়ে নিজেদের বেশভূষা পরিবর্তন করে, ভালোভাবে সেজেগুজে তারপর তাদের সামনে উপস্থিত হই। অথচ, তারা তো আমাদের মতোই মানুষ। তাদের সামনে উপস্থিত হতে আমাদের এমন প্রস্তুতি হলে, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে যাওয়ার জন্য কীরূপ প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত? অন্যদিকে আমরা যে কত ভুল আর পদস্খলনের মধ্যে আছি, কতটা গুনাহ আর অবাধ্যতার মধ্যে ডুবে আছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এর হিসেব একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
হে ভাই, তোমার কী অভিমত? আমরা দুনিয়ার সামান্য পরীক্ষার জন্য কত প্রস্তুতি গ্রহণ করি। মূল্যবান-অমূল্যবান সবকিছুই এর পেছনে ব্যয় করি। ত্যাগ করি এর জন্য জীবনের মূল্যবান অনেক কিছুই। কিন্তু আখিরাতের প্রশ্নকে আমরা কিছুই মনে করি না! অথচ, আল্লাহর শপথ, সেটাই হলো আমাদের মহা সফলতা কিংবা চিরক্ষতির সূচনা।
আবু মাসউদ আল-আনসারি রা.-কে প্রশ্ন করা হলো, 'হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. মৃত্যুর সময় কী বলেছিলেন?'
তিনি বলেন, 'যখন সাহরির সময় হলো, তিনি বললেন,
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের তাঁর সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দান করুন। মৃত্যুর জন্য, তার কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য যারা প্রস্তুতি নেন, তাদের মতো হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমাদের সালাফে সালেহিনের মতো হওয়ার তাওফিক দান করুন। জুনাইদ রহ. মৃত্যুকাতর অবস্থাতেও কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন, সালাত আদায় করছিলেন। এমনকি তিনি সে অবস্থাতেই কুরআন খতম করলেন। তখন তাকে বলা হলো, 'হে আবু আলি, এ অবস্থাতেও আপনি এত ইবাদত করছেন?' তিনি বললেন, 'আমার চেয়ে এর উপযুক্ত আর কে আছে? এই তো কিছু সময় পর আমার আমলনামা বন্ধ হয়ে যাবে।' অতঃপর তিনি তাকবির দিলেন। এর পরেই মৃত্যুর পেয়ালা পান করলেন।৫০
মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি' রহ.। মৃত্যুসজ্জায় তিনি। এ সময় বললেন,
'হে আমার ভাইয়েরা, তোমরা কি জানো, আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে? সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমাকে হয়তো জাহান্নামের দিকে নেওয়া হবে অথবা আমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।' ৫১

টিকাঃ
৫০. আল-আকিবাহ: ১৩৩
৫১. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৩/২৭২

📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 একজন সাহাবির অন্তরের আহ্বান শোনো

📄 একজন সাহাবির অন্তরের আহ্বান শোনো


প্রিয় ভাই,
আবু দারদা রা.-এর অন্তরের সত্য অভিব্যক্তিগুলো শোনো। শোনো তাঁর অন্তরের আহ্বান। তিনি অন্তিম মুহূর্তের সে সময়টিতে বলতে শুরু করলেন,
'কোনো লোক কি নেই, যে আমার মতো এমন পতনের সময়ের জন্য আমল করবে? কেউ কি নেই, যে আমার এই সময়ের মতো সময়ের জন্য আমল করবে? কেউ কি নেই, যে এই দিনের মতো দিনের জন্য আমল করবে? এ বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, “আপনি কাঁদছেন? অথচ আপনি রাসুলুল্লাহ-এর সাহাবি!” উত্তরে তিনি বললেন, “আমি কেন কাঁদব না? আমি তো জানি না যে, আমার গুনাহের কারণে আমাকে কোথায় নিক্ষেপ করা হবে?"'
এমন নিষ্ঠাপূর্ণ আহ্বানের সাড়া কোথায়, যা মুমিনের অন্তরকে নাড়িয়ে দেওয়ার কথা? এমন নিষ্ঠাপূর্ণ আহ্বানের সাড়া কোথায়, যা প্রত্যেক মানুষের নিকট আগুয়ান একটি মুহূর্তকে স্মরণ করিয়ে দেয়? নিশ্চয় তা এমন মুহূর্ত, উদাসীনতা যাকে আড়াল করে রেখেছে। কালক্ষেপণ যার ওপর পর্দা টেনে দিয়েছে। ফলে আশা অনেক দীর্ঘ হয়েছে। আর আমল অনেক কমে গেছে। দূরবর্তী হয়ে গেছে তাওবার সকাল।

টিকাঃ
৫২. আস-সিয়ার: ২/৩৬৮

📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 আল্লাহর ভয়েই তারা এমনটি ভাবতেন

📄 আল্লাহর ভয়েই তারা এমনটি ভাবতেন


আবু সুলাইমান আদ-দারানি রহ. বলেন, 'আমি আবিদা উম্মে হারুনকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি মৃত্যুকে পছন্দ করেন?” তিনি বললেন, “না।” আমি বললাম, “কেন?” তিনি উত্তর করলেন, “আল্লাহর শপথ, আমি যদি কোনো মাখলুকের অবাধ্য হই, তবে তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করি।...তাহলে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাথে কীভাবে সাক্ষাতের সাহস করতে পারি?””৫৩
শুমাইত ইবনে আজলান বলেন, 'এ পৃথিবীতে মানুষ দুপ্রকার, এক. দুনিয়া থেকে পাথেয় সংগ্রহকারী। দুই. দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত বা দুনিয়াঅর্জনকারী। সুতরাং ভেবে দেখো, তুমি এ দুপ্রকারের কোন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত? আমি তো দেখছি, তুমি দুনিয়াতে দীর্ঘ দিন থাকতে চাও। কেন তোমার এমন চাওয়া? তুমি কি আল্লাহর আনুগত্য পালন, ভালোভাবে তাঁর ইবাদত-বন্দেগি করা এবং নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য এটা চাও? যদি তোমার চাওয়া এ উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে, তবে তোমার জন্য সুসংবাদ। না তুমি খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা, আনন্দ-ফূর্তি আর স্ত্রী-সন্তানদের সাথে উপভোগের জন্য, দুনিয়া কামানোর জন্য দীর্ঘ সময় দুনিয়াতে থাকতে চাও? তবে তো তোমার এই দীর্ঘায়ু কামনা কতই না নিকৃষ্ট।'
হে ভাই, আমাদের তো ওই দুনিয়াবিমুখের কথার মতো হওয়া উচিত, যিনি বলেছেন,

টিকাঃ
৫৩. আল-আকিবাহ: ৩০

📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 আমলনামা খোলা থাকতেই আমল করে নাও

📄 আমলনামা খোলা থাকতেই আমল করে নাও


'প্রতিটি মৃত ব্যক্তির অবস্থার মধ্যে আমাদের জন্য নসিহত রয়েছে। আমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে চিন্তা-ভাবনায়।'৫৪
হামিদ আত-তাবিল রহ. দীর্ঘ সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন মৃত্যুবরণ করলেন, লোকেরা তাঁর অবস্থা ইবনে আওন রহ.-কে বলল। ইবনে আওন বললেন, 'হামিদ ভবিষ্যতের জন্য যা পাঠিয়েছে তার মুখাপেক্ষী সে।'৫৫
আবুস সাওর হাসান ইবনে হারিস রহ. এই আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন,
وَكُلَّ إِنْسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ
"আমি প্রত্যেক লোকের ভাগ্য তার কাঁধেই ঝুলিয়ে রেখেছি (অর্থাৎ তার ভাগ্যের ভালো-মন্দের কারণ তার নিজের মধ্যেই নিহিত আছে)।”৫৬
তা দু'বার খোলা হবে এবং একবার ভাঁজ করে গুটিয়ে রাখা হবে। হে আদম সন্তান, তুমি যতদিন জীবিত থাকবে, ততদিন তোমার আমলনামা খোলা থাকবে। তুমি চিন্তা করে দেখো, তুমি কী করবে? যখন তুমি মৃত্যুবরণ করবে, তখন তা আবার গুটিয়ে রাখা হবে। এরপর কিয়ামতের দিন তা আবার খোলা হবে।'৫৭
মানুষের আমলনামা তার মৃত্যু পর্যন্ত লেখা হয়। মৃত্যুর সাথে সাথে তার আমলনামা হিসেবের জন্য গুটিয়ে রাখা হয়। সুতরাং আমাদের আমলনামা এখন খোলা। তাতে আমল লেখা হচ্ছে। কিন্তু তাতে কী লেখা হচ্ছে? সেখানে কি নেক আমল, মাকবুল ইবাদত লেখা হচ্ছে? না লেখা হচ্ছে অন্য কিছু? আমাদের কেউ যদি খাতা-কলম নিয়ে নিজের একটি ঘণ্টার সমস্ত কথা ও কাজ লিপিবদ্ধ করে রাখে, তারপর সেটা আবার পড়ে দেখে; তবে সে তার অবস্থা জানতে পারবে এবং জীবিত অবস্থায় নিজের আমলনামা দেখতে পাবে!
এতে করে হয়তো সে তার পদস্খলনগুলো ঠিক করতে পারবে। ফিরে আসতে পারবে তার ভ্রষ্টতা থেকে। এবং তাওবা করে উত্তমরূপে নেক আমল করতে পারবে।

টিকাঃ
৫৪. আল-আকিবাহ: ৪৩
৫৫. তাজকিরাতুল হুফফাজ : ১/১৫২
৫৬. সুরা ইসরা: ১৩
৫৭. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/২৩০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00