📄 দুটি ভয়ংকর দিন আর দুটি ভয়ংকর রাতের কথা
আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন,
'শুনে রাখো, আমি তোমাদের এমন ভয়ংকর দুটি দিন ও দুটি রাতের কথা বলব, এগুলোর মতো ভয়াবহ রাত ও দিনের কথা সৃষ্টিজীবের মধ্যে কেউ কখনো শোনেনি।
প্রথম দিনটি হলো, যেদিন তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার কাছে একজন সংবাদদাতা আসবে। সেদিন হয়তো সে তোমার জন্য মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির সুসংবাদ নিয়ে আসবে, নয়তো নিয়ে আসবে তাঁর ক্রোধের দুঃসংবাদ।
দ্বিতীয় দিনটি হলো, যেদিন আমলনামা হাতে তোমাকে তোমার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াতে হবে। সেদিন হয়তো আমলনামা তোমার ডান হাতে থাকবে, নয়তো থাকবে তোমার বাম হাতে।
প্রথম রাত হলো, যে রাতে প্রথম তোমাকে কবরে থাকতে হবে, ইতঃপূর্বে যেখানে তুমি কখনো রাত্রিযাপন করোনি।
দ্বিতীয় রাতটি হলো, যে রাতের পরের সকাল হবে কিয়ামতের ভয়াবহ দিন।'২১
টিকাঃ
২১. আত-তাজকিরাহ বি আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ : ৩০০
📄 ঠিকই এসেছিল অন্তিম বিদায়ের আভাস
বর্ণিত আছে,
দাউদ আ.-এর নিকট যখন মালাকুল মাওত আসলো, তখন তিনি বললেন, 'আপনি কে?' সে বলল, 'আমি এমন ব্যক্তি, যে কোনো রাজা-বাদশাহকে ভয় করে না, কোনো মজবুত দুর্গই যাকে আটকাতে পারে না এবং যে কারও কাছ থেকে কোনো ঘুষ গ্রহণ করে না।' তিনি (দাউদ আ.) বললেন, 'তাহলে আপনি মালাকুল মাওত।' সে বলল, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'আপনি আমার কাছে চলে এসেছেন, অথচ আমার প্রস্তুতি এখনো শেষ হয়নি।' মালাকুল মাওত বলল, 'হে দাউদ আ., আপনার অমুক নিকটাত্মীয় কোথায়? আপনার অমুক প্রতিবেশী কোথায়?' তিনি বললেন, 'তারা মারা গেছে।' সে বলল, 'তাদের মৃত্যুর মধ্যে কি আপনার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য শিক্ষা ছিল না?'২২
টিকাঃ
২২. আত-তাজকিরাহ: ২০৪
📄 সালাফের অন্তিম মুহূর্ত
মৃত্যু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আজ হোক বা কাল, আমাদের সকলকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। সকলকেই পান করতে হবে মৃত্যুর পেয়ালা। আমরা এখন সালাফের মৃত্যু-পূর্ববর্তী অবস্থা নিয়ে কিছু সময় আলোচনা করব। যাতে করে তাঁদের মৃত্যু-পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা আমাদের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি।
তোমার জীবন একেবারে অল্প কয়েক দিনের। নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তের। হিসেব করা কয়েকটি শ্বাস-প্রশ্বাসের। তুমি যদি সারা দুনিয়ার সকল সম্পদের বিনিময়ে তোমার নির্ধারিত সময়ের বাইরে এক মুহূর্ত পরিমাণ সময় দুনিয়ায় থাকতে চাও, তোমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। তাহলে কেন তুমি আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে অযথা সময় নষ্ট করছ? কেন খেল-তামাশায় মেতে থেকে জীবনের মহা মূল্যবান সময়টুকু শেষ করে দিচ্ছ? তোমার এ মুহূর্তগুলো বড়ই মূল্যবান। এ সময়গুলোই তোমার জীবন। আবু হাজিম রহ. বিষয়টি এভাবে বলেছেন,
‘নিশ্চয় আখিরাতের পণ্যের বাজারে একেবারে মন্দা যাচ্ছে। তাতে কম-বেশি বিনিয়োগ করার মতো মানুষ খুবই কম। মানুষের মাঝে এবং তার আমলের মাঝে যখন দেয়াল তৈরি করে দেওয়া হবে, যখন তার মৃত্যু হবে, তখন আফসোস আর পরিতাপ করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। বারবার এই কামনা করা হবে, হায়, যদি আমাকে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে আমি আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর ইবাদত-বন্দেগি করতাম! কিন্তু তার এই আফসোস ও ফিরে আসার কামনা কোনো কাজেই আসবে না। এ যে বড্ড দুরাশা!’ [২০]
টিকাঃ
২০. জামিউল উলুম: ২/৩৯০
📄 প্রিয় নবিজির অন্তিম মুহূর্তের বাণী
আমাদের নবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নবি-রাসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তিনি। সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম ও সম্মানিত। কিন্তু মৃত্যুযন্ত্রণা তাঁকেও ভোগ করতে হয়েছিল।
ইনতেকালের পূর্ব সময়ে। অন্তিম মুহূর্তে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারবার পানির পাত্রে হাত দিয়ে নিজের চেহারা মুছে নিচ্ছিলেন। আর বলছিলেন,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ
'আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। নিশ্চয় মৃত্যুর যন্ত্রণা অনেক কঠিন।' ২৪
ফাতিমা রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে। এ কষ্ট ও যন্ত্রণা দেখে তিনি বললেন, 'হায়, আমার বাবার কত কষ্ট হচ্ছে!' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
لَيْسَ عَلَى أَبِيكِ كَرْبُ بَعْدَ اليَوْمِ
'আজকের পর তোমার বাবার আর কোনো কষ্ট নেই।' ২৫
ভাই! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব, সৃষ্টিজীবের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত মানবের অন্তিম মুহূর্তের অবস্থার বর্ণনা এটি। যার আগের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এ বর্ণনা তাঁর অন্তিম মুহূর্তের।
টিকাঃ
২৪. সহিহ বুখারি: ৪৪৪৯, ৬/১৩
২৫. সহিহ বুখারি: ৪৪৬২, ৬/১৫