📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 যে বাস্তবতা কেউই অস্বীকার করে না

📄 যে বাস্তবতা কেউই অস্বীকার করে না


মৃত্যু এক ভয়াবহ কঠিন বাস্তবতা। মৃত্যু প্রত্যেক প্রাণীরই মুখোমুখি হবে। কেউ এটাকে ফেরাতে পারবে না। কারোই নেই তা প্রতিহত করার ক্ষমতা। মৃত্যু প্রতিটি মুহূর্তে আনাগোনা করে, কাল-পরিক্রমার পিছে পিছেই চলতে থাকে। সে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, সবল-দুর্বল, সুস্থ-অসুস্থ সকলের সাথেই সাক্ষাৎ করবে। তাই তো মহান আল্লাহ বলেছেন,
قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴾
'বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখোমুখি হবে, অতঃপর তোমাদের দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারীর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর তোমাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যা তোমরা করতে।'৪
জীবনের সমাপ্তি একটিই। আর সকলেই মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ﴾ 'প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।'৫
অবশ্য এরপরে ঠিকানা হবে ভিন্ন ভিন্ন।
فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ ﴾ 'একদল জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।'৬ মহান আল্লাহ এক বিরাট ও মহান উদ্দেশ্যে জীবন ও মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন,
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ 'যিনি মৃত্যু ও জীবনকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে উত্তম আমলকারী। তিনি মহা শক্তিধর, অতি ক্ষমাশীল।'৭
আল্লাহ তাআলা চারটি আয়াতে মৃত্যুযন্ত্রণার স্বরূপ বর্ণনা করেছেন।
[এক] وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ 'মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে।'৮
[দুই] وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ. 'যদি আপনি দেখেন, যখন জালিমরা মৃত্যুযন্ত্রণায় আক্রান্ত হবে।'৯
[তিন] فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ 'অতঃপর যখন কারও প্রাণ কণ্ঠাগত হয়।'১০
[চার] كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِي 'সাবধান, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে।'১১
মহান আল্লাহ এক আশ্চর্যকর বিবরণ ও ধারাবাহিক চিত্রের মাধ্যমে মৃত্যুর দৃশ্যের বর্ণনা করেছেন।
كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ ، وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ * وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ . وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ * إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ.

টিকাঃ
২. সুরা কিয়ামাহ: ২৯
৩. সুরা কিয়ামাহ : ৩০
৪. সুরা জুমুআহ: ০৮
৫. সুরা আলে ইমরান: ১৮৫
৬. সুরা শুরা: ০৭
৭. সুরা মুলক: ০২
৮. সুরা কাফ: ১৯
৯. সুরা আনআম: ৯৩
১০. সুরা ওয়াকিআ : ৮৩
১১. সুরা কিয়ামাহ: ২৬

📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 হয়তো পুরস্কার, নয়তো কঠিন শাস্তি

📄 হয়তো পুরস্কার, নয়তো কঠিন শাস্তি


মৃত্যুর সাক্ষাৎ ব্যথা-বেদনাভরা এক ভয়ানক সময়। এরপরে আছে হয়তো পুরস্কার, নয়তো কঠিন শাস্তি। যদি তুমি সুখ-শান্তি ও সচ্ছলতায় থেকেও মৃত্যুর আগমন নিয়ে ভাবতে, তবে তোমার দুনিয়ার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠত। দুনিয়া তোমার কাছে নগণ্য মনে হতো। তুচ্ছ হয়ে যেত তার বিশালতা। তোমার আনন্দ পরিণত হতো বেদনায়। সুখ-শান্তি হয়ে উঠত অশান্তিময়। কেনই বা হবে না? তুমি যে ধন-সম্পদ, পরিবার পরিজন ও প্রিয়জন সবাইকে ছেড়ে হিসাব ও প্রতিদানের দেশে পাড়ি জমাচ্ছ। এ এমন বিপদ, যার সামনে দুনিয়ার সব ভয়ানক বিপদও অতি ক্ষুদ্র, একেবারেই তুচ্ছ। অবশেষে দীর্ঘ কঠিন এক সফরের মধ্য দিয়ে মানুষ দুদলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাদের এ সফরের সমাপ্তি ঘটবে।
فَرِيقُ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقُ فِي السَّعِيرِ )
'একদল জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।'১৪
হাকিম ইবনে নুহ রহ. তার জনৈক সঙ্গীকে বলেন,
'আমরা তখন সমুদ্র ভ্রমণে। মালিক ইবনে দিনার রহ. পুরো একটি রাত হেলান দিয়ে বসে বসে কাটালেন। সে রাতে না তিনি কোনো নামাজ-কালাম পড়লেন; না কোনো দুআ-দুরুদ পড়লেন। সকাল হলে তাকে বললাম, “হে মালিক, রাত তো অনেক দীর্ঘ ছিল। কিন্তু আপনি কোনো নামাজও পড়লেন না, দুআও করলেন না?” এ শুনে তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর বললেন, “যদি সৃষ্টিজীব জানত, ভবিষ্যতে সে কীসের মুখোমুখি হবে, তাহলে কখনো সে জীবনযাপনে স্বাদ অনুভব করত না। আল্লাহর শপথ, আমি যখন রাতের ভয়াবহতা ও তার প্রচণ্ড অন্ধকার লক্ষ করলাম, তখন আমার কবরে অবস্থানের কথা এবং কিয়ামতের ভয়াবহতার কথা স্মরণ হলো। সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। পিতা পুত্রের কোনো কাজে আসবে না। পুত্রও পিতার কোনো উপকার করতে পারবে না।” এরপর তিনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছে করলেন, ততক্ষণ কাঁপতে থাকলেন। অতঃপর শান্ত হলেন। আমার সাথিরা জাহাজের মধ্যেই আমাকে দোষারোপ করে বলল, “আপনি জানেন, তিনি পরকালের কথা সহ্য করতে পারেন না; কি জন্য তাকে এসব বলে অস্থির করতে গেলেন?" তিনি বলেন, "এরপর থেকে আমার মনে পড়ে না, আমি কখনো তাকে কোনো কিছু স্মরণ করে দিয়েছি।"'১৫

টিকাঃ
১২. সুরা কিয়ামাহ: ২৬-৩০
১৩. সুরা কাফ: ১৯-২০
১৪. সুরা শুরা: ০৭
১৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/১৮

📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 আমাদের তামাশা আর অট্টহাসি বন্ধ হবে কি?

📄 আমাদের তামাশা আর অট্টহাসি বন্ধ হবে কি?


হাসান বসরি রহ. যাওয়ার পথে। এক লোককে হাসতে দেখে তাকে প্রশ্ন করলেন, 'ভাতিজা, তুমি কি পুলসিরাত পার হয়েছ?' - 'না।' : ‘তবে তুমি কি জেনে ফেলেছ, জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে?' - 'না।'
হাসান রহ. এরপর বললেন, 'তাহলে এত হাসি কী কারণে? ব্যাপারটি খুবই ভয়াবহ। আল্লাহ তোমাকে নিরাপদে রাখুন।' এরপরে লোকটিকে মৃত্যু অবধি আর হাসতে দেখা যায়নি।১৬
প্রিয় ভাই,
আর কোন সফর আছে, যা এই সফরের চেয়ে দীর্ঘ? তুমি কি জানো, এ সফরে কোন পাথেয়ের প্রতি তুমি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী হবে? নিশ্চয়, হে প্রিয়, সে পাথেয় পরকালের পাথেয়।

টিকাঃ
১৬. আল-হাসান আল-বসরি: ৬৯

📘 অন্তিম মুহূর্ত > 📄 মৃত্যু কেমন?

📄 মৃত্যু কেমন?


মৃত্যু ও তার জ্বালা-যন্ত্রণা কিছুটা অনুমান করার জন্য আমরা এখন সালাফের অন্তিম মুহূর্তের কিছু চিত্র অবলোকন করব। আমর ইবনুল আস রা. মৃত্যুক্ষণে উপস্থিত হলেন। ছেলে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, 'মৃত্যুযন্ত্রণা কেমন?' তিনি বললেন,
'আল্লাহর শপথ, আমার পিঠকে যেন একটি শক্ত তখতার ওপর রাখা হয়েছে। আর আমি সুইয়ের ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নিচ্ছি। অপরদিকে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটি কাঁটাযুক্ত ডাল টেনে হেঁচড়ে নেওয়া হচ্ছে।'১৮
উমর রা. কা'ব রা.-কে জিজ্ঞেস করলেন,
'আমাকে মৃত্যুর কষ্ট সম্পর্কে কিছু বলুন।'
কা'ব রা. তখন বললেন,
'হে আমিরুল মুমিনিন, মৃত্যু হচ্ছে বনি আদমের পেটে ঘন কাঁটাবিশিষ্ট একটি শুকনো গাছ। যার কোনো শিকড় নেই, জোড়া-গ্রন্থিও নেই। আর মৃত্যুদূত হচ্ছে শক্ত বাহুবিশিষ্ট এক বিশাল মানব। সে এসে অনেক চেষ্টা-সাধনা করে সেই গাছকে উপড়ে ফেলছে।'১৯
এ বিবরণ শুনে উমর রা. কেঁদে ফেললেন। এই হলো মৃত্যু। এই হলো তার যন্ত্রণা। সেই সময় আরেকটি ভাবনা তোমায় ছিঁড়ে খুবলে খাবে। তুমি কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, জান্নাত নাকি জাহান্নাম—কোনটি তোমার আবাস হবে?
প্রিয় ভাই,
নিশ্চয় মৃত্যু এক ভয়াবহ ঘটনা, কদাকার অবস্থা। যার স্বাদ খুব বিরক্তিকর, খুবই বিস্বাদ। যা সমস্ত স্বাদ-বিনষ্টকারী। সকল আরাম-আয়েশ দূরকারী। এবং সব ধরনের কষ্ট আনয়নকারী। সে তো তোমার সকল শিরা-উপশিরাকে বিচ্ছিন্ন করে ছাড়বে। তোমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বিক্ষিপ্ত করে ফেলবে এবং তোমাকে বিধ্বস্ত করে দেবে একেবারে সমূলে। নিশ্চয় তা একটি ভয়ংকর ব্যাপার। তার দিনটাও হবে এক ভীষণ ভয়ংকর দিন।
হে প্রিয়,
তুমি জেনে রেখো, যদি অসহায় বান্দার সামনে মৃত্যুযন্ত্রণা ছাড়া ভয়ভীতি ও দুঃখ-কষ্টের কিছুই না থাকত, তবে এতেই তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠত; আনন্দ হয়ে দাঁড়াত বিরক্তির কারণ; দূর হয়ে যেত তার সকল অমনোযোগিতা ও উদাসীনতা। তখন সে শুধু মৃত্যু-চিন্তায় ডুবে থাকত। এবং এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই তার প্রধান ও বড় কাজ হয়ে দাঁড়াত।
কেনই বা এমন হবে না! আমরা তো জানি, মৃত্যুর পরেই রয়েছে কবর ও তার অন্ধকার। পুলসিরাত ও তার সূক্ষ্মতা। হিসাব ও তার কঠোরতা। এ সবই তো শুধু ভয় আর ভয়। এক বিপদের পর অন্য বিপদ। ভয়াবহতার এক ভীষণ ধারাবাহিকতা। এটি এমন এক সফর, যা সকলকে নিয়ে একটি স্টেশনে গিয়ে থামবে। এ স্টেশন শেষ স্টেশন। এরপরে আর কোনো স্টেশন নেই। সে স্টেশন হয় জান্নাত না হয় জাহান্নাম!
ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. বলেন,
'জনৈক বাদশা ভ্রমণে বের হবার ইচ্ছে করল। তাই পরিধানের কাপড় চাইল। তাকে যে কাপড় দেওয়া হলো সেটা তার পছন্দ হলো না। সে আবারও আদেশ করল কাপড় আনার জন্য। এভাবে কয়েক বার বাছাই করার পর তার পছন্দসই সুন্দর কাপড়টি পরিধান করল। এবার সে আরোহণের পশু চাইল। আগের মতো খুব দেখেশুনে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ঘোড়ায় চেপে বসল। এরপর ইবলিস এসে ফুঁ দিল তার নাকের ছিদ্রে। তার ভেতরে অহংকার ঢুকিয়ে দিল। এবার সে তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে রওয়ানা হলো। আর অহংকার এতটাই তাকে পেয়ে বসল যে, এ কারণে সে মানুষের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না।
পথিমধ্যে এক জীর্ণশীর্ণ লোক এসে তাকে সালাম দিল। সে সালামের কোনো উত্তরই দিল না। আগন্তুক তার ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরল। তখন সে বলল, “ঘোড়ার লাগাম ছাড়ো। তুমি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছ।” আগন্তুক বলল, “তোমার কাছে আমার একটা প্রয়োজন আছে।” সে বলল, “আমাকে নামতে দাও।” আগন্তুক বলল, “না, এখনই।” এবং তার লাগام ধরে তাকে ধমক দিল। এবার বাদশা বলল, "আচ্ছা বলো।” আগন্তুক বলল, "এটি গোপন কথা।" বাদশা মাথা এগিয়ে দিল। আগন্তুক তার কানে কানে বলল, "আমি মালাকুল মাওত!” মুহূর্তেই বাদশার মুখের রং বিবর্ণ হয়ে গেল। তার জিহ্বা কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আমাকে সামান্য সুযোগ দিন। আমি পরিবারের নিকট ফিরে গিয়ে আমার প্রয়োজন পূরণ করে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসি।" মালাকুল মাওত বলল, "না। আল্লাহর শপথ, তুমি কিছুতেই তোমার পরিবার ও ধন-সম্পদ দেখতে পাবে না। আর কখনো দেখতে পাবে না।" এরপর তার জান কবজ করা হলো আর দেহ নিথর হয়ে পড়ে গেল।
এরপর মৃত্যুর ফেরেশতা সেখান থেকে এক মুমিন বান্দার কাছে গেল এবং তাকে সালাম দিল। সে তার সালামের জওয়াব দিল। ফেরেশতা তাকে বলল, “আপনার কাছে আমার একটা প্রয়োজন আছে, আর বিষয়টা আপনার কানে কানে বলব।” সে বলল, “আসুন।” মৃত্যুর ফেরেশতা তার কানে কানে বলল, “আমি মৃত্যুর ফেরেশতা!” তখন সে বলল, “স্বাগতম, আপনার আগমন শুভ হোক। আমি দীর্ঘ দিন থেকে আপনার অপেক্ষায় আছি। আল্লাহর শপথ, পৃথিবীতে আপনার সাক্ষাতের চেয়ে অন্য কারও সাক্ষাৎ আমার কাছে এত প্রিয় ছিল না।” তখন মালাকুল মাওত বলল, “আপনি যে প্রয়োজনে বের হয়েছেন, তা পুরা করে আসুন।” সে বলল, “আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাতের চেয়ে বড় ও প্রিয় কোনো প্রয়োজন আমার নেই।” মৃত্যুর ফেরেশতা বলল, “আপনি একটি পছন্দমতো অবস্থা বেছে নিন, যে অবস্থায় আমি আপনার জান কবজ করব।” এ কথা শুনে সে বলল, “আপনি কি এটা করতে পারবেন?” মালাকুল মাওত বলল, “হ্যাঁ, আমি এভাবেই আদিষ্ট হয়েছি।” ওই মুমিন বলল, “তাহলে আমাকে সুযোগ দিন, আমি অজু করে সালাত আদায় করব আর আপনি সিজদারত অবস্থায় আমার জান কবজ করবেন।” অতঃপর সিজদারত অবস্থায় তার জান কবজ করা হলো।'২০
সাবধান, আল্লাহর শপথ করে বলছি। একদিন এমন আসবে, যেদিন অন্যদেরও এসেছে। তাদের ওপর দিয়ে যেমন অবস্থা গত হয়েছে, তোমার ওপরও অনুরূপ আসবে। তাই শিক্ষা নাও।

টিকাঃ
১৭. সুরা বাকারা: ১৯৭
১৮. জামিউল উলুম: ৪৪৯
১৯. আল-ইহইয়া: ৪/৪৯০
২০. আল-ইহইয়া: ৪/৪৯৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00