📄 আকর্ষণীয় নারী হতে কোন ব্র্যান্ডের মেকআপ প্রয়োজন?
সাজগোজ, সৌন্দর্য নারীদের একটি দুর্বল দিক। কারণে-অকারণে সে সাজতে ভালোবাসে এবং সেই সৌন্দর্য আরেকজনকে দেখাতে পছন্দ করে।
'এই সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে' সেই ভয় দেখিয়ে ফেমিনিস্টরা আমাদের সতর্ক করে-সংসারের ঘানি মাথায় নিয়ো না, সন্তান ধারণের দরকার কী? ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে, চেহারায় বয়সের ছাপ পড়বে; তারচেয়ে নিজেকে সুন্দর রাখো, আকর্ষণীয় হও, নজর কাড়ো।
আকর্ষণীয় হওয়ার জন্য নারীরা যত সৌন্দর্যের পেছনে ছুটছে, মেকআপ ইন্ডাস্ট্রিগুলো তত শক্তিশালী হচ্ছে। মার্কেট রিসার্চ থেকে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী Beauty Industry (সৌন্দর্য শিল্প) দিনের পর দিন শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২০ সালের ৪৮৩ বিলিয়ন ডলারের এই মার্কেট ২০২১ সালে বেড়ে হয়েছে ৫১১ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালের মধ্যে তা নাকি ৭১৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ব্যক্তিগত বিউটি প্রোডাক্টগুলোর ব্যবহার যেমন দিন দিন বাড়ছে, অলিতে- গলিতে গড়ে ওঠা পার্লারগুলোতেও এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সবকিছুর পেছনে আছে নারীর আকর্ষণীয় হবার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা।
ধরুন দশজন একসাথে বসে আছেন, গল্পগুজব করছেন। এই দশজনের মধ্যে দু-একজন এমন থাকবে, যাদের প্রতি অন্যান্যরা একধরনের টান বা আকর্ষণ অনুভব করবে। প্রশ্ন হলো, তাদের কোন বিষয়টা অন্যদের আকৃষ্ট করছে? তাদের সাজগোজ, পোশাক-আশাক, কালার ম্যাচিং করা জুতা-ঘড়ি-চশমা, অলংকারাদি-কোনটা?
নাকি তাদের কথা বলার ধরন, তাদের আত্মবিশ্বাস, কণ্ঠের দৃঢ়তা, তাদের সহানুভূতি, তাদের সহমর্মিতা, তাদের বিচক্ষণতা? অর্থাৎ ভেতরের সৌন্দর্য নাকি বাইরের সৌন্দর্য? কোন জিনিসটা আপনাকে আকৃষ্ট করে? বাইরের সৌন্দর্য হয়তো নজর কাড়ে, কিন্তু আন্তরিকভাবে আকৃষ্ট করে কোনটি?
আপনার আশেপাশে যত পরিচিত মানুষ বা আত্মীয়-স্বজন আছে, তাদের সবাইকে কিন্তু আপনার একই রকম ভালো লাগে না। কাউকে বেশি ভালো লাগে, কাউকে কম। আপনার কাছে যদি জানতে চাওয়া হয়, যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে আপনি বেশি টান অনুভব করেন, সেগুলো কী কী?
আপনি হয়তো বলবেন, আমার অমুক আপুকে খুব ভালো লাগে। কারণ তিনি খুব হাসিখুশি। সব সময় মুখে হাসি লেগেই থাকে। হতাশার কোনো কথা আপুর মুখে কোনো দিন শুনিনি। দুঃখ-কষ্ট আমাদের সবার জীবনেই আছে, কিন্তু কারও সাথে মুখ ভার করে ব্যর্থতা, অপূর্ণতার গল্প করতে শুনিনি; বরং চোখের দিকে তাকিয়ে, হাত নেড়ে আপুকে বলতে শুনি, 'সমস্যা আজ আছে কাল নেই, একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে।' নিজে যেমন আশা নিয়ে বাঁচেন, তেমনই অন্যের মনের মধ্যেও আশা জাগাতে পারেন। একটা মানুষ হাসিমুখে সবকিছু কীভাবে ম্যানেজ করেন উনাকে না দেখলে বোঝা যায় না। কাজকাম তো আমরা সবাই করি, কিন্তু হাসিমুখে কাজ করা বা আনন্দের সাথে কাজ কয়জন করতে পারে।
আবার বলবেন, অমুক খালাকে আমার খুব ভালো লাগে। কারণ, এই মানুষটার মধ্যে তার আবেগ-অনুভূতি বা আচরণ নিয়ন্ত্রণের চমৎকার ক্ষমতা আছে। উনার সাথে যে যেমন ইচ্ছা আচরণই করুক না কেন, উনার সেই আদরমাখা প্রতিক্রিয়ার কোনো অন্যথা হবে না। কখনো রাগের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কিন্তু দেখিনি-উনি পাল্টা রাগঝাল করে পরিবেশকে আরও ভারী করে তুলেছেন। পারিপার্শ্বিকতা যেমনই হোক না কেন, প্রতিক্রিয়া যেন একদম উনার হাতের মুঠোয়।
আপনার দাদিকে খুব ভালো লাগে, কারণ তিনি খুবই রসিক। উনার সাথে থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়। ব্যস্ততার ফাঁকে সময় পেলেই মনে হয়, ওই মানুষটার সাথে কিছুটা সময় কাটাই। সাধারণত আমাদের দেশের রসিকতাগুলো অন্য কাউকে ছোট করা, অপমানিত করা হয়, অশ্লীলতা ও মিথ্যা নিয়েই বেশি সাজানো। কিন্তু মুসলমানের রসিকতাও যে কতটা সত্য ও শালীন হতে পারে, তা উনার রসিকতা থেকে বোঝা যায়। এ ব্যাপারে উনার হিকমত এতটা বেশি যে, রসিকতার সময়ও পরিবেশ-পরিস্থিতি ও সামনের জনের মানসিক-শারীরিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখেন। অনেকেই করতে পারে, কিন্তু উনারটা অন্যরকম।
আবার আপনি হয়তো বলবেন, অমুক ভাবিকে আমার খুব ভালো লাগে। কারণ, সে কখনো ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলে না। আচরণের মধ্যে একধরনের স্বচ্ছতা আছে। মনের মধ্যে কোনো বিদ্বেষ, রাগ, হিংসা পুষে রাখে না। কোনো কিছুতে আমাদের থেকে কষ্ট পেলেও স্পষ্টভাবে বিনয়ের সাথে জানিয়ে দেন। কথা বলার সময় কিছু গোপন করা বা কাটছাঁট করে বলা উনার সাথে যায় না।
মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা মতে, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষদের মধ্যে ঠিক এই ধরনের বৈশিষ্ট্যগুলোই দেখা যায়। তাদের গবেষণায় আরও পাওয়া যায়, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষ খুব বিনয়ের সাথে না বলতে পারেন। কম গুরুত্বপূর্ণ বা গুরুত্বহীন কাজগুলোকে হঠাৎ নাকচ করতে পারেন বা এড়িয়ে চলেন। যাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজে পরিপূর্ণ ফোকাস করতে সমস্যা না হয়। সাময়িকভাবে অনেকে তাদের খারাপ ভাবলেও পরবর্তী সময়ে ভালোবাসে।
আমি হলফ করে বলতে পারি, মানুষের ব্যক্তিত্বের এইসব বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের মুগ্ধ করে, ভীষণভাবে টানে।
আসুন, আকর্ষণীয় হতে বিউটি ইন্ডাস্ট্রির নামকরা সব ব্র্যান্ডের দিকে না ঝুঁকে নিজের ভেতরের জগৎটাকে আরেকবার খুঁটিয়ে দেখি। না জানি কত মণি-মুক্তা সেখানে অবহেলায় পড়ে আছে।