📄 তাড়াহুড়া করা
সংসার সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা অনেক, সে তুলনায় আপনার বউ-মা একেবারেই আনাড়ি। রান্না করতে পারে না, কাজ বোঝে না, কীভাবে মিলেমিশে থাকতে হয় সেটাও জানে না, অনেক সমস্যা। বউ-মার এমন অযোগ্যতা দেখে শাশুড়ি মনে করেন, এই মেয়ে সংসারের হাল ধরলে না জানি সংসারের কী অবস্থা হবে? সব তো উচ্ছন্নে যাবে। তাই অনেকে সংসারের হাল মজবুত করে ধরতে বা বউ-মাকে সংসারের জন্য যোগ্য করার মিশনে উঠেপড়ে লাগেন। খুব তাড়াহুড়া করেন।
সব বউ-মা এই তাড়াহুড়াটা মেনে নিতে পারে না। বিরক্ত হয়, ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। আবার আপনার গতির সাথে যদি বউ-মা তাল মিলাতে না পারে, তবে আপনিও বিরক্ত হবেন, রেগে যাবেন। তখন আপনার জন্য শেখানোটা আরও কঠিন হয়ে যায়, সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।
আবার বউ-মা যদি চেষ্টা করেও না পারে তখন তীব্র মানসিক চাপ অনুভব করবে। আর সে যদি ধৈর্য ধরতে ব্যর্থ হয়, তবে আপনাকে প্রতিপক্ষ ভাববে। আপনাকে দূরে সরানোর চেষ্টা করবে অথবা আপনার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে। করবে। অনেকে তো আড়ালে গালিগালাজও করে, এমনকি শাশুড়ির মৃত্যুও কামনা করে (নাউযুবিল্লাহ)।
আপনার শেখানোর পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কয়জন শাশুড়ি বউকে শেখাতে চায়? নিঃসন্দেহে এদিক-ওদিক থেকে শেখার চেয়ে আপনার কাছে সংসার নামক বস্তুটা শিখে নেয়া বউ-মার জন্য বেশি নিরাপদ। অনেকটা বয়ঃসন্ধিতে বাচ্চাকে যৌনশিক্ষা দেয়ার জন্য বাবা-মা যেমন নিরাপদ, তেমনই বউ-মাকে সংসার শেখানোর জন্য শাশুড়ি নিরাপদ। সমস্ত ইগোকে একপাশে সরিয়ে আপনি যদি তাকে শেখানো শুরু করেন, তবে নিঃসন্দেহে আপনার নাসীহা বৃথা যাবে না। বাতাসে মিশে যাবে না। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, তাড়াহুড়া করা যাবে না।
২০-২৫ বছরের অভ্যাস কীভাবে দু-এক মাসের মধ্যে পরিবর্তন হবে? একটু সময় লাগবে। তবে বউ-মার ইচ্ছা-আগ্রহ থাকলে সে সহজেই নিজেকে সেভাবে সাজিয়ে নেবে।
এ কথা সত্যি, শাশুড়ি-মায়ের জীবন নিয়ে অভিজ্ঞতা বেশি; তিনি অনেক কিছু দেখেছেন, দেখছেন। তার মানে এই না যে, তিনি শাশুড়ি হওয়ার ব্যাপারে অভিজ্ঞ। এই প্লাটফর্মে তিনি নতুন। সারাজীবন অনেক শাশুড়িদের দেখা, গল্প শোনা আর নিজে সেটার মুখোমুখি হওয়া এক জিনিস না। শাশুড়ি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে উনারও কিছু সাহায্যের প্রয়োজন হয়।
আল্লাহ তাআলা সব শাশুড়ি-মাকে বউ-মার জন্য অন্যরকম এক মাতৃছায়ায় পরিণত করুন। আমীন।