📄 ছেলে-বউমার সব সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা
আমরা বাঙালিরা জাতিগতভাবে অন্যের ব্যাপারে বেশ উৎসাহী বা আগ্রহী বা কৌতূহলী। কেন যেন নিজের চেয়ে অন্যের প্রতি আগ্রহের পরিমাণটা আমাদের অনেক বেশি। আগে গ্রাম এলাকাগুলোতে বেড়ার ঘর ছিল বা উঠানে পাশের বাড়ির সীমানায় বাঁশের বেড়া দেয়া থাকত। বেড়ার ঘরের দেয়ালে বা দুই বাড়ির সীমানা দেয়ালে বিশেষ কায়দায় অপর মানুষদের দেখার কিছু গোপন ছিদ্র থাকত। পাশের বাড়ির মানুষজন কী করছে, কীভাবে উঠানে হাঁটাহাঁটি করছে, তা দেখার কেমন যেন এক প্রবল ইচ্ছা কাজ করত! বাংলা সাহিত্যের অসংখ্য গল্প-উপন্যাসের প্লট তৈরি হয়েছে এই কৌতূহল থেকে।
অন্যের হাঁড়ির খবর জানতে দারুণ লাগে! আর বেড়ার গোপন ছিদ্র দিয়ে কিছু দেখার পরে অন্যান্য মানুষদের কাছে তা প্রকাশ না করা পর্যন্ত তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করত। সবাইকে একইভাবে বলা হতো—আরে ভাবি শুনছেন... খবরদার কাউকে যেন বলবেন না... অমুক তো...।
এখন কাঁচা বেড়ার ঘরের জায়গায় উঠেছে পাকা দালান। বেড়ার গোপন ছিদ্রে 'একটা চোখগুলো' ডিজিটাল হয়েছে। কানাঘুষার জায়গা দখল করেছে চ্যাটবক্স, কমেন্ট সেকশন। অপরের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রবল জানার আগ্রহের ধারাবাহিকতায় কিছু কিছু শাশুড়ি তাদের আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। বউ- মার কবে বাচ্চা পেটে আসবে সেটাও তাকে জানতে হবে! সবকিছু তার জানা চাই চাই। এত তাড়াতাড়ি কেন বাচ্চা হবে বা এত দেরিতে কেন বাচ্চা হবে? সবকিছুর মধ্যে তাদের অবশ্যই নাক গলাতে হবে।
এই ধরনের শাশুড়িরা নাক গলানোর পেছনে কিছু যুক্তি খাড়া করে রেখেছেন। যেমন : 'আমার ছেলের বয়স আর কত-ই বা! ও কী বোঝে! ওর কি আর বিয়ের বয়স হয়েছে, ওর গায়ে ফুলের টোকাও লাগতে দিইনি! ও কীভাবে বুঝবে কী সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কী করতে হবে না হবে!' ছেলের ক্ষেত্রে এসব মনে আসে ভালোবাসার মোড়কে আর বউ-মার ক্ষেত্রে এসব মনে আসে অবহেলার মোড়কে! আর এই যে বউ-মা, তুমি কোথাকার কে! তোমার এত বড় সাহস আমার পরিবারের মধ্যে কথা বলতে আসো! তোমার ডিপার্টমেন্ট রান্নাঘর সেখানে যাও! মনে মনে শাশুড়ি বলতে থাকে, ওই মেয়ে সাংঘাতিক! আমার সংসার হাত করতে এসেছে! কী চালাক! বয়সে ছেলের চেয়ে ছোট হলে কী হবে, খুব চালাক! খুব ধুরন্ধর! কোনো কিছু এদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেয়া যাবে না। কী হতে কী হবে আল্লাহ মালুম!
যৌথ পরিবারেই না, একক পরিবারেও ছেলে-বউ এর সব খুঁটিনাটিতে কিছু কিছু শাশুড়ির নাক গলানোর প্রবণতা থাকে চরমে। কী কিনলে, কোথায় গেলে, কোথায় খেলে, এই লোশন কে দিল, কানের ওই দুল কে দিল, কবে দিল, কোথায় পেলে? বিছানার চাদর এভাবে বিছিয়েছ কেন? ঘরে খাট এভাবে রেখেছ? কেন তরকারিতে লবণ-ঝালের এই দশা? এমন হাজারো জবাবদিহি।
কিছু বাঁকা-ত্যাড়া, গোঁড়ামিপনায় ভরা বউ-মা ছাড়া গড়পড়তা অন্যান্য সব বউ- মাদের পছন্দ, সিদ্ধান্ত বা কাজগুলো কেন আলাদা হচ্ছে সেই কারণগুলো নিয়ে ওইসব শাশুড়িরা তেমন একটা ভাবতে চান না। ওই যে নাক গলানোর অভ্যাস! সন্তানকে সংসারী-স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার চেয়ে নিজেদের হুকুম তামিল করানোতেই উনাদের উৎসাহ বেশি! এই হুকুম চাপানোর সাথে সাথে সম্মান বা মর্যাদা পাওয়ার বিষয়গুলোকেও বউ-মার শাশুড়িটা কেমন যেন গুলিয়ে ফেলেন। এটা শাশুড়ি-মায়ের একটা ছোট্ট ভুল।
সম্মানিতা শাশুড়ি-মা!
আপনার মর্যাদা, সম্মান সঠিকভাবে হেফাজত করুন। সব জায়গায় কেন নিজেকে জড়াবেন? বউমার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে চিন্তা করা যায় কি? চোখের সামনে কল্পনা করা যায় কিনা—সময়, পরিবার, পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা, সংস্কৃতির পার্থক্য, জেনারেশন গ্যাপ সব একসাথে কীভাবে রুচিবোধ, পছন্দ, কাজকে আলাদা করে দিয়েছে? সম্পর্ককে নিরাপদ রেখে ছেলে-বউয়ের সিদ্ধান্তে বা কাজে কীভাবে মতামত দিতে হয় সে সম্পর্কে আরেকটু জানাশোনা বাড়ানো যায় কি না?
জানি, আপনি ছেলে ও বউ-মার ভালো চান। তাই সব ক্ষেত্রে বলতে থাকেন, এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। মানি, আপনি তাদের কোনো ক্ষতি চান না। তাই তাদের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও স্পেস দেন না। যদি সমস্যা হয়, সব সিদ্ধান্তে মতামতকে চাপানোর চেষ্টা করেন।
তবে ভালো হতো না, আপনার ছেলে-বউ-মা আপনার জীবদ্দশাতেই আপনারই চোখের সামনে ভুল করে ঠেকে, শিখে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করত? মায়ের হয়তো ছেলের কষ্ট দেখতেও কষ্ট হবে, তারপরও সোনার খাদ দূর করতে হলে তাকে তো আগুনেই রাখতে হয়।
📄 ভুল সংশোধনের নিমিত্তে ভুল পদ্ধতি
• ছেলে বাইরে থেকে বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই—'জানিস, তোর বউ আজ কী করেছে!' ব্যস শুরু হয়ে গেল এক ঘণ্টার ...।
• সামান্য ঘরটা ঝাড়ু দিতে পারে না, অপয়া একটা!
• তরকারিতে লবণ কম বা বেশি হলে—কী যে রাঁধে, মুখে তোলা যায় না! আর নিচে পুড়ে গেলে তো কথাই নেই! সব ধ্বংস করে ফেলবে, সংসারটা উচ্ছন্নে যাবে!
• বাপ-মা কিছুই শেখায়নি নাকি? আনকালচার্ড!
এই ধরনের বাঁকা কথাগুলো শাশুড়িরা যে শুধু খোঁচা দেয়ার জন্যই বলেন তা না; বরং তারা চান তার জীবদ্দশাতেই বউ-মা যেন সংসারের সবকিছু ঠিকঠাক মতো বুঝে নিতে পারে। ভুলগুলো যেন শুধরে নিতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে এই সংসারের হাল তো তাকে ধরতে হবে। বউ-মার যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য শাশুড়িরা তাকে নিখুঁত করার মিশনে নামেন।
নিঃসন্দেহে কোনো মানুষই নিখুঁত না, সবারই কিছু না কিছু ভুল হয়। আর অভিজ্ঞ চোখে আনাড়ির ভুল খুবই স্পষ্ট দেখা যায়। নজর করে দেখলে আনাড়ি বউ-মার অনেকগুলো ভুল চোখে আসে। আচরণের ভুলভাল দিকগুলো চোখে আসার পর শুরু হয় ভুল সংশোধন পর্ব। ভুল দেখলে সেগুলোর সংশোধন তো ভালো কথা; কিন্তু এই সংশোধনের পদ্ধতিতে যদি সমস্যা থাকে তখন ভুল দূর করা খুব কঠিন হয়ে যায়।
ভুল সংশোধনের জন্য ভুল পদ্ধতির প্রয়োগ বা পুত্রবধূর সমালোচনায় ইসলামি রীতিনীতি না জানা বা না মানা শাশুড়ি-মায়ের একটি ভুল। ভুলের বিষয়গুলো সরাসরি না বলে বাঁকা কথায় বলা, ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলা, আগে বউ-মাকে না বলে ছেলের কানে বউ-মার বিরুদ্ধে কথা লাগানো, কথায় কথায় 'মা-বাবা কিছুই শেখায়নি' বলা, ভুল সংশোধনের জন্য বউ-মাকে সময় না দিয়ে ভুল নিয়ে বেশি মাতামাতি করা, পরিবারের বাইরের মানুষজনের কাছে বউ-মার বদনাম করে বেড়ানো ইত্যাদি বউ-মার ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে এই সমস্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা নিঃসন্দেহে শাশুড়ি-মায়ের একটি ভুল।
অনেকে শুধু অপদস্থ করার জন্যই ভুল ধরেন, তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যারা বউ-মার সত্যিই ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে ভুল ধরেন, তাদেরকে অবশ্যই সংশোধনের পদ্ধতির দিকে নজর দিতে হবে। পদ্ধতি হবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও কার্যকরী, যেন বউ-মার শাশুড়ির প্রতি শ্রদ্ধার অনুভূতিটুকুও অটুট থাকে এবং সে সংসারের মারপ্যাঁচগুলোও দ্রুত শিখে নিতে পারে। সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না।
ঘরের ভেতর আরেকটি বিষয় দেখা যায়, ঘরে বউ আসার পরে ঘরের সবাই বউয়ের ভুল ধরতে উঠেপড়ে লেগে যায়। তাদের নিজেদের কী ভুল হচ্ছে সেদিকে খেয়ালটা খুব কম থাকে। নিজের ভুলগুলো না দেখে অন্যের ভুল ধরায় ব্যস্ত হয়ে ওঠা নিঃসন্দেহে ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। শাশুড়ি হিসেবে شাশুড়ি-মায়ের কোনো ভুল হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে সচেতনতা কম দেখা যায়; বরং বউ-মা হিসেবে বউ এর কী কী ভুল হচ্ছে সেটা নিয়েই জটলা বেশি হয়। 'অপরের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ধরা' দৃষ্টিভঙ্গি বউ-মার ভুল সংশোধনে এক বড়সড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
বউ-মার ভুল সংশোধন করতে যাওয়াটা কোনো অন্যায় না; কিন্তু এই ভুল সংশোধন করতে যে সমস্ত অন্যায় পথ অনুসরণ করছি, সেগুলো অন্যায়।
তবে এক কাঠিতে ঢোল বাজে না। ভুল সংশোধনে শাশুড়ির সচেতনতার পাশাপাশি বউ-মারও সচেতনতা প্রয়োজন। ভুল সংশোধনের সঠিক পদ্ধতির প্রতি শাশুড়ির চেষ্টা-মেহনতের পাশাপাশি প্রয়োজন ভুল কাটিয়ে উঠতে বউ-মার দৃঢ় ইচ্ছা।
📄 বউ-মাকে মেয়ের মতো মনে করা
- তোমাকে মেয়ের মতো মনে করি, কিন্তু তোমার মধ্যে কখনো আমাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখি না!
- তোমাকে মেয়ের মতো মনে করি, তারপরেও তুমি এমনটা করতে পারো?
আমাদের সমাজে ভাবিকে মায়ের মতন, জামাইকে ছেলের মতো, শাশুড়িকে আপন মায়ের মতো বা বউ-মাকে মেয়ের মতো মনে করার একটা ধারা আছে। নিঃসন্দেহে এগুলো খুব শ্রুতিমধুর। হাতেগোনা কিছু পরিবার এ দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছে। বাকিরা সুবিধা নিয়েছে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এ ধরনের বুলি আওড়ানোর পেছনে লুকিয়ে থাকে স্বার্থ হাসিল বা সুবিধা আদায়।
পরিবারের একেকজন সদস্যকে একেকভাবে সম্বোধন করা হয়। তাদের পদবি ভিন্ন, অধিকার আর দায়িত্বও ভিন্ন। মায়ের দায়িত্ব শাশুড়ি থেকে ভিন্ন, মেয়ের দায়িত্ব বউ-মার থেকে ভিন্ন। এটাই সংসারের সৌন্দর্য এবং দিনশেষে এটাই বাস্তব।
পরিবারের সকল সদস্যকে তার সম্মান এর যথাযথ জায়গায় রাখতে পারলেই পরিবারগুলোকে বেশি সুন্দর দেখায়। যার জন্য যে আচরণ প্রাপ্য তার সাথে সে আচরণই উত্তম।
এ ছাড়া আমাদের পথপ্রদর্শক সাহাবায়ে কেরামের নবী-প্রেমের বিভিন্ন নজির আছে। একবার উনারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সম্মানার্থে সিজদা করার অনুমতি চেয়ে ছিলেন। কিন্তু নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দেননি। সিজদা শুধু আল্লাহ তাআলার জন্যই।¹⁸ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা হলো, যার যে মর্যাদা তাকে তা-ই দিতে হবে।
বউ-মাকে বউ-মা হিসেবে মর্যাদা দিলেই সেটা যথেষ্ট। আর একজন বউ-মার জন্য মেয়ে ভূমিকা পালন করার চেয়ে বউ-মা হিসেবে ভূমিকা পালন করা বেশি সহজ ও বাস্তবসম্মত। এতে বউ-মা নতুন সংসারে তুলনামূলক চাপমুক্ত থাকে আর শাশুড়ি-মায়েরও বউ-মার প্রতি লাগামহীন আশা তৈরি হয় না।
টিকাঃ
১৮. মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২৪৪৭১। শায়খ শুআইব আরনাউতের মতে এই বর্ণনার সনদ দুর্বল। তবে সহীহ সনদে মুআজ ইবনু জাবাল রাযি.-এর ব্যাপারে এককভাবে সমার্থক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। সুনানু ইবনি মাজাহ, হাদীস নং ১৮৫২। সহীহ লিগায়রিহি।
📄 তুলনা
- অমুকের বউ-মার কাজের ধারই আলাদা, দেখতে যেমন সুন্দর হাতের কাজও তেমন সুন্দর!
- একহাতে সংসার সামলানো, বাচ্চার দেখাশোনা আবার চাকরি! কী যে গুণী মেয়ে! সচরাচর দেখা যায় না। কপাল! কপাল! তা না হলে এমন বউ পায়! অমুক আপার কপালের জোর আছে।
আর অমুকের বউটা যে কী লক্ষ্মী! এত ব্যস্ততা তারপরও সবার দিকে কত খেয়াল! বাচ্চাদের যত্নে যেমন চৌকোনা তেমনি স্বামীর যত্ন। আসলেই ঘরের লক্ষ্মী।
আমার মেয়েই কি সংসারের জন্য কম করে? কী করে না শ্বশুরবাড়ির মানুষের মন জোগাতে! আর আমার বেটার বউ!
-আমিও একসময় বাড়ির বউ ছিলাম! সারাদিন এত এত কাজ করতাম! আমার মতো এত কাজ তো তোমাদের করা লাগে না।
ওপরের উদাহরণগুলোতে পুত্রবধূর গুণের সাথে অন্যের তুলনা করা হচ্ছে। অনেক শাশুড়ি আছেন যারা কথায় কথায় তুলনা করেন। অনেকে বোঝে, বউকে উপদেশ দেয়া মানেই তুলনা করা। যাতে তার বউ-মাও অমুকের অমুক গুণ নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারে। এ কারণে তুলনা করে শেখান। এই কৌশল কেমন কাজ করে উনারাই জানেন!
আবার অনেকে দমিয়ে রাখার প্রবণতা থেকেও তুলনা করেন। পুত্রবধূকে চাপের মধ্যে রাখার একটা সহজ উপায় হলো, তাকে অন্যের সাথে তুলনা করে হেয়-প্রতিপন্ন করা। এভাবে শেখালে বউ-মা কতটুকু শেখে সেটা বলা মুশকিল, তবে এটা নিশ্চিত যে সে অপমানিত বোধ করে।
এসব শুনতে শুনতে বউ-মার মনে হয়, অন্যের বউ-মা এত ভালো, এত গুণী, এত সুন্দরী, এত পরিশ্রমী—সব ভালো গুণ তাদেরই আছে, আর আমার কিছুই ভালো না। অন্যের ভালো দিক খুব চোখে পড়ে, কিন্তু আমার ভালো কোনো দিক কখনোই চোখে পড়ে না। বউ-মার মনে ক্ষোভ জমে, শাশুড়ির প্রতি বিতৃষ্ণা বাড়ে।
উৎসাহ দিলে বা প্রশংসা করলে যে কাজটা হয়, তুলনা করলে এর ঠিক বিপরীত কাজটা হয়। ছেলের বউয়ের মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্য নতুন করে দেখতে চান, সেগুলো সরাসরি তাকে বলুন। হয়তো বলবেন, সরাসরি বলে তেমন একটা কাজ হয় না! সরাসরি বলে যদি কাজ না হয়, তবে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলে বা খোঁচা মেরে বললেও কাজ হবে না। তাই বাইরের কারও সাথে অসামঞ্জস্য তুলনা করে শাশুড়ির মায়ের নিজের ব্যক্তিত্বকে ছোট করার কোনো মানে হয় না।
আর তা ছাড়া আজ যাকে দেখে তুলনা করছি, কাল তার বড় কোনো খারাপ দিক আলোচনায় আসবে না—তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে?