📘 অন্দরমহল বউ শাশুড়ির সম্পর্কের সমীকরণ > 📄 রাগ হচ্ছে কেন? আর রাগ দেখাচ্ছি কোথায়?

📄 রাগ হচ্ছে কেন? আর রাগ দেখাচ্ছি কোথায়?


৬. রাগ হচ্ছে কেন? আর রাগ দেখাচ্ছি কোথায়?
ধুমধাম করে দরজা লাগাচ্ছি!
থালাবাসন ধুয়ে ঝুড়িতে এত জোরে রাখছি যে, ঝনঝন শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছে পুরো বাড়ি।
বাচ্চা এসে বরাবরের মতো স্বাভাবিকভাবে কোনো আবদার করল, দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম।
কারণ কী? বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা কোনোভাবে ক্যান্সেল হয়েছে! তাই আমার সাধ্যের মধ্যে যত উপায় ছিল তার সাহায্যে বিদ্রোহ শুরু করে দিয়েছি।
যে কারণে রাগ হয়েছে সেটা না বুঝে বা সে ক্ষেত্রে রাগের বহিঃপ্রকাশ না করে অন্যভাবে প্রকাশ করা অনেকেরই অভ্যাস।
রাগের কারণ ঘটেছে এক জায়গায় আর রাগ দেখাচ্ছি আরেক জায়গায়— নিঃসন্দেহে একটা বড় ভুল!
দেখা গেল রাগ হয়েছে শাশুড়ির কারণে, প্রয়োগ করছি বাচ্চাদের ওপর। সামনে যে আসছে বকাঝকা করছি, চিল্লাচ্ছি, বাচ্চাদের মারধর করছি; কিন্তু এদের ওপর আমার কোনো রাগই নেই। রাগের গলায় কিছুতেই দড়ি পড়াতে পারছি না, রাগই আমার গলায় দড়ি পড়িয়ে আমাকে ঘোরাচ্ছে। গল্পগুজব বা আড্ডাগুলোতে অনেক আপুই এভাবে বলেন।
খুব কম মানুষই আছেন, যারা তাদের রাগের প্রভাবকে বেডরুম পর্যন্ত ঢুকতে দেন না। বাইরের যেকোনো উৎস থেকে রাগ হচ্ছে, আর এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আপনি একের পর এক অ্যাঙ্গার এপিসোড ঘটিয়ে যাচ্ছেন। সবার প্রথমে আপনি নিজে কষ্ট পাচ্ছেন, সবাই আপনাকে রাগী ভাবছে, কিন্তু আপনি রাগী হতে চাননি।
নিজের রাগটা বুঝতে না পারাটা একটা ব্যর্থতা আর নিজের রাগটা বুঝতে না চাওয়াটা আরেক ভুল সিদ্ধান্ত।
রাগ আমাদের একটা স্বাভাবিক আবেগ। আবেগকে কখনো নষ্ট দেওয়া যায় না। আবেগের বহিঃপ্রকাশ যেন যথাযথ হয়, রাগের ভারসাম্যহীনতায় নিজের সম্ভাবনাগুলো যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য রাগ এর উৎপত্তিস্থলগুলো পরিষ্কারভাবে বোঝা চাই, এরপর ব্যবস্থা গ্রহণ।

📘 অন্দরমহল বউ শাশুড়ির সম্পর্কের সমীকরণ > 📄 অমুক ভাবির এটা আছে, অমুক ভাবির ওটা নেই

📄 অমুক ভাবির এটা আছে, অমুক ভাবির ওটা নেই


৭. অমুক ভাবির এটা আছে, অমুক ভাবির এটা নেই
বিয়ের পর অনেকের মধ্যে কিছু কিছু চাহিদা প্রবল হয়ে ওঠে! অমুক ভাবির বাসায় গিয়েছিলাম, তাদের অমুক জিনিসটা আছে, আমার ওইটা লাগবে। এটা ছাড়া আমার চলবেই না, সেটা আমার চাই। তাদের সেই জিনিসটা আছে, আর আমার থাকবে না তা কি হয়!
আবার অমুক ভাবির এই জিনিসটা নেই, তার মানে এই জিনিসটা আমার লাগবে। এই জিনিস যদি আমার থাকে, তাহলে আমি ভাবির চেয়ে এগিয়ে যাব। আরেকজনের থেকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার এটা একটা সহজ পথ—তার যা নেই তা আমার থাকতে হবে! চিন্তা করা যায় কী অসুস্থ প্রতিযোগিতা!
বলুন তো, বিভিন্ন জিনিসের প্রতি চাহিদা তৈরির পেছনের কারণ কী—লোক-দেখানো, রুচিশীল প্রয়োজন নাকি অসুস্থ প্রতিযোগিতা? কী কারণে আমরা কোনো জিনিস কিনি? আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তালিকা কি অন্য ভাবির 'জিনিসপত্র' নির্ধারণ করে দিচ্ছে?
অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, এই ধরনের চাহিদা পূরণ না হলেও আমাদের ভীষণ মন খারাপ হয়, নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, সংসারের কোনো কাজে মন বসে না, আরও কত কী!
অনেকেই নতুন সংসার শুরু করার পর যা যা প্রয়োজন সেটা অন্যান্য ভাবিদের হাতে ছেড়ে দেন! মাপকাঠি বানান ভাবিদের জিনিসপত্রকে! নিজের রুচিবোধ, ব্যক্তিত্ব, আয়, প্রয়োজন ইত্যাদিকে সামনে রেখে চাহিদা বা পছন্দ নির্ধারণ করছি কি না? আপনি পরামর্শ নিতে পারেন, তাই বলে ওই রঙের, ওই ব্র্যান্ডের, ওই জিনিসই আপনার লাগবে! এসব কি প্রতিযোগিতা করার মতো কোনো বস্তু? জুলুম হয়ে যায় না?

📘 অন্দরমহল বউ শাশুড়ির সম্পর্কের সমীকরণ > 📄 বাচ্চার দেখাশোনার জন্য শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে থাকা

📄 বাচ্চার দেখাশোনার জন্য শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে থাকা


৮. বাচ্চার দেখাশোনার জন্য শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে থাকা
অনেকেরই আফসোস, আমার শাশুড়ি যদি আমার ছেলেমেয়েদের একটু দেখত, তাহলে ক্যারিয়ারটা আমার এমন হতো না!
সংসারের কাজের চাপে বাচ্চার খাওয়ানোর সুযোগ পাচ্ছি না, একটু খাইয়ে দেবে না!
অনেকে আবার শাশুড়ির কাছে বাচ্চা রেখে নিজের কাজে যান। ফিরে এসে যখন দেখেন, বাচ্চার যত্নে কোনো কমবেশি হয়েছে, তখন রাগে বিরক্তিতে গজগজ করতে থাকেন।
আপনার বাচ্চা পালনের দায়িত্ব কি আপনার শাশুড়ির?
উনার যথেষ্ট বয়স হয়েছে, উনি তো সবকিছু করেই এ পর্যায়ে এসেছেন; বরং উনার পরিমিত বিশ্রাম হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে আপনার খেয়াল রাখা উচিত। উনারা সুস্থ থাকলে আপনারই মঙ্গল।
আপনি এখন আছেন আপনার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়ে। এ সময়ে বাচ্চা সামলানো, সংসার, আত্মীয়-স্বজন, ব্যক্তিগত কাজকর্ম সবকিছু সমানতালে এগিয়ে নেয়া আপনার জন্য কোনো ব্যাপারই না। কেন মনে করছেন আপনার শাশুড়ি সাহায্য না করলে আপনি সামনে এগোতে পারবেন না? সব মানুষ তো এক রকম না!
ঠিক, আশেপাশে মানুষের সাহায্য-সহায়তা থাকলে কাজ করা সহজ হয়। কিন্তু এসব সহায়তা না থাকলে আপনি দমে যাবেন? আপনি কি আপনার স্বপ্ন পূরণে অন্যের মুখাপেক্ষী?

📘 অন্দরমহল বউ শাশুড়ির সম্পর্কের সমীকরণ > 📄 বাবার বাড়ির গল্পে মুখরিত থাকা

📄 বাবার বাড়ির গল্পে মুখরিত থাকা


৯. বাবার বাড়ির গল্পে মুখরিত থাকা
বাবার বাড়ি নিয়ে মুখরিত বউ-মাদের কয়েকটা ক্যাটাগরি দেখা যায়:
বাবার বাড়ির অতীত ঐতিহ্য-সমৃদ্ধ এবং তারা এ কারণে গর্বিত, আত্মতৃপ্ত, কিছুটা অহংকারী।
আরেক ক্যাটাগরি, তাদের বাবার বাড়ির অতীতটা ততও সমৃদ্ধ না, কিন্তু ভবিষ্যতে হবে সেই দিবা-স্বপ্ন দেখেই আত্মতৃপ্ত ও অহংকারী।
আরেক ক্যাটাগরি, অতীত যেমনই হোক তাদের বাবার বাড়ির বর্তমান অবস্থা ভালো, ভাই-বোন, মা-বাবা পরিশ্রমী এবং সেই গর্বেই বোন আত্মতৃপ্ত, অহংকারী।
আরেক ক্যাটাগরি, এত ভাবাভাবি বোঝাবুঝির সময় নেই, যা বলতে ইচ্ছা করছে বলছি, জানি তাই বলছি! অহংকার করছি নাকি তৃপ্তি পাচ্ছি কিছুই বুঝতে পারছি না! যেহেতু বাবার বাড়িতে এতদিন থেকেছি, এ সম্পর্কে অনেক কিছু জানি, এ নিয়ে একটু বেশিই বলছি! অনেকে তো আছে, শ্বশুরবাড়িতে এসে তার বাবার বাড়ির মানুষদের সম্পর্কে জানানোর জন্য প্রায় প্রতিটা প্যারাতেই বাবার বাড়ি সম্পর্কে দু-একটা বাক্য বলেন।
ভাবিদের আড্ডায়, গল্পে বাবার বাড়ির গুণগানে মুখরিত থাকে! যাদের কথাবার্তায় বারবার আমি আমার আমাদের এই শব্দগুলো আসে; যারা নিজেদের নিয়ে অতিমাত্রায় তৃপ্ত, তাদের অধিকাংশই সাধারণত অহংকারী, কিছু অংশ নির্বোধ টাইপেরও হয়। কথার মধ্যে বারবার ভেসে আসে, আমার বাবার প্রভাব এত, আমার ভাইয়েরা এই, আমার স্ট্যাটাস ওই, ইত্যাদি ইত্যাদি।
সত্যি কি জানেন, আপনার গল্প কে শুনতে চায়? কেউ তো অন্যের গল্প শুনতে চায় না। আগ বাড়িয়ে নিজের গুণকীর্তন করে অন্যের বিরক্তির কারণ কেন হবেন? জমিনের চারাগাছ যখন মহিরুহে পরিণত হয়, লোকে আপনি তা দেখতে পায়।
বাবার বাড়ির ঐতিহ্য, বংশের গৌরব গল্প করে বলতে যাবেন কেন? বংশীয় বাড়ির মেয়ের মতো দেখিয়ে দিন-শৃঙ্খলা আর ভালো অভ্যাস কীভাবে আপনার পূর্বপুরুষকে সমৃদ্ধ করেছে। যেসব কাজ আপনাদের অতীতকে সফল করেছে, তা দৃঢ়তা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে আপনিও বয়ে বেড়াচ্ছেন, তা দেখিয়ে দিন।
হিসেবে খাতা খুলে চোখ বড় বড় করে আরেকবার তাকিয়ে দেখা যাক— অতীতের সফলতার গল্প আপনাকে ধোয়াচ্ছন্ন করে ফেলেছে কি না? ব্যর্থতার কারণ আপনার সাফল্য না তো?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00