📘 অন্দরমহল বউ শাশুড়ির সম্পর্কের সমীকরণ > 📄 গুরুর কথা

📄 গুরুর কথা


বিয়েতে কবুল বলার সাথে সাথে একদম নতুন ধরনের অনেকগুলো সম্পর্ক তৈরি হয়। নতুন সম্পর্কের রেশ ধরে মায়েরা শাশুড়ি হয়ে যায়, মেয়েরা বউ-মা হয়ে শ্বশুরবাড়িতে যায়।
সেখানে সম্পর্কগুলোই শুধু নতুন না। সেখানকার পরিবেশ, মানুষজনের চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস, মতামত ও মতামত দেয়ার পদ্ধতি, রান্নার স্বাদ, ঘ্রাণ, পারিবারিক গল্প, গল্পের বিষয়বস্তু সবকিছু নতুন। ভিন্নধারার এসব পরিস্থিতির সাথে বউ-মাকে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। শুধু বউ-মারই নতুন অভিজ্ঞতা হয় তা নয়, শাশুড়ি-মাকেও অনেক নতুনত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এসব নতুন সম্পর্ক ও পরিস্থিতিগুলোকে যথাযথভাবে সামলে নিতে বউ-শাশুড়ির একমাত্র পুঁজি—মা-খালা-ফুপু-দাদি-নানির উপদেশ, অভিজ্ঞতা। মা-খালাদের অভিজ্ঞতাগুলো স্বাভাবিকভাবেই পনেরো-বিশ বছরের পুরোনো, আর দাদি-নানিদের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে ত্রিশ-চল্লিশ বছরের পুরোনো। অভিজ্ঞতাগুলো নিঃসন্দেহে মূল্যবান। কিন্তু জেনারেশন গ্যাপ এর কারণে সব অভিজ্ঞতা বা উপদেশ মূল্যবান হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব ময়দানের সবকিছু কাভার করে না, আবার সব পরিস্থিতিতে খাপও খায় না।
আবার উনারা হয়তো উনাদের সমস্যাগুলো যেকোনো উপায়ে সমাধা করে ফেলেছেন, কিন্তু আরেকজনকে শেখানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় সমাধানটা ঠিকঠাক গুছিয়ে বলতে পারেন না।
আরেকটা বিষয়, বউ-মা অথবা শাশুড়ি-মা যখন তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা আপনজনদের সাথে শেয়ার করেন, তখন কেউ হেসে উড়িয়ে দেয়, কেউ খুবই হালকাভাবে নেয়, কেউ কেউ মজা হিসেবে নেয়। আবার কেউ কেউ এত আবেগি হয়ে যান যে আপনজনের সমস্যার কথা শুনে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। আবার অনেক সময় এসব সমস্যা এতটা ইউনিক হয় যে মা, খালা বা বড় আপাদের বলে বোঝানো সম্ভব হয় না। তখন মোটাদাগে বাস্তবসম্মত কিছু নির্দেশনার দরকার হয়।
এই বইতে বউ-শাশুড়ি সম্পর্কের সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে, কিছু সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা যে আপনার সব সমস্যার সমাধা করে ফেলবে এমন না, তবে আগে কোনো সমস্যায় পড়লে হয়তো 'ক' 'খ' দুইটি সমাধান নিয়ে ভাবতেন, এখন হয়তো আরও অতিরিক্ত 'গ' 'ঘ' দুইটি সমাধান নিয়ে ভাবতে পারবেন।
এই বইটিকে মূলত তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে।
১. বিবাহিতার কিছু ভুল ধারণা
২. শাশুড়ি-মায়ের কিছু ভুল ধারণা
৩. সম্পর্ক উন্নয়নে করণীয় (তিনটি ভাগে এ অংশটি বিভক্ত)
ক. বউ-মা ও শাশুড়ি-মায়ের উভয়ের কিছু কাজ
খ. শাশুড়ি-মায়ের করণীয় কিছু দিক
গ. বউ-মার করণীয় কিছু দিক
দেখুন, আমরা যখন ঘরবাড়ি গোছগাছ করি তখন সবার আগে ময়লা- আবর্জনাগুলো সরাই। এখন আপনি যদি না চেনেন কোনটা আবর্জনা আর কোনটা প্রয়োজনীয় জিনিস, তাহলে আপনি চাইলেও ঘরটা সুন্দরভাবে সাজাতে পারবেন না। তেমনি আপনি যদি না জানেন আপনার কী কী ভুল হচ্ছে, তাহলে ভুল দূর করবেন কীভাবে? এই বইয়ের প্রথম দুই ভাগে ভুল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
আবর্জনা চিনে সরিয়ে ফেললেন, ঘর পরিষ্কার হলো। এখন ঘরটাকে যদি আরেকটু সুন্দর করে সাজাতে চাই তাহলে আমাদের আরও কিছু জিনিসপত্র প্রয়োজন হবে। এই বইয়ের শেষাংশে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র (অর্থাৎ, পদক্ষেপ) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00