📄 জবান ও অন্তরের সুধারণা - মুখের কথায় নিজেকে গড়েন
দশম পদক্ষেপ
জবান ও অন্তরের সুধারণা
মুখের কথায় নিজেকে গড়েন
আয়েশা রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
‘কেউ যেন এভাবে না বলে, আমার অন্তর নষ্ট হয়ে গেছে। (আরবি ‘খিব্স’ শব্দ উচ্চারণ করে।) বরং যেন বলে, আমার অন্তর মন্দ হয়ে গেছে। ১৪৪ (আরবি ‘লুক্স’ শব্দ করে)
‘খিব্স’ এবং ‘লুক্স’ শব্দ দুটির অর্থ যদিও এক; কিন্তু ‘খিব্স’ শব্দটি নোংরা, শ্রুতিকটু ও একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখায় তিনি এই শব্দের ব্যবহার পছন্দ করেননি। আকিদার ক্ষেত্রে এর অর্থ আসে বাতিল। কথার ক্ষেত্রে এর অর্থ হয় মিথ্যা। কাজের ক্ষেত্রে অর্থ হয় নিকৃষ্টতা। তবে ‘লুক্স’ শব্দটি এমন নয়। এর অর্থ আসে অবসাদ, মন্থরতা এবং এর মধ্যে ভদ্রতার আভাস আছে।
ইবনু হাজর আসকালানি রাহিমাহুল্লাহ এই হাদিস থেকে অনেকগুলো চমৎকার ফায়েদা বের করেছেন এবং আমাদের জন্য উপহার দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হাদিস থেকে যেসব বিষয়ে শিক্ষা নেওয়া যায়-
১। অশ্লীল শব্দ ও নাম উচ্চারণ থেকে বিরত থাকা এবং অশ্লীলতা নেই এমন নাম রাখা ও উচ্চারণে মনোযোগী হওয়া।
২। মানুষ ভালোর অন্বেষী। এমনকি শুভ লক্ষণের মাধ্যমেও তা অন্বেষণ করা যায়।
৩। যে কোনোভাবেই হোক, মানুষ নিজের দিকে কল্যাণকে সম্পৃক্ত করে।
৪। যথাসম্ভব অকল্যাণকে নিজের থেকে দূরে রাখে।
৫। নিজের মাঝে এবং পাপীর মাঝে বন্ধন ছিন্ন করে দেয়। এমনকি যৌথ অর্থবোধক শব্দের ক্ষেত্রেও।
৬। দুর্বলকে তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করা হলে এভাবে বলবে না যে, আমি ভালো নেই; বরং বলবে, আমি দুর্বল।
৭। নিজেকে ভালোদের কাতার থেকে বের করে দলে নির্ঘাত মন্দদের সাথে জড়িয়ে পড়তে হবে।১৪৫
সুতরাং, আপনার কথাই আপনাকে গড়ে তুলবে। আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের নকশা এঁকে দেবে। আপনার উচ্চারিত হয়তো আপনাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেবে, নয়তো রাস্তার মধ্যভাগে এনে রাখবে। সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু যা শিখেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের হাত ধরে। ইবনু আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু ‘আমি অলস’ বলতে খুবই অপছন্দ করতেন। ১৪৬
এমনকি মুমিন কবিগণ আলোকিত নববীপথে শুভযাত্রা করেছেন। তারা সু-ধারণা পোষণ করার পরামর্শ দিয়ে গেছেন এবং যেকোনো বিষয়ে উজ্জ্বল দিকটি প্রকাশ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকেছেন। তরবারী ও কলমের সৈনিক কবি মাহমুদ সামি আল-বারুরি তার সহচরদের উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন—
হে সম্মানিত কবি ভাবনায় ডুব দাও * ভেতর থেকে মধ্যমপন্থী কথা বের করো
মন্দকে তিরস্কার করতে যেয়ো না; বরং সম্মানিত ব্যক্তির প্রশংসা করে যাও
সম্মানিত ব্যক্তির প্রশংসাই মন্দের নিন্দা।
টিকাঃ
১৪৪ হাদিসের মান : সহিহ, সাহল ইবনু হুনাইফ রা. এর সূত্রে বুখারি ও মুসলিমুসসহিহুল জামে: ৭৭৫৯ নং হাদিস
১৪৫ ফাতহুল বারি: ১০/৫৬৪, ইবনু হাজর আসকালানী, দারুল মারেফা
১৪৬ মুসান্নাফু ইবনি আবী শাইবা: ৫/৩২০, মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ
📄 নীতিমানের কিছু শব্দ - কিছু উঁচুমানের শব্দ
নীচুমানের কিছু শব্দ
↓ আমি অলস।
↓ আমি পারি না।
↓ অনেকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।
↓ কোনো ফায়দা নেই।
↓ এই কাজ খুব কঠিন ও কষ্টসাধ্য।
↓ অসম্ভব।
↓ আমি শেষ।
এই কথাগুলো আমি নীচের দিকে তিরচিহ্নযুক্ত লাইনে ধারাবাহিক লিখেছি। কারণ, এই কথাগুলো মানুষকে একেবারে তলানিতে নিয়ে নিক্ষেপ করে। ভালো কাজ করতে দেয় না। অলসতা থেকে হতাশা ও ব্যর্থতায় টেনে নেয়। তাই শব্দগুলো নীচের দিকে থাকাই শোভনীয়। সুতরাং আজকের পর থেকে কোনো কথাকেই ছোট করে দেখবেন না। এগুলো কখনো উচ্চারণ করবেন না। দরকারে খুব হিসেব করে এগুলোর প্রয়োগ করবেন।
কিছু উঁচুমানের শব্দ
↑ আমি উদ্যোগী হবো।
↑ আমি বার বার চেষ্টা চালাব। এই পথ ধরেই আমার সফলতা আসবে।
↑ আল্লাহর প্রতি আশাই সবচে বড়ো।
↑ এই কঠিন কাজে আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য কামনা করি।
↑ সর্বাবস্থায় প্রশংসা আল্লাহর।
↑ এ-বিষয়ে আশা রেখেই যাব।
↑ কখনো নিরাশ হবো না।
↑ আল্লাহ আমার সাথে আছেন।
এই লাইনগুলো আপনাকে উপরের দিকে নিয়ে যাবে। কারণ, এগুলো আপনার মনোবল বৃদ্ধি করে। আপনার তন্দ্রা দূর করে। শয়তানকে ক্রোধান্বিত করে। তার চক্রান্ত ও ফাঁদগুলো ভেস্তে দেয়। সুতরাং, আপনি যদি মন-মগজে এগুলোকে গেঁথে নিতে পারেন, তবে আপনার উন্নতিতে কোনো সংশয় নেই। এই শব্দগুলোই আপনার জন্য সফলতার পথ তৈরি করে দেবে।