📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 কীভাবে - মৃত্যুর চতুর্ভুজ

📄 কীভাবে - মৃত্যুর চতুর্ভুজ


যতক্ষণ আপনার ঠিকানা অজানা, ততদিন আপনার শ্রম দিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই এবং দু চোখে ঘুম আসারও কথা নয়। কেউ একজন যথার্থই বলেছেন—
চোখ কীভাবে পরিতৃপ্ত হয়ে ঘুমায়
অথচ সে জানে না, দুই বাড়ীর কোনটিতে তার ঠাই হবে!’
*অসুস্থতা
বান্দার ওপর অসুস্থতা সওয়ার হয়ে তাকে মনে করিয়ে দেয় অত্যাসন্ন সফরের কথা। খুলে দেয় পরকাল নিয়ে ভাবার দরজা। কত স্বাভাবিক অসুস্থতায় মানুষ আক্রান্ত হয়! কত তীব্র অসুস্থতা বান্দাকে কবরে নিয়ে যায়! নিশ্চয়ই অসুস্থতা মৃত্যুর হুশিয়ারি। অসুস্থতা আর মৃত্যুর মাঝে সামান্য এক চুলের তফাৎ। এজন্যই কোনো এক সালাফ বলেছেন—
কোনো বান্দা দুইবার অসুস্থ হওয়ার পরও যখন তাওবা করে না, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে বলে, ওহে উদাসীন! আমার পক্ষ থেকে তোমার কাছে পর পর দুবার বার্তাবাহক এল। তবুও তুমি তাওবা করলে না! ১২২
কীভাবে প্রকাশ্যে ও গোপনে আমল না করে থাকেন? অথচ সবার মতো আপনার বেলাতেও দিন-রাতের কোনো আমলের সময়ই থেমে থাকছে না?
দিনের পর দিন আপনি নিজের কবরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, প্রতিদিনই আপনার এই ক্ষণস্থায়ী ঠিকানা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, পরকাল যতই আপনাকে কাছে টানছে কবর তত বেশি নিকটবর্তী হচ্ছে আর আপনার অলসতাও বাড়ছে
মৃত্যু নিকটবর্তী হচ্ছে আর উদ্যমতা প্রশমিত হচ্ছে
আপনার ব্যস্ততা কেবলই হিসাব আর চেক নিয়ে
আপনার মন এখনো আটকে আছে সেই টাকা আর চেকের মধ্যেই।
মৃত্যুর চতুর্ভুজ
আব্দুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-
একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং তার মাঝে একটি রেখা টানলেন, যা চতুর্ভুজ অতিক্রম করে বাহিরে চলে গেছে। অতঃপর মধ্য রেখাটির উভয় পার্শ্বে অনেকগুলো ছোট ছোট রেখা টেনে বললেন, (মনে করো) মধ্য রেখাটি একটি মানুষ। আর এই চতুর্ভুজ তার বয়সের সীমানা; যা তাকে ঘিরে রেখেছে। আর ওই রেখার বাহিরের অংশটি তার আকাঙ্ক্ষা। এই ছোট রেখাগুলো তার বিপদাপদ। যদি সে একটি বিপদ থেকে রক্ষা পায় তাহলে পরবর্তী বিপদে আক্রান্ত হয়। যদি সেটা থেকেও রক্ষা পায় তবে এর পরেরটাতে আক্রান্ত হয়। ১২০
এই হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ :
• মানুষের আশা সবসময় তার জীবনের চেয়ে দীর্ঘ হয়।
• আমল কখনো দীর্ঘ হয় তবে তা স্বল্পমেয়াদী। কখনো বিস্তৃত হয় কিন্তু তা সীমিত। এমনকি অপরাধীরা কেয়ামতের মাঠে কসম করে বলবে, তারা কেবল সামান্য সময়ই দুনিয়ায় থেকেছে।
• কারণ অনেক তবে মৃত্যু একটিই। সুতরাং, মৃত্যুর ফেরেশতার সাথে আপনার সাক্ষাতের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত। তবে মৃত্যুর পদ্ধতিতে ব্যক্তিভেদে ব্যবধান হয়।
• আশা সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রতারক। কেননা, এই আশা নিশ্চিত মৃত্যুর ব্যাপারে অমনোযোগী করে রাখে।
• মৃত্যুর পাকড়াও অনিবার্য। এ থেকে পালাবার কোনো পথ নেই। সুতরাং, কবরপথে আপনার যাত্রা এক মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র।
• প্রায়ই আশাময় আয়েশের মাঝপথে মৃত্যু হানা দেয়। ফলে অধিকাংশ আশা বাস্তবায়িত না হতেই মৃত্যুর ডাক এসে যায়। যেমন কবি বলেছেন:
আমরা সকাল সন্ধ্যা ঘুরে বেড়াই নিজেদের প্রয়োজন পূরণে
যেন আমরা অফুরন্ত জীবনের উপকরণ খুঁজে বেড়াচ্ছি
তবে মানুষের সাথে সাথে তার সকল প্রয়োজনগুলোরও মরণ হয়
আর ফেলে যাওয়া প্রয়োজনগুলো এভাবেই পড়ে রয়।

টিকাঃ
১২২ ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, ৪/২৮৯, আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মদ আল-গাযালী আত-তওসী, দারুল মা'রিফা, বৈরুত
১২০ হাদিসের মান: হাসান, আহমাদ, ইবনু মাজাহ্আসসিলসিলাতুস সহিহাহ: ১৭৫১ নং

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00