📄 এক অভিজ্ঞ ব্যক্তির উপদেশগ্রহণ - সফল অভিজ্ঞতার কিছু দৃষ্টান্ত
এক অভিজ্ঞ ব্যক্তির উপদেশগ্রহণ
অনেকেই শরীরের চামড়া রিপ্লেস ও সুন্দর করে; নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার সকল মাধ্যম অবলম্বন করে। তবে খুব কমসংখ্যক লোকই নিজের সাফল্য আলোকিত করতে পারে। অতঃপর নিজের এই শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে নিজেকেই পুরস্কৃত করে; এতে করে তার উদ্দীপনা আরও গতিশীল হয় এবং মনোবল বহুগুণে বেড়ে যায়।
সফল অভিজ্ঞতার কিছু দৃষ্টান্ত
* আপনার কাছে অস্পষ্ট থাকার কথা নয় যে, আপনার উৎসাহ তীব্র থেকে তীব্রতর হবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সান্নিধ্য গ্রহণের মাধ্যমে। যখন আপনি এ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করবেন তখন ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। তাদের হাওদার পেছনে আপনার আসনটিও বেঁধে নেন। তারা আপনাকে তাড়িয়ে দিলেও চলে যাবেন না। তারা আপনাকে গুরুত্ব না দিলেও আপনি তাদের গুরুত্ব দেন।
* কখনো কখনো মানুষ নিজের হিসাব সেরে এই ফলাফল নিয়ে ফিরে যে, সে ফজরের সালাতে যত্নশীল, কিয়ামুল লাইল আদায় করে দীর্ঘ সময় নিয়ে। আরও অন্যান্য ইবাদতের হিসাবও লাভ করে। অধিক সূক্ষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সে খুঁজে পায় যে, প্রতি রাতে নির্দিষ্ট কিছু ইবাদতে সে খুব যত্নশীল। এমতাবস্থায় তার করণীয় হলো, এই কাজগুলোতে তাকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং কখনো যেন বিরতি না এসে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* মানুষ মাঝে মাঝে মনে খুব প্রফুল্ল অনুভব করে; কিন্তু এর বাহ্যিক কোনো কারণ বুঝে আসে না। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সে তার আমলের খাতায় অন্যের কষ্ট ও বিপদ দূর করা এবং অন্যের প্রয়োজনপূরণে সহযোগিতা করার আমল খুঁজে পায়। দেখতে পায় যে, তার দয়াময় প্রভুও তার সাথে তেমনই আচরণ করেছেন। তাকে ঠিক তার কাজের মতোই পুরষ্কার দিয়েছেন। অতএব, ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে সৎকর্মশীলদের কর্মপদ্ধতি।
📄 হিসাব-নিকাশের ফল-৪ - শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা
হিসাব-নিকাশের ফল-৪
শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা
* শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা
কখনো কখনো মানুষ তার ইবাদতে ত্রুটির অভিযোগ আনে না। আমলের সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ না। অথচ সে উচ্চাকাঙ্খী। সন্ধান করে পূর্ণতার এবং আরোহণ করতে চায় পর্বতসম উচ্চতায়। উদাহরণস্বরূপ-
📄 শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা - আপনার জীবনের লক্ষ্য
* শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা
কখনো কখনো মানুষ তার ইবাদতে ত্রুটির অভিযোগ আনে না। আমলের সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ না। অথচ সে উচ্চাকাঙ্খী। সন্ধান করে পূর্ণতার এবং আরোহণ করতে চায় পর্বতসম উচ্চতায়। উদাহরণস্বরূপ-
*আপনার জীবনের লক্ষ্যে
প্রতিটি কাজই যদি আপনি নিজ সাধ্যের পুরোটা দিয়ে পরিপূর্ণ এবং উন্নত করার চেষ্টা করেন, তাহলে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পূর্ণতা আসবেই। ধারাবাহিক এই উন্নতি মহা সফল লোকদের বৈশিষ্ট্য। আর যে ব্যক্তি অর্জিত সাফল্য নিয়েই তুষ্ট থাকে, অন্যজন তাকে অতিক্রম করে চলে যায়। তাকে ফেলে যায় অনুতাপের অতল গহীনে একা রেখে।
📄 আপনার ঈমানি লক্ষ্য - প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই জ্ঞানী আছে
*আপনার ঈমানি লক্ষ্যে*
আপনার মন তিরস্কারকারী। তাই শুধু পাপ থেকে বেঁচে থাকার ধারাবাহিকতা ঠিক রেখেই পরিতৃপ্ত হয়ে গেলে আপনার মন আপনাকে তিরস্কার করবে; বরং এর চেয়েও আশঙ্কার কথা হচ্ছে, এমনটি করার মাধ্যমে আপনার আমলের প্রতিদান হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং সওয়াবের সুযোগ নষ্ট হয়ে যাবে।
তাই নিজেকে তিরস্কার করেন। কারণ, অন্যজন আপনাকে পেছনে ফেলে চলে যাচ্ছে এবং জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা, বিশাল রাজত্ব ও মহাসন্তুষ্টি অর্জন করে নিচ্ছে। পরকাল নিয়ে ঈর্ষা করা নিন্দনীয় কিছু নয়। পরকালের দৌড়ে কেউ আপনাকে পেছনে ফেলে চলে যাচ্ছে, এতে কি আপনার আত্মমর্যাদায় আঘাত হানে না? আপনার এই ঈর্ষা পরকালের দৌড়প্রতিযোগিতায় প্রশংসিত; তবে অন্য ক্ষেত্রে নয়।
একজন মুমিন তার নিজের মন্দ স্বভাবগুলোর হিসাবনিকাশ চুকানোর পর অন্যের মাঝে ভালো স্বভাব-গুণাবলি প্রত্যক্ষ করে নিজের আত্মমর্যাদাবোধ অনুভব করা প্রসঙ্গে ইবনুল মুকাফফা রাহিমাহুল্লাহ বলেন—
বুদ্ধিমানের জন্য উচিত অন্যের ভালো গুণগুলো খুঁজে খুঁজে বের করা। নিজের ভেতরে সেগুলোর বাস্তবায়ন ঘটানো। এগুলোর মাধ্যমে খারাপ দিকগুলোর সংশোধনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। ৮১
এমন এক অন্তর অর্জন করতে পেরেছিলেন ইউনুস ইবনু উবাইদ রাহিমাহুল্লাহ। তিনি কী বলেছেন তা মনযোগ দিয়ে শোনা যাক—
আমি এমন একশ ভালো গুণ খুঁজে পেয়েছি, যার একটাও আমার ভেতরে আছে বলে আমার জানা ছিল না। ৮২
ইউনুস রাহিমাহুল্লাহর মতো করে আপনিও যেদিন শূন্যতা অনুভব করতে পারবেন, হাতছাড়া হয়ে যাওয়া নেককাজগুলোর জন্য অনুতপ্ত হবেন, সেদিনই অনুশোচনার শক্তিকে কাজের সক্ষমতায় পরিণত করেন। অতঃপর আপনাকে পেছনে ফেলে যাওয়া ব্যক্তির নাগাল পেতে প্রাণপণ এগিয়ে চলেন। পুরোদমে চেষ্টা চালিয়ে যান। যেন জান্নাতের দরজায় দাঁড় করানো একশত বিশটি সারির প্রথম সারিতেই আপনার আসন হয়। ৮৩
প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই জ্ঞানী আছে
ফুযাইল ইবনু ইয়াজ রাহিমাহুল্লাহ এর জ্ঞানের গভীরতা এবং দুনিয়াবিমুখতার প্রতি লক্ষ্য করেন। কীভাবে তিনি একজন অপ্রসিদ্ধ ও অপরিচিত লোক থেকে দুনিয়াবিমুখতা শিখেছিলেন! ঘটনাটি তার মুখেই জানি-
আমি খোরাসানের জনৈক ব্যক্তির চেয়ে অধিক দুনিয়াবিমুখ আর কাউকে দেখি নি। তিনি একবার মসজিদে হারামে আমার পাশেই বসে ছিলেন। পরে তাওয়াফ করার জন্য চলে যান। এই ফাঁকে তার টাকা-পয়সা সব চুরি হয়ে যায়। তিনি কাঁদতে শুরু করেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, টাকার জন্য কাঁদছেন? তিনি বললেন, না। তবে এই সম্পদের কারণে আমাকে ও তাকে (চোরকে) আল্লাহ তাআলার সম্মুখে দাঁড় করানো হবে। আমার বিবেক-বুদ্ধি তার প্রমাণ খণ্ডনে মনোযোগী হবে। তখন আমার এই কান্না তার জন্য রহমত হবে। ৮৪
টিকাঃ
৮১ আল-আদাবুস সগীর ওয়াল আদাবুল কাবির: ২০, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা, দারু সাদির, বৈরুত।
৮২ সফওয়াতুস সফওয়া: ২/১৮২
৮৩ বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত আছে, 'জান্নাতীরা, একশত বিশ কাতারে থাকবে আশি কাতার হবে এই উম্মতের বাকী চল্লিশ কাতার পূর্ববর্তী সকল উম্মতের সমন্বয়ে হাদিসটি বুরাইদা রা. এর সূত্রে তিরমিজি, আহমদ, ইবনু মাজাহ এবং হাকিম রহ. বর্ণনা করেছেনড়সহিহুল জামে: ২৫২৬।
৮৪ ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন: ৩/১৮৪