📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 পরাজিত মানসের হিসাব - কালো গল্প

📄 পরাজিত মানসের হিসাব - কালো গল্প


পরাজিত মানসের হিসাব
সায়িদ ইবনু মানসুর রাহিমাহুল্লাহ আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন-
একরাতে আবু উবাইদা মসজিদে থুথু ফেলেন; কিন্তু ভুলক্রমে তা মাটিতে মিশিয়ে না দিয়েই বাড়ি চলে আসেন। রাতে তার অস্বস্তি হতে থাকে। অবশেষে আগুনের মশাল নিয়ে মসজিদে যান এবং তা খুঁজে বের করে ধুলোয় নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন। এরপর বলেন—সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমার জন্য রাতের ভুল লেখেন নি। ৭৩
তার এ কথা বলার কারণ হলো, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
মসজিদে থুথু ফেলা পাপ। আর এর প্রায়শ্চিত্ত হলো তা ঢেকে দেওয়া। ৭৪
এ ছিল আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহুর বিশ্বাস এবং নিজের পরকালীন হিসাবের প্রস্তুতি। লক্ষ্য করেন, ঘুমানোর আগেই কতটা শক্তভাবে নিজের হিসাব করেছেন তিনি। সামান্য থুথু ফেলাকেও তুচ্ছ করে দেখেন নি। নিজের আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলার পরেই বিশ্রাম করেছেন। এরপর প্রশংসার মাধ্যমে এর কৃতিত্ব নিজের সাথে না মিলিয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
আল্লাহর কসম! এমনই ছিল আমাদের বড়দের হিম্মত। বড়ো মনের অধিকারীদের আলামত। তারা কোনো পাপকেই ছোট করে দেখতেন না। কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করতেন না। শয়তানের জন্য প্ররোচনার কোনো সুযোগই তারা রাখতেন না; বরং তাৎক্ষণিক তাওবা ও পাপমোচনের মাধ্যমে ইবলিসের আনন্দ ধুলিস্যাৎ করে দিতেন।
কবি কতইনা চমৎকার করে বলেছেন—
বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনো অণু পরিমাণ ভুলকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে না
যদিও সে ভুলে থাকে অপারগতা প্রকাশের সুযোগ, ছোটদের বড়ো গুনাহও হয়ে থাকে ছোট আর বড়দের ছোট গুনাহও হয়ে যায় বড়ো।
কাগজের কালো অংশগুলো
ককাজের আলো দিয়ে মুছ দেন।
কালোর গল্প
বান্দা পাপ করলে অন্তরে কালো এক দাগ পড়ে। তাওবা ও ইস্তিগফার করে নিলে ভালো। নয়তো পাপগুলো স্তূপীকৃত হয় এবং দোষত্রুটিগুলো জমে যায়। ফলে অন্তর একটি কালো ও বিদঘুটে অন্ধকার ঘরে পরিণত হয়; যাতে কল্যাণের ছিটেফোঁটাও থাকে না।
অন্তর থেকে সেই কালো রঙ চেহারায় চলে আসে। ফলে চেহারার নুর চলে যায় এবং উজ্জ্বলতা দূরীভূত হয়ে যায়; যা ঈমানি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কারও কাছেই গোপন থাকে না। আর কালো হৃদয় ও কালো চেহারার অধিকারী তারাই, যারা কিয়ামতের মাঠে কালো পৃষ্ঠার খোলা আমলনামার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। তার নেককাজ আছে ঠিকই, তবে সেগুলোকে তার পাপদরিয়ায় ডুবিয়ে দিয়েছে এবং উদাসীনতার ধারাবাহিকতার ভারে তা মুছে ফেলেছে। ফলাফল এই দাঁড়িয়েছে-দুনিয়ায় তার চলার পথ আঁধারে ছেয়ে গেছে। তাই সে জান্নাতের পথ ছেড়ে জাহান্নামের পথে চলা শুরু করেছে।

টিকাঃ
৭৩ ফাতহুল বারী : ১/৫১২, ইবনু হাজর আসকালানী, দারুল মারিফা।
৭৪ হাদিসের মান : সহিহ, আনাস রা. এর সূত্রে আবু দাউদসহিহুল জামে : ৩০১৬

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 আপনার প্রতি প্রত্যাশা - সাদা গল্প

📄 আপনার প্রতি প্রত্যাশা - সাদা গল্প


কুরআনে কারিমের বর্ণনা-
وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ.
আল্লাহ যার জন্য নূর নির্ধারণ করেননি তার কোনো নূর নেই। ৭৫
অন্ধকার যখন তার গোটা দুনিয়াকেই ঢেকে নিয়েছে তখন পরকালে তার কাছে আলো আসবে কোত্থেকে? আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি, পরকালে তার কী হাল হবে!
সে কিয়ামতের দিন কুচকুচে কালো চেহারা নিয়ে হাজির হবে। ভয়ে আচ্ছাদিত কালো রঙ তার চেহারাকে লেপটে রাখবে। অন্ধকার তাকে করে রাখবে আতঙ্কিত। আল্লাহ যতক্ষণ চান, ততক্ষণ সে এভাবেই থাকবে। অতঃপর তার মতো অন্যান্য পাপাচারীদের সাথে শিকলে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেও কঠোরতর শাস্তির সাথে ঘোর অন্ধকার তাকে ঘিরে রাখবে।
আপনার প্রতি প্রত্যাশা
আপনি আপনার কালো অধ্যায়ে গভীরভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। একেবারে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম দৃষ্টি। হতে পারে এর মাধ্যমেই আপনি কালোকে পুরোপুরি অপছন্দ করতে শুরু করবেন। ফলে এ থেকে নিষ্কৃতির পথ খুঁজে বেড়াবেন এবং এর নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এই দৃষ্টি নিবদ্ধকরণ নেককাজের আলোয় আলোকিত হতে এবং ইস্তিগফার করে পাপগুলো মুছে নিতে আপনাকে প্রবল আগ্রহী করে তুলবে। ফলশ্রুতিতে আপনার আমলনামা হয়ে যাবে শুভ্র এবং আপনার মর্যাদা উঁচু হবে। কিয়ামতের দিন সেই কালো রঙের কোনো চিহ্ন আপনি খুঁজে পাবেন না এবং এর জন্য আপনাকে কখনো অপমানিতও হতে হবে না।
হ্যাঁ, আজ আপনার কাছে আছে অবারিত সুযোগ। যেন আপনি আপনার আমলনামাকে আগত পৃষ্ঠার মতো ধবধবে সাদা করে তুলতে পারেন।
অধিক পরিমাণে নেককাজ এবং দ্রুততম তাওবার
মাধ্যমে ধরে রাখুন আপনার আমলনামার শুভ্রতা।
সাদার গল্প
আপনার আমলনামার শুভ্রতা আপনার জন্য সুখকর হোক!
এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। আপনার দিন শুরু হয়েছে ফজর সালাতের আলো দিয়ে। সমাপ্তি ঘটেছে আপনার জিকরের আলোতে। আপনি এতটুকুতেই ক্ষ্যান্ত হন নি, এই সূচনা এবং সমাপ্তির মধ্যবর্তী সময়ে সারা দিনে নেককারদের সান্নিধ্যগ্রহণ এবং শেষরাতের ইস্তিগফারে অনর্গল ঝরে পড়া অশ্রুবিন্দুর মাধ্যমে আপনি জ্বালিয়েছেন অনেক আলোক মশাল।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। এর উজ্জলতা প্রতিফলিত হয়েছে আপনার চেহারায়। ফলে আপনার চেহারা জ্যোতি, সৌন্দর্য ও উজ্জলতায় পূর্ণিমার চাঁদের মতো ঝলমল করে উঠেছে। আপনার এই রহস্য প্রকাশিত হয়েছে এই কথার মাধ্যমে-
তারা দয়াময়ের সাথে রাতের বেলায় নির্জনে বসে। তিনি তাদেরকে পরিয়ে দেন নুরের পোশাক।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। এখন আপনি যে পথেই যাবেন, যে ঘরেই প্রবেশ করবেন; উজ্জলতা আপনাকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। জান্নাত পর্যন্ত আপনার পথ আলোকিত করে দেবে। আপনার প্রভু আপনাকে দান করবেন সরল-সঠিক পথের দিশা।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। ফলে তা এমন এক নুরের শক্তিতে পরিণত হয়েছে-যা মানুষের মাঝে ঘুরে বেড়াবে। তারা এর কল্যাণে সুপথ খুঁজে পাবে এবং এর অনুসরণ করবে। এই নুরই তাদেরকে জান্নাতের পথে আসতে আগ্রহী করে তুলবে। এটাই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুআর অর্থ।
আমার জন্য একটি নূর তৈরি করে দেন। আমাকেই নূর বানিয়ে দেন।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। এর আলো এতই বিস্তৃত যে, তা কখনো ফুরিয়ে যাবে না। কিয়ামতের দিনেও আপনি এই ছায়া দেখতে পাবেন। তখন আপনি এই আলোকে পর্বতসদৃশ অথবা আপনার ডানপাশে খেজুরগাছ হিসেবে আবিষ্কার করবেন। এই আলো আপনার আগে আগে চলবে। আপনার চারপাশের রাস্তা দেখিয়ে দেখিয়ে নেবে। এ যে গর্বের ওপরে গর্ব। এমন এক মর্যাদা, অন্য কোনো মর্যাদা যার আশেপাশেও ঘেঁষতে পারে না।
আনুগত্যের আলো এবং আমলের জ্যোতিতে আপনার কালো রঙ দূরীভূত হওয়া এবং পাপসমূহ মুছে যাওয়া সুখকর হোক!
নেককাজ কতই না মধুর! যার ধারাবাহিকতা চলমান থাকে এবং আলো অবশিষ্ট রয়েই যায়।
বান্দা তা খরচ করে এরপর এর কথা প্রায় ভুলেই যায়। যেন তা তার জন্য পুঁজি হয়ে থাকে। যা কবর থেকে বালাখানায় রওয়ানা হওয়ার দিনে তার আলো হবে।
এ-তো কেবল আপনার সজাগদৃষ্টি এবং নিজের হিসাব নেওয়ারই ফল।

টিকাঃ
৭৫ সূরা নূর: ৪০

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 হিসাব-নিকাশের ফল-১ - অগ্রগতির সংশোধন

📄 হিসাব-নিকাশের ফল-১ - অগ্রগতির সংশোধন


হিসাব-নিকাশের ফল-১
অগ্রগতির সংশোধন
হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে অতীতকে আমরা ভবিষ্যতের কাছে পরাভূত করব। আমাদের জমে থাকা অভিজ্ঞতাগুলো রাখব দাড়িপাল্লায়, যাতে লাভের পাল্লা হয় ভারী এবং ক্ষতির পাল্লা হয় হালকা। গন্তব্যে পৌঁছার এই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যা ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে বাঁচিয়ে রাখে। একই ফাঁদে দুবার পা দেওয়া তৃতীয়বারে কঠিন সতর্কতা ও অপরিহার্য সচেতনতার সৃষ্টি করে। এর ধরন নিম্নরূপ-

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 আপনার ঈমানি লক্ষ্য - আপনার জীবন লক্ষ্য

📄 আপনার ঈমানি লক্ষ্য - আপনার জীবন লক্ষ্য


> আপনার ঈমানি লক্ষ্য
আপনার অতীতের খুঁটিনাটি নিয়ে তালাশ করেন। লক্ষ্য করেন, কোন দরজা দিয়ে শয়তানের অনুপ্রবেশ ঘটে? কীসের মাধ্যমে সে আপনাকে প্রবঞ্চিত করে? কীভাবে মিশে যায় আপনার সাথে? যাতে করে একই পথে আপনাকে দ্বিতীয়বার যেতে না হয়। নিশ্চয়ই এই উত্তম ভূমিকা আপনাকে উত্তম ফলাফলের দিকে নিয়ে যাবে। আর বের হবার পথের পরিবর্তনই প্রবেশপথ পরিবর্তনকে আবশ্যক করে। নয়তো পাপের দরুন আপনার অবস্থা হবে সেই ব্যক্তির মতো, যাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার দ্বীন পালনের কী অবস্থা? জবাবে সে ঠাট্টা করে বলে, আমি তাকে পাপের মাধ্যমে ছিঁড়ে ফেলেছি এবং ইস্তিগফারের মাধ্যমে জোড়া লাগিয়েছি।
> আপনার জীবন লক্ষ্য
লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ কখনো কখনো ঠিক হয় না। বয়ে আনে না কাঙ্খিত ফলাফল। তাই আপনার গৃহীত পদক্ষেপের দিকে পুনরায় দৃষ্টি ফেরান। লক্ষ্যপানে পৌঁছে দেওয়ার পদক্ষেপগুলো স্থির করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00