📄 মনের ওপর লাগাম - হিসাব-নিকাশের ফল
অধিকতর সহজ, শয়তান দমন হবে আশাব্যাঞ্জক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে নিকটবর্তী। কেননা, মানুষ নিজেকে হিসাবের মুখোমুখি করলে এক-দুই দিনের অলসতা সংশোধিত হয়ে যায়। তবে এক-দুই মাসের অলসতার চিকিৎসা তুলনামূলক কঠিন এবং পিছু নেওয়া অলসতা থেকে মুক্তি লাভ ও স্তূপীকৃত কাজগুলো থেকে বেরিয়ে আসা আরও কঠিন। এজন্যই দায়িত্ব পালনে তৎপর, দৃঢ়সংকল্পকারী ও অলসতার প্রতি কঠোর ব্যক্তিরাই নিজেদের অধিক পরিমাণে আপন আদলতে দাঁড় করায়। অলসতার শিকার প্রত্যেক ভাইকে লক্ষ্য করে বলছি-
৫ আপন হিসাবনিকাশের দরজা খুলে দেন।
৫ মন খেয়ানত করলে বা উদাসীন হলে মনের ওপর লাগام দেন।
• বিলম্ব হওয়াতে ক্ষত যেন বড়ো না হয়ে যায় সে ব্যাপারে সচেতন হন। অন্যথায় আপনার সংশোধন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বিফল হবে সব প্রচেষ্টা। হতাশা আপনাকে ঘিরে ধরবে। অলসতা আপনার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নেবে।
মনের ওপর লাগাম
আবু মুসলিম আল-খাওলানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
সেই মনের ব্যাপারে আপনাদের কী মন্তব্য, যাকে আমি সম্মান দিলে কাল আল্লাহ তাআলার কাছে আমাকে দোষারোপ করবে। আর এখন আমি তার ওপর রাগান্বিত হলে, তাকে কষ্ট দিলে এবং কাজে লাগিয়ে রাখলে কাল আমার ওপরে সে সন্তুষ্ট থাকবে?
লোকেরা বলল-
আবু মুসলিম, কে সে?
তিনি বললেন-
আল্লাহর কসম, সে তো আমার নিজেরই আত্মা। ৬৯
সাধ্যের দিনগুলোতে আপনাদের মনের ওপর কঠোরতা করেন। মনের ওপর লাগামকে শক্ত করেন। তবেই আপনার এসব কাজ মহাসমাবেশের দিন আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। আপনার সাফল্যই আপনার অগ্রগামীতার সাক্ষী হবে। আপনার আচার-আচরণ, সংশ্রব ও চরিত্রের ব্যাপারে আপনি নিজেই হিসাব করতে পারবেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মুকাফফির কথাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ি, তার উপদেশটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি; প্রত্যেক বুদ্ধিমানকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন—
বুদ্ধিমানের জন্য করণীয় হলো, ধর্ম, চরিত্র ও আদব—সবক্ষেত্রেই সমানভাবে মনকে হিসাবের দাড়িপাল্লায় দাঁড় করানো। অতঃপর এগুলোকে হৃদয়ে সংরক্ষণ করে রাখা অথবা লিখে রাখা। এরপর সেগুলোকে বেশি বেশি মনের সামনে নিয়ে আসা। সংশোধনের চেষ্টা চালানো। এরপর এক-দুই-তিন করে দিন-সপ্তাহ-মাস ভুলগুলো সংশোধনে ব্রতী হওয়া। একটা ভুল সংশোধন হলে সেটিকে মুছে দেওয়া। মুছে ফেলা জায়গায় চোখ পড়লে মনে খুশি লাগবে। রয়ে যাওয়া ভুলগুলোতে নজর গেলে মন বিষণ্ণ হবে।৭০
হিসাব-নিকাশের ফল
কার্যকরী হিসাবনিকাশ অবশ্যই চারটি ফলাফলের যেকোনো একটি ফল বয়ে আনবেই।
হিসাব
নেককারদের তাওবা অগ্রগতির সংশোধন কৃতজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা
টিকাঃ
৬৯ হিলইয়াতুল আউলিয়া: ২/১২৪
৭০ আল-আদাবুস সগীর ওয়াল আদাবুল কাবির: ২০, আব্দুল্লাহ ইবনু মুকাফফা, দারু সাদের, বৈরুত
📄 নেককারদের তাওবা - হে উদাসীন
• এক. নেককারদের তাওবা
সংশোধনী-ব্যবস্থার এই উদ্যোগের মাধ্যমে বান্দা তার ভুল সংশোধন করতে পারবে এবং অপূর্ণতাকে পূর্ণতায় রূপান্তর করতে পারবে। মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন আল-কাসেমি ইবাদাতের হিসাব গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও ধোঁয়াশাবিহীন একটি পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন-
হিসাবের অর্থ হলো, মূল পুঁজির দিকে তাকানো, সাথে লাভ-লোকসানের দিকেও। যেন কম বেশি যা হলো সব স্পষ্ট হয়। অনুরূপ দ্বীনের ক্ষেত্রে বান্দার মূল পুঁজি হলো ফরজ বিধানসমূহ। লাভ হলো নফল ও ফাজায়েল। লোকসান হলো পাপকাজ। এই ব্যবসার মৌসুম হলো পুরো দিনের বেলা জুড়ে। প্রথমে ফরজ নিয়ে হিসাব করতে হবে। যথাযথভাবে তা আদায় করতে পারলে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করতে হবে। তা একেবারেই ছুটে গেলে কাজা করার মাধ্যমে মালিকের দরবারে তা পূরণের আবেদন জানাতে হবে। ফরজ আদায়ে ত্রুটি হয়ে থাকলে নফলের মাধ্যমে ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করতে হবে। যদি কোনো পাপ হয়ে যায় তাহলে মনকে শাস্তি ও নিন্দা করায় মনোযোগী হতে হবে। যেন লোকসান হয়ে যাওয়া অংশটুকু পূরণ করা যায়। যেমনটি একজন ব্যবসায়ী অংশিদারের সাথে করে থাকে। ৭১
পাপ বান্দার মনোবলে গিয়ে আঘাত হানে এবং সংকল্পকে বশে নিয়ে নেয়। আমাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا.
দুদল মুখোমুখি হওয়ার দিনে তোমাদের মধ্য হতে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে, তাদের কিছু কৃতকর্মের কারণে শয়তানই তাদেরকে হোঁচট খাইয়েছে। ৭২
এজন্য হিসাবগ্রহণকারী প্রতি রাতে নিজেকে প্রশ্ন করবে—
☞ আমি কি আজ চোখের পর্দা খুলে দিয়েছি?
☞ কোনো ফরজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছি?
☞ মিথ্যা বলেছি?
☞ কোনো মুসলমানকে লাঞ্ছিত করেছি?
☞ আমি কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের মাঝে তাঁর মর্যাদা সংরক্ষণ করতে পেরেছি, কোনো মুসলমানের ওপর কথায় অথবা কাজের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন না করে।
☞ অসৎ কাজ দেখে চুপ থেকেছি?
☞ ভালোকাজে অবহেলা করেছি?
যদি কোনো একটিতেও ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষণিক তাওবা করে ফেলতে হবে। ত্রুটি না পেলে আনুগত্যের তাওফিক পাওয়ায় আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করবে।
তাওবা হিসাব-নিকাশের ফলাফলের বাইরের নয়। সুতরাং, পাপকাজ হলো ক্ষতিকর এবং ঈমানের ভান্ডারের বাইরের বিষয়। আর তাওবা হলো এই ক্ষতির বিনিময় এবং ক্ষতিকে নির্ভেজাল স্বচ্ছ লাভে পরিণত করার মাধ্যম। তবে হিসাব গ্রহণের বৈঠকে বসা ছাড়া এই লাভ লোকসান প্রকাশ পাবে না।
হে উদাসীন
যারা মনের তত্ত্বাবধান করে না এবং হিসাবনিকাশ নেয় না, তাদের কাছে জমা হয়ে যাবে পাপের পাহাড়, যা মৃত্যুক্ষণ আসার আগেই তাদের অন্তরকে ব্যাধিগ্রস্ত করে তুলবে। আর এভাবেই তাদের মৃত্যু হবে।
পাপ হলো অন্তরের বেড়ি, যা অন্তরকে কল্যাণের কাজে ধাবিত হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখে এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে পাপকাজ অলসতার বিশাল বাহিনীর এক শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ সৈনিকে পরিণত হয়। এজন্যই মনোবলকে চাঙ্গা করার জন্য তাওবা হচ্ছে একটি মোক্ষম ঔষধ। দুর্বলতা ও হীনবলতার বন্দিত্ব থেকে বের হয়ে আসার সহজতম উপায়।
অলসতায় নিমজ্জিত প্রিয় ভাই, দৃঢ় সংকল্পকে সঙ্গে করে ময়দানে নেমে আসেন। ঈমানের শত্রুরা আপনার হৃদয়রাজ্যে যুদ্ধের ঢংকা বাজিয়ে ফেলেছে।
টিকাঃ
৭১ মাওয়িজাতুল মুমিনীন মিন ইহইয়ায়ি উলুমিদ দীন: ১/৩০৮, মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ,
৭২ সূরা আলে ইমরান: ১৫৫
📄 পরাজিত মানসের হিসাব - কালো গল্প
পরাজিত মানসের হিসাব
সায়িদ ইবনু মানসুর রাহিমাহুল্লাহ আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন-
একরাতে আবু উবাইদা মসজিদে থুথু ফেলেন; কিন্তু ভুলক্রমে তা মাটিতে মিশিয়ে না দিয়েই বাড়ি চলে আসেন। রাতে তার অস্বস্তি হতে থাকে। অবশেষে আগুনের মশাল নিয়ে মসজিদে যান এবং তা খুঁজে বের করে ধুলোয় নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন। এরপর বলেন—সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমার জন্য রাতের ভুল লেখেন নি। ৭৩
তার এ কথা বলার কারণ হলো, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
মসজিদে থুথু ফেলা পাপ। আর এর প্রায়শ্চিত্ত হলো তা ঢেকে দেওয়া। ৭৪
এ ছিল আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহুর বিশ্বাস এবং নিজের পরকালীন হিসাবের প্রস্তুতি। লক্ষ্য করেন, ঘুমানোর আগেই কতটা শক্তভাবে নিজের হিসাব করেছেন তিনি। সামান্য থুথু ফেলাকেও তুচ্ছ করে দেখেন নি। নিজের আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলার পরেই বিশ্রাম করেছেন। এরপর প্রশংসার মাধ্যমে এর কৃতিত্ব নিজের সাথে না মিলিয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
আল্লাহর কসম! এমনই ছিল আমাদের বড়দের হিম্মত। বড়ো মনের অধিকারীদের আলামত। তারা কোনো পাপকেই ছোট করে দেখতেন না। কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করতেন না। শয়তানের জন্য প্ররোচনার কোনো সুযোগই তারা রাখতেন না; বরং তাৎক্ষণিক তাওবা ও পাপমোচনের মাধ্যমে ইবলিসের আনন্দ ধুলিস্যাৎ করে দিতেন।
কবি কতইনা চমৎকার করে বলেছেন—
বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনো অণু পরিমাণ ভুলকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে না
যদিও সে ভুলে থাকে অপারগতা প্রকাশের সুযোগ, ছোটদের বড়ো গুনাহও হয়ে থাকে ছোট আর বড়দের ছোট গুনাহও হয়ে যায় বড়ো।
কাগজের কালো অংশগুলো
ককাজের আলো দিয়ে মুছ দেন।
কালোর গল্প
বান্দা পাপ করলে অন্তরে কালো এক দাগ পড়ে। তাওবা ও ইস্তিগফার করে নিলে ভালো। নয়তো পাপগুলো স্তূপীকৃত হয় এবং দোষত্রুটিগুলো জমে যায়। ফলে অন্তর একটি কালো ও বিদঘুটে অন্ধকার ঘরে পরিণত হয়; যাতে কল্যাণের ছিটেফোঁটাও থাকে না।
অন্তর থেকে সেই কালো রঙ চেহারায় চলে আসে। ফলে চেহারার নুর চলে যায় এবং উজ্জ্বলতা দূরীভূত হয়ে যায়; যা ঈমানি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কারও কাছেই গোপন থাকে না। আর কালো হৃদয় ও কালো চেহারার অধিকারী তারাই, যারা কিয়ামতের মাঠে কালো পৃষ্ঠার খোলা আমলনামার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। তার নেককাজ আছে ঠিকই, তবে সেগুলোকে তার পাপদরিয়ায় ডুবিয়ে দিয়েছে এবং উদাসীনতার ধারাবাহিকতার ভারে তা মুছে ফেলেছে। ফলাফল এই দাঁড়িয়েছে-দুনিয়ায় তার চলার পথ আঁধারে ছেয়ে গেছে। তাই সে জান্নাতের পথ ছেড়ে জাহান্নামের পথে চলা শুরু করেছে।
টিকাঃ
৭৩ ফাতহুল বারী : ১/৫১২, ইবনু হাজর আসকালানী, দারুল মারিফা।
৭৪ হাদিসের মান : সহিহ, আনাস রা. এর সূত্রে আবু দাউদসহিহুল জামে : ৩০১৬
📄 আপনার প্রতি প্রত্যাশা - সাদা গল্প
কুরআনে কারিমের বর্ণনা-
وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ.
আল্লাহ যার জন্য নূর নির্ধারণ করেননি তার কোনো নূর নেই। ৭৫
অন্ধকার যখন তার গোটা দুনিয়াকেই ঢেকে নিয়েছে তখন পরকালে তার কাছে আলো আসবে কোত্থেকে? আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি, পরকালে তার কী হাল হবে!
সে কিয়ামতের দিন কুচকুচে কালো চেহারা নিয়ে হাজির হবে। ভয়ে আচ্ছাদিত কালো রঙ তার চেহারাকে লেপটে রাখবে। অন্ধকার তাকে করে রাখবে আতঙ্কিত। আল্লাহ যতক্ষণ চান, ততক্ষণ সে এভাবেই থাকবে। অতঃপর তার মতো অন্যান্য পাপাচারীদের সাথে শিকলে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেও কঠোরতর শাস্তির সাথে ঘোর অন্ধকার তাকে ঘিরে রাখবে।
আপনার প্রতি প্রত্যাশা
আপনি আপনার কালো অধ্যায়ে গভীরভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। একেবারে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম দৃষ্টি। হতে পারে এর মাধ্যমেই আপনি কালোকে পুরোপুরি অপছন্দ করতে শুরু করবেন। ফলে এ থেকে নিষ্কৃতির পথ খুঁজে বেড়াবেন এবং এর নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এই দৃষ্টি নিবদ্ধকরণ নেককাজের আলোয় আলোকিত হতে এবং ইস্তিগফার করে পাপগুলো মুছে নিতে আপনাকে প্রবল আগ্রহী করে তুলবে। ফলশ্রুতিতে আপনার আমলনামা হয়ে যাবে শুভ্র এবং আপনার মর্যাদা উঁচু হবে। কিয়ামতের দিন সেই কালো রঙের কোনো চিহ্ন আপনি খুঁজে পাবেন না এবং এর জন্য আপনাকে কখনো অপমানিতও হতে হবে না।
হ্যাঁ, আজ আপনার কাছে আছে অবারিত সুযোগ। যেন আপনি আপনার আমলনামাকে আগত পৃষ্ঠার মতো ধবধবে সাদা করে তুলতে পারেন।
অধিক পরিমাণে নেককাজ এবং দ্রুততম তাওবার
মাধ্যমে ধরে রাখুন আপনার আমলনামার শুভ্রতা।
সাদার গল্প
আপনার আমলনামার শুভ্রতা আপনার জন্য সুখকর হোক!
এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। আপনার দিন শুরু হয়েছে ফজর সালাতের আলো দিয়ে। সমাপ্তি ঘটেছে আপনার জিকরের আলোতে। আপনি এতটুকুতেই ক্ষ্যান্ত হন নি, এই সূচনা এবং সমাপ্তির মধ্যবর্তী সময়ে সারা দিনে নেককারদের সান্নিধ্যগ্রহণ এবং শেষরাতের ইস্তিগফারে অনর্গল ঝরে পড়া অশ্রুবিন্দুর মাধ্যমে আপনি জ্বালিয়েছেন অনেক আলোক মশাল।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। এর উজ্জলতা প্রতিফলিত হয়েছে আপনার চেহারায়। ফলে আপনার চেহারা জ্যোতি, সৌন্দর্য ও উজ্জলতায় পূর্ণিমার চাঁদের মতো ঝলমল করে উঠেছে। আপনার এই রহস্য প্রকাশিত হয়েছে এই কথার মাধ্যমে-
তারা দয়াময়ের সাথে রাতের বেলায় নির্জনে বসে। তিনি তাদেরকে পরিয়ে দেন নুরের পোশাক।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। এখন আপনি যে পথেই যাবেন, যে ঘরেই প্রবেশ করবেন; উজ্জলতা আপনাকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। জান্নাত পর্যন্ত আপনার পথ আলোকিত করে দেবে। আপনার প্রভু আপনাকে দান করবেন সরল-সঠিক পথের দিশা।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। ফলে তা এমন এক নুরের শক্তিতে পরিণত হয়েছে-যা মানুষের মাঝে ঘুরে বেড়াবে। তারা এর কল্যাণে সুপথ খুঁজে পাবে এবং এর অনুসরণ করবে। এই নুরই তাদেরকে জান্নাতের পথে আসতে আগ্রহী করে তুলবে। এটাই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুআর অর্থ।
আমার জন্য একটি নূর তৈরি করে দেন। আমাকেই নূর বানিয়ে দেন।
আপনার আমলনামা শুভ্র হয়েছে। এর আলো এতই বিস্তৃত যে, তা কখনো ফুরিয়ে যাবে না। কিয়ামতের দিনেও আপনি এই ছায়া দেখতে পাবেন। তখন আপনি এই আলোকে পর্বতসদৃশ অথবা আপনার ডানপাশে খেজুরগাছ হিসেবে আবিষ্কার করবেন। এই আলো আপনার আগে আগে চলবে। আপনার চারপাশের রাস্তা দেখিয়ে দেখিয়ে নেবে। এ যে গর্বের ওপরে গর্ব। এমন এক মর্যাদা, অন্য কোনো মর্যাদা যার আশেপাশেও ঘেঁষতে পারে না।
আনুগত্যের আলো এবং আমলের জ্যোতিতে আপনার কালো রঙ দূরীভূত হওয়া এবং পাপসমূহ মুছে যাওয়া সুখকর হোক!
নেককাজ কতই না মধুর! যার ধারাবাহিকতা চলমান থাকে এবং আলো অবশিষ্ট রয়েই যায়।
বান্দা তা খরচ করে এরপর এর কথা প্রায় ভুলেই যায়। যেন তা তার জন্য পুঁজি হয়ে থাকে। যা কবর থেকে বালাখানায় রওয়ানা হওয়ার দিনে তার আলো হবে।
এ-তো কেবল আপনার সজাগদৃষ্টি এবং নিজের হিসাব নেওয়ারই ফল।
টিকাঃ
৭৫ সূরা নূর: ৪০