📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 মুতায্ল্লা নসিহত - হিসাবের হিসাব কেমন হয়

📄 মুতায্ল্লা নসিহত - হিসাবের হিসাব কেমন হয়


মুক্তোতুল্য নসিহত
আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু এই বিষয়ে একটি মুক্তোতুল্য কথা বলেছেন—
বান্দা শুধু তার রবের কাছেই চায়। শুধু তার পাপকেই ভয় পায়।
তার আরও একটি নসিহত হলো—
যে-কোনো বিপদই পাপের ফলে আসে। আর তা উঠিয়ে নেওয়া হয় কেবল তাওবার কল্যাণে। ৬৭
হিসাবের হিসাব কেমন হয়
আমাদের কেউ কেউ বছরে একবার বাৎসরিক হিসাব করতে বসে। নিজের আমল ও জীবনের লক্ষ্যের কথা কেবল রমজানেই তার মনে পড়ে।
কেউ কেউ প্রতি মাসে হিসাবে বসে। যেভাবে ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে। মাইমুন ইবনু মিহরানের সংজ্ঞা অনুযায়ী পরহেজগার ব্যক্তি হবেন তিনি, যার ব্যাপারে তিনি বলেন—
কোনো মানুষ ততক্ষণ দ্বীনদার হতে পারবে না যতক্ষণ না সে ব্যবসায়ী অংশিদারদের পারস্পরিক হিসাব মেলানোর চেয়েও কঠোরভাবে নিজের হিসাব না মেলাবে।
তৃতীয়জন প্রতিদিন নিজের হিসাব মেলায়। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
সূর্য অস্ত যাওয়ার পর গত হয়ে যাওয়া দিনের জন্য আমি যেমন অনুতপ্ত হই, এমনটি অন্য কোনো কারণে হই না। কারণ, সেই দিনটি আমার জীবন থেকে কমে গেল, কিন্তু আমার আমলনামায় যোগ হলো না বাড়তি কোনো আমল। ৬৮
কেননা, গতকাল ও আজ দুই ভাই। তাদের একজন আপনার কাছে অতিথি হয়ে এসেছে; কিন্তু আপনি তাকে স্বাগত জানাতে ত্রুটি করেছেন। তাকে যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। তাই সে আপনাকে নিন্দা জানাতে জানাতে বিদায় নিয়েছে। এরপর আপনার বাড়ির মেহমান হয়েছে তার ভাই। সে আপনাকে বলছে, আমার ভাইয়ের সাথে করা দুর্ব্যবহারের দাগ মুছে ফেলেন এবং আমার সাথে ভালো আচরণ করেন। আর যদি তা না করেন, তবে আগামীকাল আপনার বিরুদ্ধে দুজন অভিযোগকারী দাঁড়াবে। তারা দুজনেই মহান প্রভুর সামনে আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অনেক অগ্রগামী। তারা প্রতিদিনই নিজেদের নিয়ে বসে এবং বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। এবার বলেন, আপনি কোন প্রকারের?
প্রিয় ভাই, হিসাব নিকাশ লক্ষ্যপানে ছুটে চলার নানান রঙের একটি। যখনই আপনার নিজের আদালতে আপনার দ্রুত বিচার হবে তখনই সংশোধন হবে।

টিকাঃ
৬৭ কায়িদাতুন ফিস-সবর : ৯৪,৯৫, তকিউদ্দীন আবুল আব্বাস ইবনু তাইমিয়াহ আল-হাম্বলী, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া-মাদীনা মুনাওয়ারা.
৬৮ মিফতাহুল আফকার লিত-তাআহহুবি লি দারিল করার : ২২১, আব্দুল আজীজ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আব্দিল মুহসিন আস-সালমান।

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 মনের ওপর লাগাম - হিসাব-নিকাশের ফল

📄 মনের ওপর লাগাম - হিসাব-নিকাশের ফল


অধিকতর সহজ, শয়তান দমন হবে আশাব্যাঞ্জক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে নিকটবর্তী। কেননা, মানুষ নিজেকে হিসাবের মুখোমুখি করলে এক-দুই দিনের অলসতা সংশোধিত হয়ে যায়। তবে এক-দুই মাসের অলসতার চিকিৎসা তুলনামূলক কঠিন এবং পিছু নেওয়া অলসতা থেকে মুক্তি লাভ ও স্তূপীকৃত কাজগুলো থেকে বেরিয়ে আসা আরও কঠিন। এজন্যই দায়িত্ব পালনে তৎপর, দৃঢ়সংকল্পকারী ও অলসতার প্রতি কঠোর ব্যক্তিরাই নিজেদের অধিক পরিমাণে আপন আদলতে দাঁড় করায়। অলসতার শিকার প্রত্যেক ভাইকে লক্ষ্য করে বলছি-
৫ আপন হিসাবনিকাশের দরজা খুলে দেন।
৫ মন খেয়ানত করলে বা উদাসীন হলে মনের ওপর লাগام দেন।
• বিলম্ব হওয়াতে ক্ষত যেন বড়ো না হয়ে যায় সে ব্যাপারে সচেতন হন। অন্যথায় আপনার সংশোধন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বিফল হবে সব প্রচেষ্টা। হতাশা আপনাকে ঘিরে ধরবে। অলসতা আপনার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নেবে।
মনের ওপর লাগাম
আবু মুসলিম আল-খাওলানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
সেই মনের ব্যাপারে আপনাদের কী মন্তব্য, যাকে আমি সম্মান দিলে কাল আল্লাহ তাআলার কাছে আমাকে দোষারোপ করবে। আর এখন আমি তার ওপর রাগান্বিত হলে, তাকে কষ্ট দিলে এবং কাজে লাগিয়ে রাখলে কাল আমার ওপরে সে সন্তুষ্ট থাকবে?
লোকেরা বলল-
আবু মুসলিম, কে সে?
তিনি বললেন-
আল্লাহর কসম, সে তো আমার নিজেরই আত্মা। ৬৯
সাধ্যের দিনগুলোতে আপনাদের মনের ওপর কঠোরতা করেন। মনের ওপর লাগামকে শক্ত করেন। তবেই আপনার এসব কাজ মহাসমাবেশের দিন আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। আপনার সাফল্যই আপনার অগ্রগামীতার সাক্ষী হবে। আপনার আচার-আচরণ, সংশ্রব ও চরিত্রের ব্যাপারে আপনি নিজেই হিসাব করতে পারবেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মুকাফফির কথাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ি, তার উপদেশটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি; প্রত্যেক বুদ্ধিমানকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন—
বুদ্ধিমানের জন্য করণীয় হলো, ধর্ম, চরিত্র ও আদব—সবক্ষেত্রেই সমানভাবে মনকে হিসাবের দাড়িপাল্লায় দাঁড় করানো। অতঃপর এগুলোকে হৃদয়ে সংরক্ষণ করে রাখা অথবা লিখে রাখা। এরপর সেগুলোকে বেশি বেশি মনের সামনে নিয়ে আসা। সংশোধনের চেষ্টা চালানো। এরপর এক-দুই-তিন করে দিন-সপ্তাহ-মাস ভুলগুলো সংশোধনে ব্রতী হওয়া। একটা ভুল সংশোধন হলে সেটিকে মুছে দেওয়া। মুছে ফেলা জায়গায় চোখ পড়লে মনে খুশি লাগবে। রয়ে যাওয়া ভুলগুলোতে নজর গেলে মন বিষণ্ণ হবে।৭০
হিসাব-নিকাশের ফল
কার্যকরী হিসাবনিকাশ অবশ্যই চারটি ফলাফলের যেকোনো একটি ফল বয়ে আনবেই।
হিসাব
নেককারদের তাওবা অগ্রগতির সংশোধন কৃতজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা

টিকাঃ
৬৯ হিলইয়াতুল আউলিয়া: ২/১২৪
৭০ আল-আদাবুস সগীর ওয়াল আদাবুল কাবির: ২০, আব্দুল্লাহ ইবনু মুকাফফা, দারু সাদের, বৈরুত

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 নেককারদের তাওবা - হে উদাসীন

📄 নেককারদের তাওবা - হে উদাসীন


• এক. নেককারদের তাওবা
সংশোধনী-ব্যবস্থার এই উদ্যোগের মাধ্যমে বান্দা তার ভুল সংশোধন করতে পারবে এবং অপূর্ণতাকে পূর্ণতায় রূপান্তর করতে পারবে। মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন আল-কাসেমি ইবাদাতের হিসাব গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও ধোঁয়াশাবিহীন একটি পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন-
হিসাবের অর্থ হলো, মূল পুঁজির দিকে তাকানো, সাথে লাভ-লোকসানের দিকেও। যেন কম বেশি যা হলো সব স্পষ্ট হয়। অনুরূপ দ্বীনের ক্ষেত্রে বান্দার মূল পুঁজি হলো ফরজ বিধানসমূহ। লাভ হলো নফল ও ফাজায়েল। লোকসান হলো পাপকাজ। এই ব্যবসার মৌসুম হলো পুরো দিনের বেলা জুড়ে। প্রথমে ফরজ নিয়ে হিসাব করতে হবে। যথাযথভাবে তা আদায় করতে পারলে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করতে হবে। তা একেবারেই ছুটে গেলে কাজা করার মাধ্যমে মালিকের দরবারে তা পূরণের আবেদন জানাতে হবে। ফরজ আদায়ে ত্রুটি হয়ে থাকলে নফলের মাধ্যমে ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করতে হবে। যদি কোনো পাপ হয়ে যায় তাহলে মনকে শাস্তি ও নিন্দা করায় মনোযোগী হতে হবে। যেন লোকসান হয়ে যাওয়া অংশটুকু পূরণ করা যায়। যেমনটি একজন ব্যবসায়ী অংশিদারের সাথে করে থাকে। ৭১
পাপ বান্দার মনোবলে গিয়ে আঘাত হানে এবং সংকল্পকে বশে নিয়ে নেয়। আমাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا.
দুদল মুখোমুখি হওয়ার দিনে তোমাদের মধ্য হতে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে, তাদের কিছু কৃতকর্মের কারণে শয়তানই তাদেরকে হোঁচট খাইয়েছে। ৭২
এজন্য হিসাবগ্রহণকারী প্রতি রাতে নিজেকে প্রশ্ন করবে—
☞ আমি কি আজ চোখের পর্দা খুলে দিয়েছি?
☞ কোনো ফরজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছি?
☞ মিথ্যা বলেছি?
☞ কোনো মুসলমানকে লাঞ্ছিত করেছি?
☞ আমি কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের মাঝে তাঁর মর্যাদা সংরক্ষণ করতে পেরেছি, কোনো মুসলমানের ওপর কথায় অথবা কাজের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন না করে।
☞ অসৎ কাজ দেখে চুপ থেকেছি?
☞ ভালোকাজে অবহেলা করেছি?
যদি কোনো একটিতেও ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষণিক তাওবা করে ফেলতে হবে। ত্রুটি না পেলে আনুগত্যের তাওফিক পাওয়ায় আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করবে।
তাওবা হিসাব-নিকাশের ফলাফলের বাইরের নয়। সুতরাং, পাপকাজ হলো ক্ষতিকর এবং ঈমানের ভান্ডারের বাইরের বিষয়। আর তাওবা হলো এই ক্ষতির বিনিময় এবং ক্ষতিকে নির্ভেজাল স্বচ্ছ লাভে পরিণত করার মাধ্যম। তবে হিসাব গ্রহণের বৈঠকে বসা ছাড়া এই লাভ লোকসান প্রকাশ পাবে না।
হে উদাসীন
যারা মনের তত্ত্বাবধান করে না এবং হিসাবনিকাশ নেয় না, তাদের কাছে জমা হয়ে যাবে পাপের পাহাড়, যা মৃত্যুক্ষণ আসার আগেই তাদের অন্তরকে ব্যাধিগ্রস্ত করে তুলবে। আর এভাবেই তাদের মৃত্যু হবে।
পাপ হলো অন্তরের বেড়ি, যা অন্তরকে কল্যাণের কাজে ধাবিত হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখে এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে পাপকাজ অলসতার বিশাল বাহিনীর এক শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ সৈনিকে পরিণত হয়। এজন্যই মনোবলকে চাঙ্গা করার জন্য তাওবা হচ্ছে একটি মোক্ষম ঔষধ। দুর্বলতা ও হীনবলতার বন্দিত্ব থেকে বের হয়ে আসার সহজতম উপায়।
অলসতায় নিমজ্জিত প্রিয় ভাই, দৃঢ় সংকল্পকে সঙ্গে করে ময়দানে নেমে আসেন। ঈমানের শত্রুরা আপনার হৃদয়রাজ্যে যুদ্ধের ঢংকা বাজিয়ে ফেলেছে।

টিকাঃ
৭১ মাওয়িজাতুল মুমিনীন মিন ইহইয়ায়ি উলুমিদ দীন: ১/৩০৮, মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ,
৭২ সূরা আলে ইমরান: ১৫৫

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 পরাজিত মানসের হিসাব - কালো গল্প

📄 পরাজিত মানসের হিসাব - কালো গল্প


পরাজিত মানসের হিসাব
সায়িদ ইবনু মানসুর রাহিমাহুল্লাহ আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন-
একরাতে আবু উবাইদা মসজিদে থুথু ফেলেন; কিন্তু ভুলক্রমে তা মাটিতে মিশিয়ে না দিয়েই বাড়ি চলে আসেন। রাতে তার অস্বস্তি হতে থাকে। অবশেষে আগুনের মশাল নিয়ে মসজিদে যান এবং তা খুঁজে বের করে ধুলোয় নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন। এরপর বলেন—সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমার জন্য রাতের ভুল লেখেন নি। ৭৩
তার এ কথা বলার কারণ হলো, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
মসজিদে থুথু ফেলা পাপ। আর এর প্রায়শ্চিত্ত হলো তা ঢেকে দেওয়া। ৭৪
এ ছিল আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহুর বিশ্বাস এবং নিজের পরকালীন হিসাবের প্রস্তুতি। লক্ষ্য করেন, ঘুমানোর আগেই কতটা শক্তভাবে নিজের হিসাব করেছেন তিনি। সামান্য থুথু ফেলাকেও তুচ্ছ করে দেখেন নি। নিজের আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলার পরেই বিশ্রাম করেছেন। এরপর প্রশংসার মাধ্যমে এর কৃতিত্ব নিজের সাথে না মিলিয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
আল্লাহর কসম! এমনই ছিল আমাদের বড়দের হিম্মত। বড়ো মনের অধিকারীদের আলামত। তারা কোনো পাপকেই ছোট করে দেখতেন না। কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করতেন না। শয়তানের জন্য প্ররোচনার কোনো সুযোগই তারা রাখতেন না; বরং তাৎক্ষণিক তাওবা ও পাপমোচনের মাধ্যমে ইবলিসের আনন্দ ধুলিস্যাৎ করে দিতেন।
কবি কতইনা চমৎকার করে বলেছেন—
বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনো অণু পরিমাণ ভুলকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে না
যদিও সে ভুলে থাকে অপারগতা প্রকাশের সুযোগ, ছোটদের বড়ো গুনাহও হয়ে থাকে ছোট আর বড়দের ছোট গুনাহও হয়ে যায় বড়ো।
কাগজের কালো অংশগুলো
ককাজের আলো দিয়ে মুছ দেন।
কালোর গল্প
বান্দা পাপ করলে অন্তরে কালো এক দাগ পড়ে। তাওবা ও ইস্তিগফার করে নিলে ভালো। নয়তো পাপগুলো স্তূপীকৃত হয় এবং দোষত্রুটিগুলো জমে যায়। ফলে অন্তর একটি কালো ও বিদঘুটে অন্ধকার ঘরে পরিণত হয়; যাতে কল্যাণের ছিটেফোঁটাও থাকে না।
অন্তর থেকে সেই কালো রঙ চেহারায় চলে আসে। ফলে চেহারার নুর চলে যায় এবং উজ্জ্বলতা দূরীভূত হয়ে যায়; যা ঈমানি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কারও কাছেই গোপন থাকে না। আর কালো হৃদয় ও কালো চেহারার অধিকারী তারাই, যারা কিয়ামতের মাঠে কালো পৃষ্ঠার খোলা আমলনামার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। তার নেককাজ আছে ঠিকই, তবে সেগুলোকে তার পাপদরিয়ায় ডুবিয়ে দিয়েছে এবং উদাসীনতার ধারাবাহিকতার ভারে তা মুছে ফেলেছে। ফলাফল এই দাঁড়িয়েছে-দুনিয়ায় তার চলার পথ আঁধারে ছেয়ে গেছে। তাই সে জান্নাতের পথ ছেড়ে জাহান্নামের পথে চলা শুরু করেছে।

টিকাঃ
৭৩ ফাতহুল বারী : ১/৫১২, ইবনু হাজর আসকালানী, দারুল মারিফা।
৭৪ হাদিসের মান : সহিহ, আনাস রা. এর সূত্রে আবু দাউদসহিহুল জামে : ৩০১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00