📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 হিসাব-নিকাশ - ছয়টি শব্দ

📄 হিসাব-নিকাশ - ছয়টি শব্দ


পঞ্চম পদক্ষেপ
হিসাব-নিকাশ
ছয়টি শব্দ
আপনার যাবতীয় কর্মকাণ্ডের হিসাব গ্রহণ করতে হবে মাত্র ছয়টি শব্দের মাধ্যমে। সেই শব্দ ছয়টি কী? খেয়াল করেন—
‘আগামীকে বিশুদ্ধকরণের লক্ষ্যে গতকালের হিসাব উদঘাটন।’
উদ্ধৃত বাক্যে দেখেন, মাত্র ছয়টি শব্দ আছে। এর বিস্তারিত এবং চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আল্লামা মাওয়ারদি রাহিমাহুল্লাহ্। তিনি বলেন—
মানুষের উচিত—দিনের কাজগুলো রাতের বেলা খুঁটিয়ে দেখা। কারণ, রাতে মানুষের হৃদয় থাকে প্রশস্ত এবং চিন্তাশক্তি থাকে একতাবদ্ধ। যদি দিনের কাজগুলো হয় প্রশংসনীয়, তবে এই পথ ধরেই হবে আগামীকালের যাত্রা। আর যদি হয় নিন্দনীয়, তবে সম্ভব হলে তা সংশোধন করে নেবে এবং ভবিষ্যতে এই ভুল থেকে বেঁচে থাকবে। ৬৪
নিজের মনের ক্লাস নিজেই নেওয়া এবং কৃতকর্ম নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার উৎসাহ যোগায় কুরআনে কারিমের এই আয়াত—
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ.
তোমাদের ওপর আরোপিত বিপদগুলো তোমাদের কৃতকর্মের কারণেই এসে থাকে। ৬৫
ইমাম জাহহাক রাহিমাহুল্লাহ বলেন—
আমি এমন কারও সম্পর্কে জানি না, যে কুরআন হিফজ করার পর গুনাহ করা ছাড়া অন্য কোনো কারণে তা ভুলে গেছে। এরপর তিনি উল্লিখিত এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। এবং বলেন—
কুরআনে কারিম হিফজ করার পর তা আবার ভুলে যাওয়ার চেয়ে বড়ো বিপদ মানুষের জীবনে আর কী হতে পারে? ৬৬
এ কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তার কায়িদাতুন ফিস সবর (ধৈর্যধারণের নীতিমালা) গ্রন্থে আমাদের প্রত্যেককে উপদেশ দিয়েছেন, যেন আমরা নিজেদের গুনাহ স্বীকার করে নিই। আল্লাহ তাআলা মানুষের গুনাহের কারণেই তার ওপর বিপদ চাপিয়ে দেন। যেমনটি তিনি কুরআনে কারিমে ঘোষণা করেছেন।
বান্দা যখন এ-ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে যে, তার ওপর যত বিপদ এসেছে এর কারণ হলো তার পাপ। তাহলে সে পাপ ছেড়ে তাওবা ও ইস্তিগফারে মনোযোগী হবে; যে পাপ তাকে বিভিন্ন বিপদাপদে আপতিত করেছিল। যার কারণে সে মানুষের কাছে নিন্দা ও তিরস্কারের পাত্রে পরিণত হয়েছিল। আপনি যদি এমন কাউকে দেখতে পান যে, মানুষের কাছ থেকে সে অনেক কষ্ট পায়; কিন্তু নিজেকে নিন্দা করা ও ইস্তিগফারে মনোযোগী হয় না, তবে জেনে রাখেন, তার বিপদ প্রকৃতপক্ষেই বিপদ। যখন সে তাওবা ও ইস্তিগফার করে বলে—এসব আমার পাপের ফল, তবে তা হবে তার ক্ষেত্রে নিয়ামত।

টিকাঃ
৬৪ আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ-দীন: ১/৩৫৬, আবুল হাসান আলী ইবনু মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু হাবীব আল-বাসরী আল-বাগদাদী-যিনি মাওয়ারদী নামে প্রসিদ্ধ, দারু মাকতাবাতিল হায়াত
৬৫ সূরা শূরা: ৩০
৬৬ তাফসীরুল কুরআনিল আজিম লি-ইবনি আবী হাতিম: ১০/৩২৭৯, মাকতাবাতু নাযযার মুস্তফা আল-বায-সৌদি আরব

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 মুতায্ল্লা নসিহত - হিসাবের হিসাব কেমন হয়

📄 মুতায্ল্লা নসিহত - হিসাবের হিসাব কেমন হয়


মুক্তোতুল্য নসিহত
আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু এই বিষয়ে একটি মুক্তোতুল্য কথা বলেছেন—
বান্দা শুধু তার রবের কাছেই চায়। শুধু তার পাপকেই ভয় পায়।
তার আরও একটি নসিহত হলো—
যে-কোনো বিপদই পাপের ফলে আসে। আর তা উঠিয়ে নেওয়া হয় কেবল তাওবার কল্যাণে। ৬৭
হিসাবের হিসাব কেমন হয়
আমাদের কেউ কেউ বছরে একবার বাৎসরিক হিসাব করতে বসে। নিজের আমল ও জীবনের লক্ষ্যের কথা কেবল রমজানেই তার মনে পড়ে।
কেউ কেউ প্রতি মাসে হিসাবে বসে। যেভাবে ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে। মাইমুন ইবনু মিহরানের সংজ্ঞা অনুযায়ী পরহেজগার ব্যক্তি হবেন তিনি, যার ব্যাপারে তিনি বলেন—
কোনো মানুষ ততক্ষণ দ্বীনদার হতে পারবে না যতক্ষণ না সে ব্যবসায়ী অংশিদারদের পারস্পরিক হিসাব মেলানোর চেয়েও কঠোরভাবে নিজের হিসাব না মেলাবে।
তৃতীয়জন প্রতিদিন নিজের হিসাব মেলায়। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
সূর্য অস্ত যাওয়ার পর গত হয়ে যাওয়া দিনের জন্য আমি যেমন অনুতপ্ত হই, এমনটি অন্য কোনো কারণে হই না। কারণ, সেই দিনটি আমার জীবন থেকে কমে গেল, কিন্তু আমার আমলনামায় যোগ হলো না বাড়তি কোনো আমল। ৬৮
কেননা, গতকাল ও আজ দুই ভাই। তাদের একজন আপনার কাছে অতিথি হয়ে এসেছে; কিন্তু আপনি তাকে স্বাগত জানাতে ত্রুটি করেছেন। তাকে যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। তাই সে আপনাকে নিন্দা জানাতে জানাতে বিদায় নিয়েছে। এরপর আপনার বাড়ির মেহমান হয়েছে তার ভাই। সে আপনাকে বলছে, আমার ভাইয়ের সাথে করা দুর্ব্যবহারের দাগ মুছে ফেলেন এবং আমার সাথে ভালো আচরণ করেন। আর যদি তা না করেন, তবে আগামীকাল আপনার বিরুদ্ধে দুজন অভিযোগকারী দাঁড়াবে। তারা দুজনেই মহান প্রভুর সামনে আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অনেক অগ্রগামী। তারা প্রতিদিনই নিজেদের নিয়ে বসে এবং বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। এবার বলেন, আপনি কোন প্রকারের?
প্রিয় ভাই, হিসাব নিকাশ লক্ষ্যপানে ছুটে চলার নানান রঙের একটি। যখনই আপনার নিজের আদালতে আপনার দ্রুত বিচার হবে তখনই সংশোধন হবে।

টিকাঃ
৬৭ কায়িদাতুন ফিস-সবর : ৯৪,৯৫, তকিউদ্দীন আবুল আব্বাস ইবনু তাইমিয়াহ আল-হাম্বলী, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া-মাদীনা মুনাওয়ারা.
৬৮ মিফতাহুল আফকার লিত-তাআহহুবি লি দারিল করার : ২২১, আব্দুল আজীজ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আব্দিল মুহসিন আস-সালমান।

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 মনের ওপর লাগাম - হিসাব-নিকাশের ফল

📄 মনের ওপর লাগাম - হিসাব-নিকাশের ফল


অধিকতর সহজ, শয়তান দমন হবে আশাব্যাঞ্জক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে নিকটবর্তী। কেননা, মানুষ নিজেকে হিসাবের মুখোমুখি করলে এক-দুই দিনের অলসতা সংশোধিত হয়ে যায়। তবে এক-দুই মাসের অলসতার চিকিৎসা তুলনামূলক কঠিন এবং পিছু নেওয়া অলসতা থেকে মুক্তি লাভ ও স্তূপীকৃত কাজগুলো থেকে বেরিয়ে আসা আরও কঠিন। এজন্যই দায়িত্ব পালনে তৎপর, দৃঢ়সংকল্পকারী ও অলসতার প্রতি কঠোর ব্যক্তিরাই নিজেদের অধিক পরিমাণে আপন আদলতে দাঁড় করায়। অলসতার শিকার প্রত্যেক ভাইকে লক্ষ্য করে বলছি-
৫ আপন হিসাবনিকাশের দরজা খুলে দেন।
৫ মন খেয়ানত করলে বা উদাসীন হলে মনের ওপর লাগام দেন।
• বিলম্ব হওয়াতে ক্ষত যেন বড়ো না হয়ে যায় সে ব্যাপারে সচেতন হন। অন্যথায় আপনার সংশোধন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বিফল হবে সব প্রচেষ্টা। হতাশা আপনাকে ঘিরে ধরবে। অলসতা আপনার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নেবে।
মনের ওপর লাগাম
আবু মুসলিম আল-খাওলানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
সেই মনের ব্যাপারে আপনাদের কী মন্তব্য, যাকে আমি সম্মান দিলে কাল আল্লাহ তাআলার কাছে আমাকে দোষারোপ করবে। আর এখন আমি তার ওপর রাগান্বিত হলে, তাকে কষ্ট দিলে এবং কাজে লাগিয়ে রাখলে কাল আমার ওপরে সে সন্তুষ্ট থাকবে?
লোকেরা বলল-
আবু মুসলিম, কে সে?
তিনি বললেন-
আল্লাহর কসম, সে তো আমার নিজেরই আত্মা। ৬৯
সাধ্যের দিনগুলোতে আপনাদের মনের ওপর কঠোরতা করেন। মনের ওপর লাগামকে শক্ত করেন। তবেই আপনার এসব কাজ মহাসমাবেশের দিন আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। আপনার সাফল্যই আপনার অগ্রগামীতার সাক্ষী হবে। আপনার আচার-আচরণ, সংশ্রব ও চরিত্রের ব্যাপারে আপনি নিজেই হিসাব করতে পারবেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মুকাফফির কথাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ি, তার উপদেশটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি; প্রত্যেক বুদ্ধিমানকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন—
বুদ্ধিমানের জন্য করণীয় হলো, ধর্ম, চরিত্র ও আদব—সবক্ষেত্রেই সমানভাবে মনকে হিসাবের দাড়িপাল্লায় দাঁড় করানো। অতঃপর এগুলোকে হৃদয়ে সংরক্ষণ করে রাখা অথবা লিখে রাখা। এরপর সেগুলোকে বেশি বেশি মনের সামনে নিয়ে আসা। সংশোধনের চেষ্টা চালানো। এরপর এক-দুই-তিন করে দিন-সপ্তাহ-মাস ভুলগুলো সংশোধনে ব্রতী হওয়া। একটা ভুল সংশোধন হলে সেটিকে মুছে দেওয়া। মুছে ফেলা জায়গায় চোখ পড়লে মনে খুশি লাগবে। রয়ে যাওয়া ভুলগুলোতে নজর গেলে মন বিষণ্ণ হবে।৭০
হিসাব-নিকাশের ফল
কার্যকরী হিসাবনিকাশ অবশ্যই চারটি ফলাফলের যেকোনো একটি ফল বয়ে আনবেই।
হিসাব
নেককারদের তাওবা অগ্রগতির সংশোধন কৃতজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা শ্রেষ্ঠদের প্রতিযোগিতা

টিকাঃ
৬৯ হিলইয়াতুল আউলিয়া: ২/১২৪
৭০ আল-আদাবুস সগীর ওয়াল আদাবুল কাবির: ২০, আব্দুল্লাহ ইবনু মুকাফফা, দারু সাদের, বৈরুত

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 নেককারদের তাওবা - হে উদাসীন

📄 নেককারদের তাওবা - হে উদাসীন


• এক. নেককারদের তাওবা
সংশোধনী-ব্যবস্থার এই উদ্যোগের মাধ্যমে বান্দা তার ভুল সংশোধন করতে পারবে এবং অপূর্ণতাকে পূর্ণতায় রূপান্তর করতে পারবে। মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন আল-কাসেমি ইবাদাতের হিসাব গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও ধোঁয়াশাবিহীন একটি পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন-
হিসাবের অর্থ হলো, মূল পুঁজির দিকে তাকানো, সাথে লাভ-লোকসানের দিকেও। যেন কম বেশি যা হলো সব স্পষ্ট হয়। অনুরূপ দ্বীনের ক্ষেত্রে বান্দার মূল পুঁজি হলো ফরজ বিধানসমূহ। লাভ হলো নফল ও ফাজায়েল। লোকসান হলো পাপকাজ। এই ব্যবসার মৌসুম হলো পুরো দিনের বেলা জুড়ে। প্রথমে ফরজ নিয়ে হিসাব করতে হবে। যথাযথভাবে তা আদায় করতে পারলে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করতে হবে। তা একেবারেই ছুটে গেলে কাজা করার মাধ্যমে মালিকের দরবারে তা পূরণের আবেদন জানাতে হবে। ফরজ আদায়ে ত্রুটি হয়ে থাকলে নফলের মাধ্যমে ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করতে হবে। যদি কোনো পাপ হয়ে যায় তাহলে মনকে শাস্তি ও নিন্দা করায় মনোযোগী হতে হবে। যেন লোকসান হয়ে যাওয়া অংশটুকু পূরণ করা যায়। যেমনটি একজন ব্যবসায়ী অংশিদারের সাথে করে থাকে। ৭১
পাপ বান্দার মনোবলে গিয়ে আঘাত হানে এবং সংকল্পকে বশে নিয়ে নেয়। আমাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا.
দুদল মুখোমুখি হওয়ার দিনে তোমাদের মধ্য হতে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে, তাদের কিছু কৃতকর্মের কারণে শয়তানই তাদেরকে হোঁচট খাইয়েছে। ৭২
এজন্য হিসাবগ্রহণকারী প্রতি রাতে নিজেকে প্রশ্ন করবে—
☞ আমি কি আজ চোখের পর্দা খুলে দিয়েছি?
☞ কোনো ফরজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছি?
☞ মিথ্যা বলেছি?
☞ কোনো মুসলমানকে লাঞ্ছিত করেছি?
☞ আমি কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের মাঝে তাঁর মর্যাদা সংরক্ষণ করতে পেরেছি, কোনো মুসলমানের ওপর কথায় অথবা কাজের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন না করে।
☞ অসৎ কাজ দেখে চুপ থেকেছি?
☞ ভালোকাজে অবহেলা করেছি?
যদি কোনো একটিতেও ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষণিক তাওবা করে ফেলতে হবে। ত্রুটি না পেলে আনুগত্যের তাওফিক পাওয়ায় আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করবে।
তাওবা হিসাব-নিকাশের ফলাফলের বাইরের নয়। সুতরাং, পাপকাজ হলো ক্ষতিকর এবং ঈমানের ভান্ডারের বাইরের বিষয়। আর তাওবা হলো এই ক্ষতির বিনিময় এবং ক্ষতিকে নির্ভেজাল স্বচ্ছ লাভে পরিণত করার মাধ্যম। তবে হিসাব গ্রহণের বৈঠকে বসা ছাড়া এই লাভ লোকসান প্রকাশ পাবে না।
হে উদাসীন
যারা মনের তত্ত্বাবধান করে না এবং হিসাবনিকাশ নেয় না, তাদের কাছে জমা হয়ে যাবে পাপের পাহাড়, যা মৃত্যুক্ষণ আসার আগেই তাদের অন্তরকে ব্যাধিগ্রস্ত করে তুলবে। আর এভাবেই তাদের মৃত্যু হবে।
পাপ হলো অন্তরের বেড়ি, যা অন্তরকে কল্যাণের কাজে ধাবিত হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখে এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে পাপকাজ অলসতার বিশাল বাহিনীর এক শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ সৈনিকে পরিণত হয়। এজন্যই মনোবলকে চাঙ্গা করার জন্য তাওবা হচ্ছে একটি মোক্ষম ঔষধ। দুর্বলতা ও হীনবলতার বন্দিত্ব থেকে বের হয়ে আসার সহজতম উপায়।
অলসতায় নিমজ্জিত প্রিয় ভাই, দৃঢ় সংকল্পকে সঙ্গে করে ময়দানে নেমে আসেন। ঈমানের শত্রুরা আপনার হৃদয়রাজ্যে যুদ্ধের ঢংকা বাজিয়ে ফেলেছে।

টিকাঃ
৭১ মাওয়িজাতুল মুমিনীন মিন ইহইয়ায়ি উলুমিদ দীন: ১/৩০৮, মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ,
৭২ সূরা আলে ইমরান: ১৫৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00