📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 সুউচ্চ লক্ষ্য - আসমানি লক্ষ্য এবং শয়তানি লক্ষ্য

📄 সুউচ্চ লক্ষ্য - আসমানি লক্ষ্য এবং শয়তানি লক্ষ্য


সুউচ্চ লক্ষ্য
একক ও চূড়ান্ত লক্ষ্যই পারে সব রকমের অলসতা দূর করতে এবং সকল কষ্ট তাড়াতে। আর সহজবশ্য লক্ষ্য কখনো সুপ্ত প্রতিভা ও প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে জানে না, অলসতায় ফেলে দেয় এবং হীনম্মন্যতায় ভোগায়।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে আল্লাহর কাছে এই বলে দুআ করতে শুনলেন, সে নিজের জন্য এই দুআ করছে, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করেন। তখন নবীজি তাকে বললেন—
তবে তো তোমার রক্ত ঝরাতে হবে এবং তোমার দ্রুতগামী ঘোড়াকে মৃত্যুর জন্য ছেড়ে দিতে হবে।
এটিই কার্যকরী নীতি।
যে ব্যক্তি ওপারে গিয়ে জান্নাতের সুউচ্চ অবস্থান কামনা করে, তাকে তো এপারে সর্বোচ্চ শ্রম দিতেই হবে। পরিশ্রম অনুপাতেই আরাম মিলবে। পরিশোধিত মূল্যের বিবেচনায়ই অবস্থানের উচ্চতা বাড়বে। উচ্চ অবস্থান প্রত্যাশাকরী ব্যক্তির উচ্চমূল্যের শ্রম দেওয়ার বিকল্প নেই।
তাহলে কি বোঝা গেল, সর্বোচ্চ ত্যাগই হচ্ছে সুউচ্চ মর্যাদার বিনিময়। অন্য কিছু নয়। আর ভীরু মানসিকতা শৈথিল্য ও আশায় ডুবে থাকারই প্রেরণা যোগায়।
সে গৌরব অর্জন করতে চায়, অথচ তার তলোয়ার কোষবদ্ধ রাখে; সে উঁচু মর্যাদা লাভ করতে চায়, অথচ থাকে ঘুমিয়ে।
সুতরাং, নিজের জন্য কোন পথ দরকার, বেছে নেন নিজের পছন্দমতোই; যা আপনি লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছেন; আপনাকে যা অমর করে রাখবে, হাজার বছর পরও যা আপনাকে স্মরণ করাবে, উন্নীত রাখবে।

আসমানি লক্ষ্য এবং শয়তানি লক্ষ্য
আপনার জীবনে যদি কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য না থাকে, তাহলে এর অর্থ যেন আপনার জীবনের লাগাম আপনি শয়তানের হাতে তুলে দিলেন। আর শয়তানই আপনার লক্ষ্য স্থির করে দেবে। ফলত, জানা কথা, শয়তানের লক্ষ্য আপনাকে জাহান্নামের পথ দেখাবে এবং মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির পাত্রে পরিণত করবে।
আপনার চিরন্তন শত্রু শয়তানের উদ্দেশ্য শুধু অলসতাই না, বরং অলসতার আড়ালে স্খলন এবং পাপাচারের প্রবণতা তৈরি করাই হচ্ছে তার মুখ্য উদ্দেশ্য। যতক্ষণ না আপনি আপনার মহৎ লক্ষ্য সামনে নিয়ে না এগোবেন, ততক্ষণ যেন আপনি নিজের জন্য ধ্বংসাত্মক সেই লক্ষ্য নিয়েই সন্তুষ্ট আছেন। সুতরাং, আপনার কল্যাণ আপনিই বেছে নেন।

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 প্রতারিত প্রজন্ম - লক্ষ্যপূরণে অন্তরায়

📄 প্রতারিত প্রজন্ম - লক্ষ্যপূরণে অন্তরায়


প্রতারিত প্রজন্ম
• মুস্তফা সাদিক আর-রাফিয়ি এই প্রজন্মের বিরুদ্ধে একটি সমীক্ষার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন—
সেই প্রজন্ম চলে এসেছে, যারা গর্ব করার মতো তেমন কোনো আমল খুঁজে পাবে না। ইবলিস তাদের জন্য এমন কিছু শব্দ তৈরি করে দিয়েছে যেগুলো নিয়েই তারা মত্ত হয়ে থাকে।
যখন কোনো যুবককে প্রতারণার চক্রে আবর্তিত করা হয়, তখন সুন্দরী নারীর ভালোবাসাই তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিযোগিতায় বিজয়লাভ কিংবা তুচ্ছ কোনো চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জনই তার অভিষ্টলক্ষ্যে পরিণত হয়। বাড়ি-গাড়ি কেনাই তার জীবনসাধনা বলে বিবেচিত হয়। এমনকি চাহিদাপূরণে পরকাল বিক্রী করতে হলেও তাতে কোনো দ্বিধাবোধ করে না।

লক্ষ্যপূরণে অন্তরায়
এখানে আমরা কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরব—যা অলসতা দূরীকরণ ও কর্মোদ্যমী হওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালনকারী লক্ষ্যগুলোর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। অভিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছুতে নিরুৎসাহিত করে। হীনবল করে তোলে এবং দৃঢ় সংকল্পকে করে বাধাগ্রস্ত। বেশ কিছু কারণে এমনটি হয়ে থাকে।

টিকাঃ
৬০. ওহিউল কলাম: ১/৮৫, মুস্তফা সাদিক আর-রাফেয়ী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 লক্ষ্যে ছেড়ে দিয়ে মনোযোগ হওয়া - নিয়ত নবায়নের অনুশীলন

📄 লক্ষ্যে ছেড়ে দিয়ে মনোযোগ হওয়া - নিয়ত নবায়নের অনুশীলন


◆ লক্ষ্যে ছেড়ে মাধ্যম নিয়ে মনোযোগী হওয়া
উদাহরণস্বরূপ, এই বইটি পাঠের পেছনে আপনার কী লক্ষ্য? শুধু কি পড়তে হবে বলেই পড়া?
কোনো কোনো পাঠক বলবেন—আমার লক্ষ্য অজানাকে জানা এবং জ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটানো।
দ্বিতীয়জন বলবেন—আমার লক্ষ্য ঈমান বৃদ্ধি করা এবং আত্মিক শক্তি ও উপলব্ধিকে আরও শক্তিশালি করা。
তৃতীয়জন বলবেন—এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করার জন্য।
চতুর্থজন বলবেন—অন্যকে শেখানোর জন্য। ৬১
অধিকাংশ সময় মানুষ মাধ্যম নিয়েই ডুবে থাকে। লক্ষ্য ও গন্তব্য থাকে অজানা। ফলে তারা যা ইচ্ছা করে তা বুঝতে পারে না। যা বহন করে তা নিয়ে গন্তব্য পর্যন্ত যেতে পারে না। পরিশেষে ফলাফলের ঝুলিতে আসে দুর্বলতা ও অলসতা।

নিয়ত নবায়নের অনুশীলন
প্রতিটি কাজে দৈনন্দিন নিয়ত ঠিক করে নেওয়া এক কার্যকরী অনুশীলন। এতে লক্ষ্য সামনে থাকে এবং সকল কাজের ভিড়েও গন্তব্যের কথা মাথায় থাকে। শুধু লক্ষ্য সামনে রাখা এবং মনে মনে অনুভব করা কাজের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মর্যাদা ও প্রতিদানলাভে পরিশ্রমী ও অকর্মণ্যের মাঝে বিশাল ব্যবধান গড়ে দেয়। তাই নিয়তের তারতম্যে বান্দার প্রতিদানের সংখ্যা বেড়ে যায়।
• সালাতের লক্ষ্য হলো: অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা।
• সাদকার লক্ষ্য হলো : অন্তরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা।
• রোজার লক্ষ্য হলো: তাকওয়া অর্জন করা।
এই ইবাদতগুলো যদি তার লক্ষ্য পর্যন্তই না পৌঁছে, তবে এর মূল অর্থই হারিয়ে যাবে। সওয়াব শূন্যে উড়ে যাবে। আর সেই আমলকারী হবে এমন দুষ্ট ব্যক্তির ন্যায়, যে দিনের শুরুভাগে মুত্তাকি বন্ধুদের সাথে থেকে তাদের মতো করেই কাজ চালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দৃষ্টিকে ধোঁকায় ফেলে এবং তাদের অন্তর জয় করে নেয়। এরপর দিনের শেষভাগে গিয়ে সেই মুখোশ খুলে ফেলে। মত্ত হয় কুপ্রবৃত্তির দাসত্বে। সুতরাং, লক্ষ্যহীন ইবাদত হচ্ছে সেই ব্যক্তির মতো, যে জামা গায়ে দিয়ে আবার খুলে ফেলে। সেতু পার হয়ে আবার চলে আসে। প্রকৃত মুমিন কখনো এমন শূন্য মজলিসে বসতে পছন্দ করতে পারে না, যার কোনো লক্ষ্য নেই কিংবা কোনো উপকার নেই।

টিকাঃ
৬১. তৃতীয় ও চতুর্থ লক্ষ্য অর্থাৎ আমল করা ও শিক্ষা দেওয়া আপনার ইলমের যাকাতসদৃশ নফল নয়, বরং ফরজ যাকাত যেমন: মুহাম্মদ ইবনু সালিম আস-সাফারিনী আল-হাম্বলী বলেন, 'জেনে রাখুন, ইলমের জাকাত প্রদানের পদ্ধতি দুটি ১-আলেম অন্যকে শিখানো এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার ইলম বাড়িয়ে দেন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করেন ২-ইলম অনুযায়ী আমল করা কেননা ইলম অনুযায়ী আমল করলে ইলম বাড়ে আমল তার জন্য ইলম তথা জ্ঞানের দরজাগুলো উন্মোচন করে দেয় এবং ধোঁয়াশা দূর করে দেয়

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 লক্ষ্যপানে ছুটে চলার দুর্বলতা - অনুকারী লক্ষ্য

📄 লক্ষ্যপানে ছুটে চলার দুর্বলতা - অনুকারী লক্ষ্য


• লক্ষ্যপানে ছুটে চলার দুর্বলতা
জাহাজ চালানোর সময় একজন নাবিক ভালোভাবেই বুঝতে পারে, শুধু লক্ষ্য স্থির করাই তার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে-জাহাজকে লক্ষ্যের পথে চালিত করা। লক্ষ্যপানে ছুটে চলা ব্যক্তিও এমনই। গন্তব্যপানে মন্থর পথচলা সময়ের পরিক্রমায় গন্তব্যই ভুলিয়ে দেয়। পরে যখন সে কথা মনে পড়ে তখন হাতছাড়া হওয়াতে খানিকটা আক্ষেপ করে। এরপর ঘুমিয়ে পড়ে। আর এই ঘুমেই কেটে যায় সারাটা জীবন।

অনুপকারী লক্ষ্য
> এক. এমন কিছু মানুষ দেখবে—কাজে ও পেশায় খুব কর্মঠ। মনিব যা যা বলে, সব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে একের পর এক পালন করে যাচ্ছে; কিন্তু এই উদ্যমতা সত্ত্বেও ব্যস্ততার চাপে তার কয়েক মিনিট সময় হয় না ফরজ সালাতটা আদায় করার!!
> দুই. অন্যজন ইবাদতে খুব শ্রম ব্যয় করেন। দ্বীনি বিধানাবলী পালন করেন। নফল সালাতেও বেশ গুরুত্বারোপ করেন। তবে তিনি কাজের বেলায় ঢিলেমি করেন। পেশার ক্ষেত্রে করেন টালবাহানা। সবসময় এই অবহেলার কারণে তাকে হতে হয় তিরস্কারের শিকার।
> তিন. তৃতীয়জন লোকদের উৎসাহ প্রদান, দাওয়াত দেওয়া এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশ পরিচালনায় ব্যস্ত। অথচ তিনি নিজের সন্তানদের শিষ্টাচার ও লালনপালনে উদাসীন!
> চার. চতুর্থ ব্যক্তি জ্ঞানের জগতে অনেক এগিয়ে, জ্ঞানার্জন উপকার লাভে খুব আগ্রহী; কিন্তু তার সামাজিক সম্পর্কগুলো এসে দাঁড়িয়েছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রতিবেশীকে দেখতে যাওয়া এবং আত্মীয়তা রক্ষার গুরুত্ব ক্রমেই তার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
লক্ষ্য অর্জনে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হবে। আপনার ওপর আরোপিত কর্তব্যের বিবেচনায়ই আপনার উদ্যমতা ও সাহসিকতা যাচাই হবে। অন্যথায় এক ময়দানে আপনার সাফল্য অন্যান্য ময়দানে হোঁচট খাওয়ার ভূমিকা হয়ে যাবে। কখনো কখনো ময়দান অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px