📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 লক্ষ্য স্থির করা - আমরাই অগ্রগামী

📄 লক্ষ্য স্থির করা - আমরাই অগ্রগামী


লক্ষ্য স্থির কর।
যে কোনো কাজে লক্ষ্য নির্ধারণ করাটাই পথের দূরত্ব অনেকাংশ কমিয়ে দেয়। লক্ষ্য অর্জনের জন্য লালন করা মনের সুপ্ত প্রেরণাশক্তিকে আরও জাগিয়ে তোলে। বিশেষত, লক্ষ্য যদি হয় গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মিলিত। যেমন-
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এই ব্যাপারে খুব আকাঙ্খী ছিলেন—তিনি এমন কোনো বড়ো লক্ষ্য স্থির করবেন, যাতে আমেরিকান জনগণ অনুপ্রাণিত হবে এবং সবজায়গা থেকে মানুষ সে লক্ষ্যপূরণে আকৃষ্ট হয়ে জমায়েত হবে। সেই লক্ষ্যে তিনি ১৯৬০ সালে ঘোষণা করেন—
আমি বিশ্বাস করি, এই জাতি কোনো মানুষকে চাঁদে নামানো ও নিরাপদে পৃথিবীতে নিয়ে আসার লক্ষ্য বাস্তবায়নকে নিজেদের ওপর অপরিহার্য করে নেবে।
গোটা জাতি এই মিশনকে সাদরে গ্রহণ করে নেয়। প্রত্যেকেই তা বাস্তবায়নে নিজ নিজ সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে। শুধু মহাকাশ-বিজ্ঞানীরাই নয়, বরং রাষ্ট্রের সকল সেক্টরের বিজ্ঞানীরাই এতে অংশ নেয়। এ সময় এক সাংবাদিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পরিদর্শনের জন্য যায়। দেখতে পান, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা খুব দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী। সাংবাদিক গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি এখানে কী করছ? তখন সেই পরিচ্ছন্নকর্মী মাথা উঁচু করে সরাসরি সাংবাদিকের চোখের দিকে তাকিয়ে জাবাব দেয়, আমি মহাশূন্যে প্রথম মানুষ প্রেরণে সহযোগিতা করছি।
১৯৬৩ সালে জন এফ কেনেডি মারা গেলেও তার স্বপ্ন তার সাথে মাটির নীচে দাফন হয়ে যায় নি। আমেরিকার সকল জনগোষ্ঠি তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একজোট হয়ে ১৯৬৯ সালে তা বাস্তবায়ন করে ফেলে; যাতে একজন পরিচ্ছন্নকর্মীও শরিক ছিল।
দলের ছোট থেকে ছোট সদস্যও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জেনেছে। এটা বুঝতে পেরেছে- 'কী' এবং 'কীভাবে'র সম্পর্কে জানার চেয়ে 'কেন' সম্পর্কে জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছে এবং নিজেদের কল্পনার সাথে আলিঙ্গন করতে পেরেছে।
লক্ষ্য সম্পর্কে জানা প্রাণশক্তিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। যা মন থেকে অলসতা দূর করে দেয় এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তরে উৎসাহের শলতে প্রজ্বলিত করে。

আমরাই অগ্রগামী
আমি কেন দূরবর্তী পাশ্চাত্যের উপমা টানতে যাব? অথচ আমার সামনেই তো সমৃদ্ধ প্রাচ্যের দারুণ সব দৃষ্টান্ত আছে। বলি তবে-
পারস্য বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনীর এক সাদাসিধে সাধারণ সৈনিকের কথা। তার সারল্য ও দারিদ্র এতই প্রকট ছিল যে, তার তরবারিটা পর্যন্ত একটি পুরাতন কাপড়ে মোড়ানো ছিল!!
হ্যাঁ। সেই সাধারণ সৈনিক রিবয়ী ইবনু আমের সামনে এগিয়ে গিয়ে বসলেন পারসিক সেনাপতি রুস্তমের সম্মুখে। রুস্তম তার সাথে আলাপ শুরু করল :
- আপনাদের এনেছে কে এখানে?
- আল্লাহ আমাদের এনেছেন। আমাদের মাধ্যমে তিনি যাকে চান তাকে বান্দার গোলামি থেকে মুক্ত করেন। আল্লাহর নিজের গোলামির দিকে নিয়ে যান। অন্যান্য মতাদর্শের অত্যাচার থেকে ইসলামের ন্যায়পরায়ণতার দিকে নিয়ে যেতে। সুতরাং যে তা গ্রহণ করে নেবে, আমরাও তাঁকে গ্রহণ করে নেব। আর যে অস্বীকার করবে, আমরা তার সাথে লড়ব, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর ওয়াদা পর্যন্ত পৌঁছুই।
- আল্লাহর ওয়াদা কী?
- অবিশ্বাসীর সাথে যুদ্ধ করে যে মারা যাবে তার জন্য জান্নাত আর যে বেঁচে যাবে তার জন্য বিজয়।
- আপনারা কি এমন স্থির লক্ষ্য আর কোথাও দেখেছেন? অথবা প্রতিদানের ব্যাপারে এই বিশ্বাসের মতো দৃঢ় বিশ্বাস দেখেছেন কারও?
- আমরা তো এমন জাতি, যারা পরাজয় কী-তা জানি না; আমরা দু দলে বিভক্ত এক সফল জাতি। একদল জান্নাত লাভে সফল, একদল ময়দানে সফল।
লক্ষ্য সম্পর্কে একজন সাধারণ সৈন্যের জ্ঞান যদি এই পর্যায়ের হতে পারে তবে সেই দলের বাকিদের, তদুপরি নেতার অবস্থা কী হতে পারে?
এমনই ছিল দলের প্রতিটি সৈন্যের অবস্থা। এই ছিল তাদের লক্ষ্য, তাদের স্বপ্ন পূরণের গন্তব্য। যে লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিজন সদস্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন। এমনকি একজন মুসলিম বন্দী, যার নাম আমরা ইতিহাসের পাতায় খুঁজে পাই নি, তাকে রুস্তমের সামনে আনা হলে তিনি মূল দীপাধার থেকে যে বাক্যমালা উচ্চারিত হয়েছিল, সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করলেন। তাকে রুস্তম প্রশ্ন করলে তিনি মূল লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন।
রুস্তম জিজ্ঞাসা করল—
- কেন এসেছেন আপনারা? আর কী চান?
- আমরা আপনাদের ও আপনাদের উত্তরাধিকারীদের রাজত্বে আল্লাহর ওয়াদা খুঁজতে এসেছি; যদি আপনারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন তবে।
- এর আগেই যদি আপনাদের মৃত্যু এসে যায়?
- আমাদের কেউ মারা গেলে জান্নাতে যাবে। বেঁচে থাকলে আল্লাহ তাআলা তাকে স্বীয় ওয়াদামাফিক পুরস্কার দেবেন। এটিই আমাদের নিশ্চিত এবং দৃঢ় বিশ্বাস।
- তবে তো আমরা তোমাদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবো!
- আপনাদের কৃতকর্মই আপনাদের ক্ষতি ডেকে আনবে। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে আপনাদের অনুগত করে নেবেন। আপনার আশেপাশে যাদের দেখছেন, তাদের পেয়ে ধোঁকায় পড়ে থাকবেন না। আপনি মানুষদের জমা করতে পারেন না। তা জমা করে আপনার ভাগ্য এবং খোদার ফায়সালা।
অতঃপর রুস্তম সেই মুসলিম বন্দির গর্দান ছিন্ন করে দেয়। ৫৯

টিকাঃ
৫৯. তারিখুত তাবারি, খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৫০৮

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 সুউচ্চ লক্ষ্য - আসমানি লক্ষ্য এবং শয়তানি লক্ষ্য

📄 সুউচ্চ লক্ষ্য - আসমানি লক্ষ্য এবং শয়তানি লক্ষ্য


সুউচ্চ লক্ষ্য
একক ও চূড়ান্ত লক্ষ্যই পারে সব রকমের অলসতা দূর করতে এবং সকল কষ্ট তাড়াতে। আর সহজবশ্য লক্ষ্য কখনো সুপ্ত প্রতিভা ও প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে জানে না, অলসতায় ফেলে দেয় এবং হীনম্মন্যতায় ভোগায়।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে আল্লাহর কাছে এই বলে দুআ করতে শুনলেন, সে নিজের জন্য এই দুআ করছে, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করেন। তখন নবীজি তাকে বললেন—
তবে তো তোমার রক্ত ঝরাতে হবে এবং তোমার দ্রুতগামী ঘোড়াকে মৃত্যুর জন্য ছেড়ে দিতে হবে।
এটিই কার্যকরী নীতি।
যে ব্যক্তি ওপারে গিয়ে জান্নাতের সুউচ্চ অবস্থান কামনা করে, তাকে তো এপারে সর্বোচ্চ শ্রম দিতেই হবে। পরিশ্রম অনুপাতেই আরাম মিলবে। পরিশোধিত মূল্যের বিবেচনায়ই অবস্থানের উচ্চতা বাড়বে। উচ্চ অবস্থান প্রত্যাশাকরী ব্যক্তির উচ্চমূল্যের শ্রম দেওয়ার বিকল্প নেই।
তাহলে কি বোঝা গেল, সর্বোচ্চ ত্যাগই হচ্ছে সুউচ্চ মর্যাদার বিনিময়। অন্য কিছু নয়। আর ভীরু মানসিকতা শৈথিল্য ও আশায় ডুবে থাকারই প্রেরণা যোগায়।
সে গৌরব অর্জন করতে চায়, অথচ তার তলোয়ার কোষবদ্ধ রাখে; সে উঁচু মর্যাদা লাভ করতে চায়, অথচ থাকে ঘুমিয়ে।
সুতরাং, নিজের জন্য কোন পথ দরকার, বেছে নেন নিজের পছন্দমতোই; যা আপনি লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছেন; আপনাকে যা অমর করে রাখবে, হাজার বছর পরও যা আপনাকে স্মরণ করাবে, উন্নীত রাখবে।

আসমানি লক্ষ্য এবং শয়তানি লক্ষ্য
আপনার জীবনে যদি কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য না থাকে, তাহলে এর অর্থ যেন আপনার জীবনের লাগাম আপনি শয়তানের হাতে তুলে দিলেন। আর শয়তানই আপনার লক্ষ্য স্থির করে দেবে। ফলত, জানা কথা, শয়তানের লক্ষ্য আপনাকে জাহান্নামের পথ দেখাবে এবং মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির পাত্রে পরিণত করবে।
আপনার চিরন্তন শত্রু শয়তানের উদ্দেশ্য শুধু অলসতাই না, বরং অলসতার আড়ালে স্খলন এবং পাপাচারের প্রবণতা তৈরি করাই হচ্ছে তার মুখ্য উদ্দেশ্য। যতক্ষণ না আপনি আপনার মহৎ লক্ষ্য সামনে নিয়ে না এগোবেন, ততক্ষণ যেন আপনি নিজের জন্য ধ্বংসাত্মক সেই লক্ষ্য নিয়েই সন্তুষ্ট আছেন। সুতরাং, আপনার কল্যাণ আপনিই বেছে নেন।

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 প্রতারিত প্রজন্ম - লক্ষ্যপূরণে অন্তরায়

📄 প্রতারিত প্রজন্ম - লক্ষ্যপূরণে অন্তরায়


প্রতারিত প্রজন্ম
• মুস্তফা সাদিক আর-রাফিয়ি এই প্রজন্মের বিরুদ্ধে একটি সমীক্ষার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন—
সেই প্রজন্ম চলে এসেছে, যারা গর্ব করার মতো তেমন কোনো আমল খুঁজে পাবে না। ইবলিস তাদের জন্য এমন কিছু শব্দ তৈরি করে দিয়েছে যেগুলো নিয়েই তারা মত্ত হয়ে থাকে।
যখন কোনো যুবককে প্রতারণার চক্রে আবর্তিত করা হয়, তখন সুন্দরী নারীর ভালোবাসাই তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিযোগিতায় বিজয়লাভ কিংবা তুচ্ছ কোনো চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জনই তার অভিষ্টলক্ষ্যে পরিণত হয়। বাড়ি-গাড়ি কেনাই তার জীবনসাধনা বলে বিবেচিত হয়। এমনকি চাহিদাপূরণে পরকাল বিক্রী করতে হলেও তাতে কোনো দ্বিধাবোধ করে না।

লক্ষ্যপূরণে অন্তরায়
এখানে আমরা কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরব—যা অলসতা দূরীকরণ ও কর্মোদ্যমী হওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালনকারী লক্ষ্যগুলোর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। অভিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছুতে নিরুৎসাহিত করে। হীনবল করে তোলে এবং দৃঢ় সংকল্পকে করে বাধাগ্রস্ত। বেশ কিছু কারণে এমনটি হয়ে থাকে।

টিকাঃ
৬০. ওহিউল কলাম: ১/৮৫, মুস্তফা সাদিক আর-রাফেয়ী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 লক্ষ্যে ছেড়ে দিয়ে মনোযোগ হওয়া - নিয়ত নবায়নের অনুশীলন

📄 লক্ষ্যে ছেড়ে দিয়ে মনোযোগ হওয়া - নিয়ত নবায়নের অনুশীলন


◆ লক্ষ্যে ছেড়ে মাধ্যম নিয়ে মনোযোগী হওয়া
উদাহরণস্বরূপ, এই বইটি পাঠের পেছনে আপনার কী লক্ষ্য? শুধু কি পড়তে হবে বলেই পড়া?
কোনো কোনো পাঠক বলবেন—আমার লক্ষ্য অজানাকে জানা এবং জ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটানো।
দ্বিতীয়জন বলবেন—আমার লক্ষ্য ঈমান বৃদ্ধি করা এবং আত্মিক শক্তি ও উপলব্ধিকে আরও শক্তিশালি করা。
তৃতীয়জন বলবেন—এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করার জন্য।
চতুর্থজন বলবেন—অন্যকে শেখানোর জন্য। ৬১
অধিকাংশ সময় মানুষ মাধ্যম নিয়েই ডুবে থাকে। লক্ষ্য ও গন্তব্য থাকে অজানা। ফলে তারা যা ইচ্ছা করে তা বুঝতে পারে না। যা বহন করে তা নিয়ে গন্তব্য পর্যন্ত যেতে পারে না। পরিশেষে ফলাফলের ঝুলিতে আসে দুর্বলতা ও অলসতা।

নিয়ত নবায়নের অনুশীলন
প্রতিটি কাজে দৈনন্দিন নিয়ত ঠিক করে নেওয়া এক কার্যকরী অনুশীলন। এতে লক্ষ্য সামনে থাকে এবং সকল কাজের ভিড়েও গন্তব্যের কথা মাথায় থাকে। শুধু লক্ষ্য সামনে রাখা এবং মনে মনে অনুভব করা কাজের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মর্যাদা ও প্রতিদানলাভে পরিশ্রমী ও অকর্মণ্যের মাঝে বিশাল ব্যবধান গড়ে দেয়। তাই নিয়তের তারতম্যে বান্দার প্রতিদানের সংখ্যা বেড়ে যায়।
• সালাতের লক্ষ্য হলো: অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা।
• সাদকার লক্ষ্য হলো : অন্তরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা।
• রোজার লক্ষ্য হলো: তাকওয়া অর্জন করা।
এই ইবাদতগুলো যদি তার লক্ষ্য পর্যন্তই না পৌঁছে, তবে এর মূল অর্থই হারিয়ে যাবে। সওয়াব শূন্যে উড়ে যাবে। আর সেই আমলকারী হবে এমন দুষ্ট ব্যক্তির ন্যায়, যে দিনের শুরুভাগে মুত্তাকি বন্ধুদের সাথে থেকে তাদের মতো করেই কাজ চালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দৃষ্টিকে ধোঁকায় ফেলে এবং তাদের অন্তর জয় করে নেয়। এরপর দিনের শেষভাগে গিয়ে সেই মুখোশ খুলে ফেলে। মত্ত হয় কুপ্রবৃত্তির দাসত্বে। সুতরাং, লক্ষ্যহীন ইবাদত হচ্ছে সেই ব্যক্তির মতো, যে জামা গায়ে দিয়ে আবার খুলে ফেলে। সেতু পার হয়ে আবার চলে আসে। প্রকৃত মুমিন কখনো এমন শূন্য মজলিসে বসতে পছন্দ করতে পারে না, যার কোনো লক্ষ্য নেই কিংবা কোনো উপকার নেই।

টিকাঃ
৬১. তৃতীয় ও চতুর্থ লক্ষ্য অর্থাৎ আমল করা ও শিক্ষা দেওয়া আপনার ইলমের যাকাতসদৃশ নফল নয়, বরং ফরজ যাকাত যেমন: মুহাম্মদ ইবনু সালিম আস-সাফারিনী আল-হাম্বলী বলেন, 'জেনে রাখুন, ইলমের জাকাত প্রদানের পদ্ধতি দুটি ১-আলেম অন্যকে শিখানো এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার ইলম বাড়িয়ে দেন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করেন ২-ইলম অনুযায়ী আমল করা কেননা ইলম অনুযায়ী আমল করলে ইলম বাড়ে আমল তার জন্য ইলম তথা জ্ঞানের দরজাগুলো উন্মোচন করে দেয় এবং ধোঁয়াশা দূর করে দেয়

ফন্ট সাইজ
15px
17px