📄 নবীজি কাছে - দায়ির সফলতা
নবীজি কাছে
> নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার সবচে কাছের হবে সে ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচে বেশি দরুদ পড়বে। ৪৯
এই সওয়াবের কথা শোনার পরও কীভাবে একজন বান্দা নবীজির ওপর দরুদ পড়তে অলসতা করতে পারে? এরপরও কি কেউ সকাল-সন্ধ্যা নবীজির ওপর দুরূদ পড়তে অলসতা করবে! ৪৮
দায়ির সফলতা
তিনি আরও বলেন-
আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকে হিদায়াত লাভ তোমার জন্য লাল উট লাভ করার চেয়েও বেশি কল্যাণকর। ৪৯
এই সওয়াবের কথা শোনার পরেও কীভাবে একজন বান্দা আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে অলসতা করতে পারে?
এরপরও কি কেউ আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে অলসতা করবে? স্ত্রীর বারণ বা পরিবারের বাঁধায় কান দিয়ে রাখবে? ক্লান্তির সামনে দমে যাবে কিংবা হেরে যাবে দুর্বলতার কাছে? বাণিজ্যের লাভ কি তাকে উদাসীন নর-নারীদের সুপথ দেখানোর প্রয়োজনীয়তা ভুলিয়ে দেবে?
টিকাঃ
৪৯ হাদিসের মান: সহিহ, তিরমিযীঃ ৪৮৪, যয়ীফুল জামে: ১৮২১, সহিহ লিগাইরিহী-সহিহ্বত তারগিব: ১৬৬৮।
৪৮ হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যাক্তি সকালে দশ বার এবং সন্ধ্যায় দশ বার আমার উপর দুরূদ পড়বে, সে কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভ করবে।—আবু দারদা রা. এর সূত্রে তবরানীড়সহিহুল জামে : ৬৩৫৭।
৪৯ হাদিসের মান: সহিহ, সাহল ইবনু সা'দ রা. এর সূত্রে আদু দাউদ রহ. সহিহুল জামে: ১৫১১
📄 রবের নিরাপত্তা - শেষ প্রহরের প্রহরীরা
রবের নিরাপত্তা
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন-
যে ব্যক্তি ফজরের সালাত পড়বে সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। ৫০
এই সওয়াবের কথা শোনার পরও কীভাবে একজন বান্দা ফজরের সালাত পড়তে অলসতা করতে পারে? যার পর তার সারাটা দিন স্রষ্টা কর্তৃক নিযুক্ত পাহারায় নিশ্চিন্তমনে কেটে যাবে।
শেষ প্রহরের প্রহরীর।
> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন—
যারা অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের সুসংবাদ দাও কিয়ামতদিবসে পূর্ণ জ্যোতির। ৫১
এই সুসংবাদ শোনার পরও একজন বান্দা কীভাবে গা ডুবিয়ে রাখতে পারে বিছানার ভেতরে? বান্দা দিনের পর দিন অন্ধকারে মসজিদের দিকে হাঁটার বদৌলতে জমা করে যাবে প্রভুর প্রশস্ত আলোকজ্যোতি। যে সঞ্চয় নিয়ে বান্দা হাশরের ময়দানে সকল মানুষের মাঝে গর্ব করবে। আর তারা তার চারপাশে হাজার বছরের অন্ধকারে ডুবে থাকবে!
টিকাঃ
৫০ হাদিসের মান: সহিহ, আবু হুরায়রা রা. এর সূত্রে তিরিমিজি রহ. সহিহুল জামে: ৬৩৩৮
৫১ হাদিসের হাদিসের মান: সহিহ, বুরাইদা রা.-এর সূত্রে আবু দাউদ ও তিরিমিজি, আনাস ও সাহল ইবনু সাদ রা.-এর সূত্রে ইবনু মাজাহ ও হাকিমওসহিহুল জামে: ২৮২৩
📄 গোপনে সালাত - বিশ্বাস কষ্টকর কাজে উৎসাহী করে তোলে
গোপনে সালাত
> তিনি আরও বলেন—
যেখানে কেউ দেখে না এমন জায়গায় কোনো বান্দার নফল সালাত আদায়, প্রকাশ্য স্থানে সালাত আদায়ের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি সওয়াবের। ৫২
এমন বহুগুণ সওয়াবের কথা শুনেও কীভাবে একজন বান্দা বাড়িতে নফল সালাত পড়তে অলসতা করতে পারে?
বিশ্বাস কষ্টকর কাজে উৎসাহী করে তোলে
এজন্যই ইবনু রজব হাম্বলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন—
যে আমলের সওয়াব সম্পর্কে অজ্ঞ, তার ওপরে সেই আমল সবসময়ই ভারী মনে হয়। ৫৩
কেউ কেউ এভাবে ব্যক্ত করেছেন—
পরিণতি সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তি তার সঠিক ধারণার মাধ্যমে বুঝতে পারে, কী হতে যাচ্ছে?
অলসতার বিপরীত হচ্ছে কর্মোদ্যমতা। আর প্রত্যেক উচ্চমনোবলের অধিকারী কর্মঠ ব্যক্তি নিঃসন্দেহে সওয়াবে বিশ্বাসী ও প্রতিদানে নির্ভরশীল হয়ে থাকে।
ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন—
যে সওয়াব নিয়ে দম্ভ করে তার আমল হালকা হয়ে যায়। ৫৪
প্রিয় ভাই,
পরিশ্রম কখনো আলস্যময় পথের সম্ভাবনা রাখে না। সে-ই ফায়সালা করুক!! এই দুর্বলতা এবং পরিশ্রম ও উদ্যমতা হুরের মোহর হতে পারে!!
হে বিভ্রান্ত! গৃহীত (মকবুল) আমল কোথায়! কোনো খাঁটি আমল নেই। কোনো মুত্তাকি কলব নেই!!
বরং ধোঁকায় থেকেই প্রফুল্ল, খেলতামাশাতেই মত্ত।
সুতরাং, এমতাবস্থায় আপনার জান্নাত লাভ হতে পারে কেবল অলৌকিকতার মাধ্যমেই।
আপনার জন্য দুর্ভোগ!
আনুগত্যের ব্যাপারে আপনার অলসতা পাপের ক্ষেত্রে অলসতার সমান নয়। জান্নাতের ব্যাপারে উদাসীনতা আপনাকে বিনাশের দিকে ঠেলে দেবে।
এ ধরনের আমলে কেউ-ই খুশি হতে পারে না। তবে কীভাবে এমন আমলে অদ্বিতীয় সেই সত্ত্বা খুশি হয়ে যাবেন!!
টিকাঃ
৫২ হাদিসের হাদিসের মান : সহিহ, সুহাইব আর-রুমি থেকে আবু ইয়ালা, সহিহুল জামে : ৩৮২১, এজন্য রবী ইবনু খাইসামকে একবার ছাড়া আর কখনোই মসজিদে নফল পড়তে দেখা যায়নি আমের ইবনু আবদে কায়েসকে কখনোই মসজিদে নফল পড়তে দেখা যায়নি তারা বাড়িতে পড়তেন সকলের চোখের আড়ালে থেকে
৫৩ আল-জামে লি তাফসীরিল ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি : ২/১৫৮, দারুল আসিমা, আল-মামলাকাতুস-সাউদিয়্যাহ।
৫৪ যাম্মুল হাওয়া: ৫৯, ইবনুল জাওজি
📄 নবী আদেশ কার্যকর হবেই - জান্নাত তরবারির ছায়াতলে
নববী আদেশ কার্যকর হবেই
ভেবে দেখেন তো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আমাদের কাউকে সরাসরি সম্বোধন করে বলেন—
এই শোনে, তোমার এই কাজটি এইভাবে করো, ওইটা ওইভাবে করো।
তাহলে আমাদের কেউ সেই কাজ বাস্তবায়নে গড়িমশি করার দুঃসাহস দেখাব? তো এই জায়গা থেকেই প্রশ্ন হলো—
⇒ নবীজি আমাদের সরাসরি বলা আর তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর মাঝে পার্থক্যটা কী?
⇒ তাঁর নিজ মুখের আদেশ আর লিখিত কিতাব আকারে আসা নির্দেশ—যা শেষে গিয়ে একই বিষয়; দুটোর মাঝে কী ব্যবধান?
⇒ আপনারা কি এমন কোনো ব্যবসায়ী দেখেছেন, যে লাভবান হতে হতে ক্লান্ত হয়ে যায়?
⇒ অথবা মূলপুজির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভ হবে—এমন কোনো চুক্তির মাঝপথে গিয়ে ঘুমিয়ে যায়?
=> তাদের কাউকে কি এমন কথা বলতে শুনেছেন যে, আমি এত সম্পদ ও এত এত লাভে বিরক্ত?
=> তবে কী হলো আপনাদের? পরকাল উপার্জনে অলসতা করছেন যে? পরকালের সওয়াব লাভে বিমুখ হয়ে আছেন যে!
এভাবে দুর্বলতা আপনাদের মনে স্থায়ী আসন গেড়ে নেবে, অলসতা হয়ে যাবে আপনার একান্ত অতিথি। যে কদিন পরপরই আসবে আপনার সাক্ষাৎ লাভের জন্য।
জান্নাত তরবারির ছায়াতলে
আমল যত কঠিন হবে, সওয়াব ততই বেশি হবে। আর জিহাদের চেয়ে কঠিন কোনো আমল নেই। জিহাদ হলো, জান-মাল খরচ করা, পরিবার-পরিজন ত্যাগ করা। এজন্যই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মহাপুরস্কার রণাঙ্গণে নির্ধারণ করে বলেছেন-
জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে। ৫৫
আমাদের কেউ যখন শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে তখন আমরা যেন জেনে নিই, তার রক্তকে যদি কথা বলার অনুমতি দেওয়া হতো, তবে সে চিৎকার করে বলত-
আমার জন্য ব্যথিত হয়ো না; বরং তোমরা নিজেদের জন্য আফসোস করো যে, তোমরা আমার মতো আশ্রয়স্থলের সন্ধান এখনো পেলে না।
আমার জন্য শোকাহত হয়ে অশ্রু ঝরাতে যেয়ো না; বরং আমার কাছে যা আছে সে জন্য আনন্দের অশ্রু ঝরাও।
একে আপনার যাত্রার শেষ গন্তব্য অথবা উপন্যাসের সমাপ্তি মনে করবেন না। বরং, আল্লাহর শপথ, এ হচ্ছে যাত্রার প্রথম গন্তব্য এবং উপন্যাসের সূচনা পৃষ্ঠা। এক নতুন গল্পের শুরু। যে গল্পের নাম, জান্নাত। যার চেয়ে নেই চমৎকার কোনো কিছু।
টিকাঃ
৫৫ হাদিসের মান: সহিহ, আবু মুসা আশয়ারী রা. এর সূত্রে বুখারি, মুসলিম ও হাকিমড়সহিহুল জামে : ৩১১৭