📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 প্রতিদানে নিশ্চিত বিশ্বাস - জান্নাতের মুসলমান-সম্পন্ন আমল

📄 প্রতিদানে নিশ্চিত বিশ্বাস - জান্নাতের মুসলমান-সম্পন্ন আমল


তৃতীয় পদক্ষেপ
প্রতিদানে নিশ্চিত বিশ্বাস
জামাতের মূল্যমান-সম্পন্ন আমল
হে বিনামূল্যে সর্বস্ব বিক্রেতা শূন্যহস্ত লোক, একটু শোনেন আপনার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী বলেছেন; তিনি বলেছেন-
কোনো ব্যক্তি যদি জন্ম থেকে নিয়ে বয়োঃবৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় সিজদায় লুটিয়ে থাকে তবুও তা কিয়ামতের দিন নিতান্তই তুচ্ছ হিসেবে পরিগণিত হবে। ৪২
জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি দীর্ঘ সিজদায় পার করে দেওয়াটাও এমন মূল্যবান কোনো আমল নয়-যা জান্নাতের বিনিময় হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কেননা, জীবন তো এক নির্ধারিত সময়ের নাম। আর জীবনে আপনার আমলও সীমিত; অথচ এর প্রতিদান সীমাহীন। যে প্রতিদান দেখে নি কোনো চক্ষু। তাঁর বর্ণনা শোনে নি কোনো কান। এমনকি তা মানুষের উন্নত মস্তিস্কের কল্পনাতেও ভেসে ওঠে নি কখনো。

টিকাঃ
৪২ হাদিসের মান : সহিহ লিগাইরিহি, উতবাহ ইবনু আব্দুল্লাহ রা. এর সূত্রে তাবরানীতে বর্ণিত; সহিহ্বত তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩৫৯৬

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 একটু ভাবেন - অটল বিশ্বাস

📄 একটু ভাবেন - অটল বিশ্বাস


“ পরিশেষে যখন আমরা সেই প্রতিদান দেখব নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করব সেই সৌন্দর্য তখন স্পষ্ট বুঝতে পারব যে, এর বিপরীতে আমি ছিলাম নিতান্তই খেলতামাশায় মত্ত। ”
একটু ভাবেন
সে অলসতায় নিমজ্জিত প্রিয় ভাই আমার, দিন এভাবে কাটতে থাকলে আপনার সামনে জান্নাতের সুঘ্রাণও যদি ছড়িয়ে পড়ে, তবুও আপনি সেই ঘ্রাণ অনুভব করতে পারবেন না।
সে জান্নাতের আরাম-আয়েশ ভুলে গিয়ে, জান্নাতি হুরদের সংস্রব- বিমুখ মিথ্যা আরামের নেশায় চুর হয়ে যদি পড়ে থাকেন এভাবে, কীভাবে তবে জান্নাতের অধিবাসী হবেন আপনি? অলসতায় নিমজ্জিত লোকেরা কী করে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে, বলেন! কোনো পণ্যের মূল্য পরিশোধ ব্যতীত কীভাবে তা অধিকারে আসে, বলেন!
সে লেনদেনের নীতি-সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির অবস্থা কী হতে পারে লেনদেন করতে গেলে!
সে নফসের চাওয়া-পাওয়া, অন্যায়-অবাধ্যতা ও অনুভূতিহীনতার মাধ্যমে যে লোক আগুন কিনছে, আখেরে তার কী হবে তার দশা!
যে যার প্রাপ্তির ঝুলিতে নিঃস্বতা ছাড়া আর কিছুই নেই, কিয়ামতের দিন কী করুণ অবস্থাই না হবে তার!
সে ভেবেছেন, যার জন্য আল্লাহ তাআলা আট জান্নাতের দরজা খুলে দেবেন, সেই ভাগ্যবান যদি আপনি না হতে পারেন, কী হবে তখন?
সে যে দরজা আপনি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন, কী মনে করেন— তা কি এমনিতেই খুলে যাবে আপনার জন্য?
যে আপনি যদি নিজেই জান্নাতের প্রতি আগ্রহী না হন, কী মনে হয়, জান্নাত কি নিজেই আপনাকে স্বাগত জানাবে?
যে আপনি যদি জান্নাতবিমুখ হন, তবে জান্নাত কি নিজেই আপনার কাছে চলে আসবে?
অটল বিশ্বাস
প্রতিদান-প্রাপ্তির বিশ্বাস মানুষকে তার কাজ আঞ্জাম দেওয়ার প্রতি অনুপ্রাণিত করে এবং রক্ষা করে অলসতার নগ্ন হামলা থেকে। একইভাবে ইবাদতের প্রতিদানলাভের বিশ্বাস ইবাদাতে অবহেলা করা থেকে বাধা দেয়। হাদিসের বর্ণনা দেখেন—
‘তাহজিরে’৪৩ সালাতে যাওয়ায় কী পরিমাণ সাওয়াব, তা যদি লোকেরা জানত, ‘তাহজিরে’ তবে দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেত।৪৪

টিকাঃ
৪৩ দুপুরের প্রখর রোদের সময়
৪৪ হাদিসের হাদিসের মান : সহিহ, আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে বুখারি ও মুসলিম রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন; সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব: ২৩১

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 অপরিণামদর্শী - প্রেরণাদায়ক ‘সম্ভাবনা’

📄 অপরিণামদর্শী - প্রেরণাদায়ক ‘সম্ভাবনা’


'তাহজির' মানে প্রখর রোদে চলা। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সালাতের জন্য চলে যাওয়া-ও এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত। তাহজিরের কারণ হলো, বান্দা যেন সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকার সওয়াবটুকুও লাভ করতে পারে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রতিদানপ্রাপ্তি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন ব্যক্তিকে অলসতা বর্জনে সাহায্য করে। নিজের কাজের তাকে উৎসাহী করে তোলে。
অপরিণামদর্শী
অধিকাংশ ক্ষেত্রে অলসতা ও অবহেলা আসে তখন, অর্পিত কাজের প্রতিদান সম্পর্কে যখন তার জানা থাকে না। এজন্যই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর ও এশার সালাতে বিলম্বকারীদের ব্যাপারে বলেন-
এই দুই সালাতে যে পরিমাণ সাওয়াব আছে—তা যদি লোকেরা জানত, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সালাতে আসত।৪৫
অর্থাৎ, যদি তারা এই দুই সালাতের সওয়াব সম্পর্কে জানত তাহলে তারা সালাতে অনুপস্থিত থাকত না। যদিও তারা প্রচণ্ড অসুস্থতার দরুণ বিছানায় কাতরায় বা ভালোভাবে নড়াচড়া করতে না পারে। আবু দারদা রাজিয়াল্লাহু আনহু মরণাপন্ন অবস্থায় বলেছেন—
একটি কথা তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং পরবর্তীদের কাছে পৌঁছে দিয়ো—
ফজর ও এশা—এই দুই সালাত জামাতে পড়ার ব্যাপারে যত্নবান হও। তোমরা যদি এই দুই সালাতের সওয়াব সম্পর্কে জানতে তবে তোমরা বাহু ও হাটুতে ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও চলে আসতে। ৪৬
মুনাফিকরাও জানে। তবে তা কেবল তাদের মস্তিষ্ক পর্যন্তই আটকে থাকে। তাদের অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে না। অর্থাৎ, তারা মনেপ্রাণে তা বিশ্বাস করে না। তাই অবহেলা করে। কথা তো সত্য বলে; কিন্তু কাজে-কর্মে মিথ্যাচারের ভেতরে মিথ্যাচার করে বেড়ায়।
খামখেয়ালিপনা
যাকে উপদেশ দেওয়া হলে বলে আমি এসব জানি; অথচ কাজ করে এমন ব্যক্তির মতো—যে কিছু বোঝেও না, জানেও না; তার ধ্বংস অনিবার্য! আপনি সেই ব্যক্তির মতো, যার ব্যাপারে বলা হয়েছে—
আমি তাকে বললাম ‘জায়েদ’, আর সে শুনল ‘খালেদ’; লিখল ‘উমর’ আর পড়ল ‘বকর’!
প্রেরণাদায়ক ‘সম্ভাবনা’

টিকাঃ
৪৫ হাদিসের মান: সহিহ, আবু হুরায়রা রা. এর সূত্রে ইবনু মাজাহ, ৭৯৭
৪৬ আল-ইস্তিজকার: ১/৩৭৯, ইবনু আব্দির বার, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ > 📄 নবীজি কাছে - দায়ির সফলতা

📄 নবীজি কাছে - দায়ির সফলতা


নবীজি কাছে
> নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার সবচে কাছের হবে সে ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচে বেশি দরুদ পড়বে। ৪৯
এই সওয়াবের কথা শোনার পরও কীভাবে একজন বান্দা নবীজির ওপর দরুদ পড়তে অলসতা করতে পারে? এরপরও কি কেউ সকাল-সন্ধ্যা নবীজির ওপর দুরূদ পড়তে অলসতা করবে! ৪৮
দায়ির সফলতা
তিনি আরও বলেন-
আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকে হিদায়াত লাভ তোমার জন্য লাল উট লাভ করার চেয়েও বেশি কল্যাণকর। ৪৯
এই সওয়াবের কথা শোনার পরেও কীভাবে একজন বান্দা আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে অলসতা করতে পারে?
এরপরও কি কেউ আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে অলসতা করবে? স্ত্রীর বারণ বা পরিবারের বাঁধায় কান দিয়ে রাখবে? ক্লান্তির সামনে দমে যাবে কিংবা হেরে যাবে দুর্বলতার কাছে? বাণিজ্যের লাভ কি তাকে উদাসীন নর-নারীদের সুপথ দেখানোর প্রয়োজনীয়তা ভুলিয়ে দেবে?

টিকাঃ
৪৯ হাদিসের মান: সহিহ, তিরমিযীঃ ৪৮৪, যয়ীফুল জামে: ১৮২১, সহিহ লিগাইরিহী-সহিহ্বত তারগিব: ১৬৬৮।
৪৮ হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যাক্তি সকালে দশ বার এবং সন্ধ্যায় দশ বার আমার উপর দুরূদ পড়বে, সে কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভ করবে।—আবু দারদা রা. এর সূত্রে তবরানীড়সহিহুল জামে : ৬৩৫৭।
৪৯ হাদিসের মান: সহিহ, সাহল ইবনু সা'দ রা. এর সূত্রে আদু দাউদ রহ. সহিহুল জামে: ১৫১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00