📄 নিফাকের ফাঁদের ভয় - নিফাকের সত্যিকারের
দ্বিতীয় পদক্ষেপ
নিফাকের ফাঁদের ভয়
নিফাকের সূতিকাগার
যদি অলসতার অন্য কোনো মন্দ দিক নাও থাকত, তারপরও এটা যে মুনাফিকদের সুস্পষ্ট আলামত, বা অলসতা থেকেই নিফাকের সূচনা হয়, এটাই অলসতাকে মন্দ প্রমাণিত করার জন্য ছিল যথেষ্ঠ। এজন্যই আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের তিরস্কার করে বলেছেন-
وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَى وَلَا يُنْفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ.
তারা সালাতে আসে আলস্য ভাব নিয়ে এবং দান করে মনতুষ্টির বিপরীতে।
আপনি এই আয়াতে দু-ধরনের অলসতা দেখতে পাবেন-
* ১ম প্রকার: ইবাদত না করার শারীরিক অলসতা। যা মানুষকে অভ্যস্ত করে তোলে সালাতে বিলম্ব করার প্রতি। এটি সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় ফজর এবং এশার সালাত, এই দুই পরীক্ষার সময়। এজন্যই মুনাফিকরা পেছনে রয়ে যায়।
টিকাঃ
* সূরা তওবা, আয়াত: ৫৪
📄 ক্ষতির শঙ্কা - এ-যুগের হুজাইফা
২য় প্রকার : অন্তরের অলসতা। যা খরচ করায় গড়িমশি করা, কল্যাণের কাজে অগ্রসর না হওয়া ও দ্বিধায় ভূগা এবং প্রতিরক্ষীদের তালিকায় সর্বশেষ সারিতে আসন গ্রহণে উৎসাহ যোগায়। তাদের গলার ফাঁস সংকীর্ণ হয়ে এলে তারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আনুগত্য করে। এতেও তারা কোনো মতলব নিহিত রাখে। এজন্যই মুনাফিকরা লৌকিকতাকারী।
ক্ষতির শঙ্কা
শয়তানের সাথে আমাদের সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের এই বার্তা দেয় যে, (দোষ ত্রুটি জন্মদানকারী) শয়তানের বিভ্রান্তিকর ধোঁকায় পড়ে আমাদের প্রবৃত্তি এক বা দুটি অপরাধেই ক্ষান্ত হয় না। যদি না আপনি আপনার সমস্যার সমাধা করেন এবং অবাধ্যতার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট ক্ষতে পট্টির ব্যবস্থা করেন। কেননা, ক্ষত দিন দিন বাড়তেই থাকবে। এই ক্ষত বড় হয়ে গেলে আশংকা করি, আপনি আপনার ঈমানকে উদাসীনতার অতল গহীনে আবিস্কার করবেন। পাপের আঘাতে জর্জরিত হতে হতে আপনার অন্তর হয়ে যাবে মৃত। যদি না আপনি শীঘ্রই জেগে ওঠে শত্রুর নিরবচ্ছিন্ন ভ্রান্তি প্রচার ও ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
এ-যুগের হুজাইফা
হায়, এখনো যদি সবার জন্য জিহাদের দরজা খোলা থাকত, তবে জিহাদে যাওয়া-না-যাওয়ার বিবেচনায় আমরা আমাদের অন্তরে নিফাকির গোপন অনুপ্রবেশ পরখ করে দেখতে পারতাম!
হায়, যদি আকাশ থেকে ওহি আসার ধারা বন্ধ না হতো! তবে ওহি এসে মুনাফিকদের নামগুলো বলে তাদের লাঞ্চনায় ফেলত! ওলট-পালট করে দিত মিথ্যা দাবিদারদের কাতার!
হায়, প্রিয় নবীজির গোপন বার্তার রক্ষক হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান যদি আমাদের মাঝে থাকতেন! তাহলে তিনি মুমিন ও মুনাফিকদের নামগুলো আমাদের সামনে উন্মোচন করে দিতেন!৩৪ তাদের ওপর বদদুআ করে হোক কিংবা না করে।
কিন্তু আজ আমাদের ঈমান ও নিফাকি, সততা ও দোষ-ত্রুটি নির্দেশক প্রমাণ হিসেবে আমাদের ব্যক্তিগত আমল ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। হয়তো এব্যাপারে সবচে গুরুত্বপূর্ণ আমল সেটাই, যে ব্যাপারে আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাজিয়াল্লাহু আনহু নির্দেশনা দিয়েছেন-
আমরা কাউকে এশা ও ফজরের সালাতে না পেলে তার (ঈমানের) ব্যাপারে মন্দ ধারণা করতাম। ৩৫
মন্দ ধারণার অর্থ হলো, তারা মনে করতেন যে, সে মুনাফিকদের সাদৃশ্য অবলম্বন করছে, তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সুতরাং আজ এ বিষয়ের বাস্তবতা খুঁজতে আমাদের করণীয় হবে (এই যুগের হুজাইফা) তথা এমন কিছু আমল-যা গোপন বিষয়গুলো প্রকাশ করতে পারে। কেননা, মুনাফিকদের তালিকা জানা একমাত্র মানুষটিকে মৃত্যু অদৃশ্য করে দিয়ে এই রহস্য চিরতরে গোপন করে রেখেছে।
টিকাঃ
৩৪ হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোপন বিষয়ের সংরক্ষক ছিলেন তিনি তাকে মুনাফিকদের নামগুলো বলেছিলেন উমর রা. প্রত্যেক জানাজায় তার অপেক্ষায় থাকতেন তিনি নামাজে আসলে উমর রা. সেই ব্যাক্তির নামাজ পড়তেন; এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে যে, সে মুসলমান হুজাইফা রা. কোনো জানাজায় না আসলে উমর রা. সেই জানাজা পড়তেন না; কেননা, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন উমর রা. হুজাইফা রা. কে জিজ্ঞেস করেছেন, হে হুজাইফা, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আমার নামও বলেছেন? তিনি বললেন, না তবে আপনার পর অন্য কাউকে (এভাবে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়ে) আমি পরিশুদ্ধ করে দিব না
৩৫ সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪১৭
📄 উদার প্রস্তাবনা - দুটি পথ, যা ভিন্ন তৃতীয় কোনো পথ নেই
উদার প্রস্তাবনা
দুটি পথ, যা ভিন্ন তৃতীয় কোনো পথ নেই
একটি পথ মুনাফিকদের, যা তাদেরকে জাহান্নামের অতল গহীনে নিয়ে ফেলবে। আরেকটি মুমিনদের পথ, যা তাদের নিয়ে যাবে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে এবং সৎকর্মশীলদের কাতারে। সুতরাং যে পথ বেছে নিতে চান বেছে নেন। এই প্রস্তাবের উপস্থাপনা আমি করছি না; বরং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন-
কাঁটাগাছ থেকে যেমন আঙুর আহরণ করা যায় না, ঠিক তেমনি সৎকর্মশীলদেরকে পাপাচারীর কাতারে নামিয়ে আনা হবে না। সুতরাং তোমরা যে পথ ইচ্ছা বেছে নাও! তোমরা যে পথে চলবে, সে পথের লোকদের সাথেই অবতরণ করবে। ৩৬
একটি স্পষ্ট কথা, যা পৃথককরণ অসম্মানজনক
যে মুমিনদের পথে চলবে সে মুমিনদের মতোই প্রতিদান লাভ করবে; জান্নাতের আবাসগৃহে মিলিত হবে তাদের সাথে। আর যে অলসতা ও পিছলে পড়ার মাধ্যমে নিফাকির পথ বেছে নেবে, তার ভেতরে নিফাকির ব্যাধি সংক্রমিত হবে। যার ফলশ্রুতিতে সেও জাহান্নামের অতল গহীনে পিছলে পড়বে। আর যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে-ও তাদের একজন হয়ে যায়।
টিকাঃ
৩৬ হাদিসের মান: হাসান, আবু নু'আইম, হিলয়াহ, আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ: ২০৪৬
📄 একটি স্পষ্ট কথা - ঘাতক ভীতি
একটি স্পষ্ট কথা, যা পৃথককরণ অসম্মানজনক
যে মুমিনদের পথে চলবে সে মুমিনদের মতোই প্রতিদান লাভ করবে; জান্নাতের আবাসগৃহে মিলিত হবে তাদের সাথে। আর যে অলসতা ও পিছলে পড়ার মাধ্যমে নিফাকির পথ বেছে নেবে, তার ভেতরে নিফাকির ব্যাধি সংক্রমিত হবে। যার ফলশ্রুতিতে সেও জাহান্নামের অতল গহীনে পিছলে পড়বে। আর যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে-ও তাদের একজন হয়ে যায়।
ঘাতক ভীতি
সালাফের নিফাকভীতি
উমর ইবনু আবদুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহুর একজন ভাই ছিলেন। যিনি খুব নেককার ছিলেন। তিনি খিলাফতের আসনে বসে ভাইকে ডেকে বললেন—
> সালেম, আমি আশংকা করছি যে, আমি রক্ষা পাব না।
তাঁর ভাই বললেন—
> আপনি আশংকা করে থাকলে তো ভালো কথা। তবে আপনার ব্যাপারে আমার ভয় ছিল—আপনি এই আশংকাটিই করবেন না। ৩৭