📄 তার উদাসীনতা কতই না নিকৃষ্ট - তার দলিল কতই না দুর্বল
তার উদাসীনতা কতই না নিকৃষ্ট
যে সর্বাধিক শক্তিশালী হাতিয়ার থেকে উদাসীন হয়ে থাকে। পাশাপাশি অন্তরের উপস্থিতি ছাড়া কেবল জবান নাড়ানোতে তার কোনো খারাপ লাগে না!
তার দলিল কতই না দুর্বল
যে আনুগত্যের সুউচ্চ শিখর থেকে উদাসীনতার অতল গভীরে নিপতিত হয়। এরপর আসমান-জমিনের প্রতাপশালী সত্ত্বার কাছে ফিরেও আসে না! এজন্যই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন—
সবচেয়ে অক্ষম তো সেই ব্যক্তি, যে দুআ করতে পারে না’। ২৯
সিংহের ভয় মানুষকে নিয়ে যায় দুর্গের আশ্রয়ে; কিন্তু অলসতার আক্রমণ ঠেকাতে মহান প্রভুর তত্ত্বাবধান ভিন্ন বিকল্প কোনো পথ নেই। কেননা, সৃষ্ট সম্পর্কে স্রষ্টার চেয়ে ভালো কেউ জানেন না। শিল্প সম্পর্কে শিল্পীর মতো করে আর কেউ বোঝেন না。
টিকাঃ
২৯ হাদিসের মান: সহিহ, তাবরানী, বাইহাকিড়সহিহুল জামে : ১৯২৪।
📄 অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন - ইবনুল জাওজির নসিহত
অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন
আমাদের পূর্ববর্তি নবীগণকে কে সাহায্য করেছেন? বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্ররোচনার মুহূর্তে সৎকর্মশীলদের আনুগত্যের তাওফিক কে দিয়েছেন? আল্লাহ তাআলার সাথে কি আরও ইলাহ আছে?
ঐশী দয়ার আকর্ষণ এবং খোদায়ী অনুগ্রহের ধারাবাহিকতা প্রত্যেক বিমুখ ব্যক্তিকে অগ্রসর হতে আগ্রহী করে তোলে। হতাশাগ্রস্তদের জড়ো করে মুক্তির বাঁধনে। নাড়িয়ে তোলে বহু বছরের জমে যাওয়া অন্তরগুলোকে। সকল দয়াময়ের দয়াশীল যিনি, তার চেয়ে মহানুভব আর কে আছে!
ইবনুল জাউজির নসিহত
ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহু এই বিষয়টি অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি প্রায়ই অকর্মণ্য অলসদের ক্ষেত্রে উচ্চকণ্ঠে বলে বেড়াতেন—
সেই সত্ত্বার সামনে নিজেকে পেশ করো, যিনি তাদের (দুনিয়ার দাতাদের) দান করেন। সবকিছু তাঁর কাছেই চাও। যিনি তোমার মালিক, সেই তিনিই তো তাদের মালিক। ৩০
টিকাঃ
৩০ আল-মুদহিশ ৪২৮, ইবনুল জাওজি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
📄 এই দুআ ভুলো না
এই দুআ ভুলো না
সাহাবি মুআজ রাজিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন—
মুয়াজ, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। মুআজ, তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি, প্রত্যেক সালাতের পর এই দুআ করতে ভুলো না—
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
হে আল্লাহ, আপনার জিকর, শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং উত্তম পন্থার ইবাদতে আমাকে সাহায্য করেন। ৩১
এই দুআ এক নববী উপহার-যা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় এবং কাছের মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এমনকি প্রিয় হওয়ার ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কসমও করেছেন। মানুষ তার প্রিয় ব্যক্তির জন্য সবচে কল্যাণকর বিষয়েরই পরামর্শ দিয়ে থাকে-এতে কোনো সন্দেহ নেই। মুআজ ইবনু জাবাল রাজিয়াল্লাহু আনহুকে তিনি নসিহত করার আগেই ভালোবাসার বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছেন; যেন তাকে দেওয়া নসিহত গ্রহণে সর্বোচ্চ নির্ভরতা আসে। নসিহত প্রদানেও গুরুত্ব বাড়াতে এবং অবহেলার ভয়াবহতা বুঝাতে 'নুন'৩২ ব্যাবহার করেছেন।
সারমর্ম কী
এই নসিহতের সারমর্ম হলো, সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য চাওয়া। যদি দুর্বলতা ও অলসতা আপনার ওপর চেপে বসে তবে এই দুআ হবে আপনার জন্য নিরাময়ের এক চুমুক কার্যকরী ঔষধ। আপনি যদি হন দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন এবং কর্মঠ, তবে আপনার বেলায় এই দুআ হবে এক চামচ প্রতিরক্ষামূলক ঔষধ। আপনি যদি সংকল্পের দৃঢ়তায় অবনতি এবং শক্তিহীনতার নগ্ন হামলা থেকে বেঁচে থাকতে চান, তবে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর এই মহৌষধের পাঁচ চুমুক গ্রহণ করেন। এটিই আরোগ্যলাভের নববী মহৌষধ, যা প্রিয়নবী আপনাকে বলে দিলেন। এই পাঁচ চুমুক ঔষধ আপনাকে আরোগ্য দেবে এবং এর মাধ্যমেই আপনি খুঁজে পাবেন সঠিক পথের দিশা।
বান্দার পক্ষ থেকে অধিক হারে দুআ তাকে কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অধিকতর সফল, অবিচল, উচ্চ মনোবলের অধিকারী এবং উদ্যমী করে তোলে। যে-কোনো অবস্থাতেই বান্দা সাহায্য-সহযোগিতার প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। আর এই দুআ থেকে বিমুখ হওয়া মানে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া। অতএব, আপনার জন্য যে পদ্ধতি উপযোগী মনে হয় সেটাই বেছে নেন।
টিকাঃ
৩১ হাদিসের মান: সহিহ, মুয়াজ ইবনু জাবাল রা. এর সূত্রে আহমদ আবু দাউদ ও নাসায়ি রহ. সহিহুল জামে: ৭৯৬৯, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুয়ায় কলব এবং জবান ও অঙ্গের আমলকে একত্র করেছেন (তোমার জিকর) জবানের ইবাদত, (তোমার শুকরিয়া জ্ঞাপন) অন্তরের ইবাদত, (ইবাদতের উত্তম পদ্ধতি) অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ইবাদত
৩২ এর নাম নূনে তাকিদ; যা অধিক গুরুত্ব বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়