📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 শক্তির অনুপস্থিতি দুই প্রকার - আশ্রয় চাওয়ার অর্থ দুটি

📄 শক্তির অনুপস্থিতি দুই প্রকার - আশ্রয় চাওয়ার অর্থ দুটি


বয়সের প্রতিক্রিয়া এবং বয়স বাড়তে থাকা।
• দুই. অর্জিত শক্তির অনুপস্থিতি। তা হলো অলসতা; যা উদ্যমতাকে ব্যাহত করে এবং উদাসীনতা ও শিথিলতায় উৎসাহী করে তোলে।
এজন্য নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুই ধরনের সমস্যা থেকেই পানাহ চাইতেন। সকালবেলা এই দুআ করে তিনি দিনের কাজ তথা দাওয়াত, জিহাদ এবং শত্রুর মুখোমুখি হওয়া ইত্যাদিতে ত্রুটি-বিচ্যুতির শিকার হওয়া থেকে সাহায্য প্রার্থনা করতেন। আর রাতের বেলা এই দুআ করে সালাত, জিকর এবং মুনাজাতসহ রাতের অন্যান্য আমলে ভুল-ত্রুটি হওয়া থেকে সাহায্য চাইতেন।
আশ্রয় চাওয়ার অর্থ দুটি
• এক. অন্য কারও সাথে একজোট হওয়া এবং অন্যের সাথে যুক্ত হয়ে বিপদ থেকে আত্মরক্ষা করা।
• দুই. মিলিত হওয়া।

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 সবচেয়ে সুস্বাদু গোশত - দৃঢ়তা ও সাহায্য প্রার্থনা

📄 সবচেয়ে সুস্বাদু গোশত - দৃঢ়তা ও সাহায্য প্রার্থনা


সবচেয়ে সুস্বাদু গোশত
এক বেদুইন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হলো—সবচেয়ে সুস্বাদু গোশত কোনটি? সে বলল, عوذة (উওয়াজুহু)। অর্থাৎ, হাড়ের সাথে লেগে থাকা গোশত। কোনো মহিলা সন্তান প্রশব করলে আরবের লোকেরা তাকে عائذ 'আয়িজ' বলে। তাকে এই নামে ডাকা হয় তার সন্তান তার সাথে মিলে থাকার কারণে। এখানে এর অর্থ হলো-
বিপদ ঠেকাতে আল্লাহর প্রশস্ততা ও উদারতার রাজ্যে রওয়ানা হওয়া।
আমর ইবনু আফফান আল-মাক্কি রাহিমাহুল্লাহ বলেন—
আল্লাহ তাআলা তার নবীকে রোগের আরোগ্যলাভ, ব্যাপক সাহায্য ও ইবাদত সূচনার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ।
তোমাকে যদি শয়তানের কোনো চক্র পেয়ে বসে তবে তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রুত ও সর্বজ্ঞ।২৫
সুতরাং পানাহ চাওয়ার মানে হলো—আপতিত ক্ষতি প্রতিরোধে দুআ করা। এর সাথে যদি তোমার কলবের উপস্থিতি পাওয়া যায় তাহলে এই ঔষধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সুস্থতা তরান্বিত হবে। ঔষধের মাত্রা যত বাড়বে, প্রতিক্রিয়া হবে তত বেশি এবং সমস্যার সমাধান হবে তত দ্রুত। এজন্যই হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাজিয়াল্লাহু আনহু আপনাকে দুআর সময় অন্তরের উপস্থিতি এবং ভয়ের আদেশ দিয়েছেন; যেন তা কবুলের নিকটবর্তী হয় এবং উদ্দেশ্যপূরণে আশা বেড়ে যায়। তিনি বলেছেন—
তোমরা একসময় এমন এক যুগে উপনীত হবে যখন একমাত্র সেই ব্যক্তিই বাঁচতে পারবে, যে পানিতে ডুবতে থাকা ব্যক্তির মতো করে অনবরত দুআ করতে থাকবে। ২৬
দৃঢ়তা ও সাহায্য প্রার্থনা
দৃঢ়তার দুআ
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহিস সালাম উপদেশ দিয়েছেন-
শাদ্দাদ ইবনু আউস, শোনো, যখন তুমি লোকদের স্বর্ণ-রূপা জমা করে রাখতে দেখবে, তখন এই কথাগুলো স্মরণে রেখো-
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ، وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ، وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ قَلْبَا سَلِيماً، وَلِسَانَا صَادِقَاً، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ
হে আল্লাহ, আপনার কাছে চাই কাজের দৃঢ়তা, সঠিক পথে অবিচলতা। চাই আপনার নিয়ামতের শুকরিয়া এবং উত্তম পন্থায় ইবাদতের তাওফিক। চাই আপনার রহমতের নিশ্চয়তা এবং ক্ষমা লাভের দৃঢ়সংকল্প। চাই প্রশান্ত অন্তর এবং সত্যবাদী জবান। চাই কল্যাণকর জ্ঞান। আর পানাহ চাই অকল্যাণকর জ্ঞান থেকে। পানাহ চাই যা শিখেছি তার ভুলত্রুটি থেকে। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।২৭

টিকাঃ
২৫ তারিখু বাগদাদ : ১৪/১৩৬, আবু বকর আল-বাগদাদী, দারুল আরাবিল ইসলামী, বৈরুত।
২৬ সিলাহুল মুমিন ফিদ-দুয়া ওয়ায-যিকর: ৩৯, তাকিউদ্দীন ইবনুল ইমাম, দারু ইবনি কাসীর, দামেস্ক, বৈরুত।
২৭ হাদিসের মান: সহিহ, আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ : ৩৮৮৮

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 দৃঢ়তার দুআ - আমরা সবাই-ই নিঃস্ব!

📄 দৃঢ়তার দুআ - আমরা সবাই-ই নিঃস্ব!


এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এখানে উল্লেখিত এগারোটি বিষয়ের দুআর মাঝে প্রথম দুআ ছিল কাজের দৃঢ়তালাভের জন্য। এর অর্থ, দৃঢ়তা হচ্ছে প্রত্যেক কল্যাণের চাবিকাঠি এবং যে-কোনো মর্যাদালাভের অবতরণিকা। দৃঢ়তার বিপরীতে আসে অবসান। আর অবসানের প্রথম ধাপ অলসতা। সুতরাং যে ব্যক্তি অলসতার পথে হাঁটবে সে দৃঢ়তার গন্তব্যের পথে হোঁচট খাবেই।
যেহেতু সকল কল্যাণের চাবিকাঠি আল্লাহ তাআলার হাতে, আর সৃষ্টজীবের প্রত্যেকেরই রয়েছে কল্যাণের প্রয়োজন। তাই মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। যেন আমরা তার কাছ থেকে দৃঢ়তা চাইতে পারি পরিপূর্ণভাবে। যেমন দৃঢ়তা আমার চাইব—
* দ্বীনের ওপর দৃঢ়তা, যাতে নেই কোনো সন্দেহের ছিটেফোঁটা।
* আনুগত্যের ওপর দৃঢ়তা, যাতে নেই দুর্বলতা ও অবনতি।
* হিদায়াতের ওপর দৃঢ়তা, যাতে নেই কোনো ভ্রান্তি ও বক্রতা।
* সূচনায় দৃঢ়তা, যাতে নেই দোদুল্যমানতা কিংবা মাঝপথে ছিটকে পড়ার আশংকা।
* ওয়াদা পূরণে দৃঢ়তা, যাতে নেই কোনো বিশ্বাসঘাতকতা ও ধোঁকা।
* সংযম ও লজ্জার ওপর দৃঢ়তা, যাতে নেই সর্বধ্বংসী পরিবেশ ও অসৎ সঙ্গের প্রশ্রয়।
আমরা সবাই-ই নিঃস্ব!
নবীজির নিবেদন
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আল্লাহর কাছে এমন মহান মর্যাদার অধিকারী; যে মর্যাদা দুনিয়ার অন্য কারও অর্জিত হয় নি। তিনি ছিলেন

📘 অলসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ 📄 নবীজির নিবেদন - যে দুআ করতেন তিনি

📄 নবীজির নিবেদন - যে দুআ করতেন তিনি


মহান রবের সবচেয়ে একান্তজন। এতদসত্ত্বেও আল্লাহর বিশেষ তাওফিকের কল্যাণেই তিনি হকের ওপরে অটল ছিলেন। তাঁর রব তাঁকে সম্বোধন করে বলেন—
وَلَوْلَا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا. إِذًا لأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا.
আমি আপনাকে অবিচল না রাখলে আপনি তাদের দিকে কিছুটা আকৃষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো। এমনটি হলে আমি আপনাকে অবশ্যই জীবন ও মৃত্যুর দ্বিগুণ শাস্তি ভোগ করাতাম। এরপর আল্লাহর বিরুদ্ধে আপনার পক্ষে কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পেতেন না। ২৮
অথচ তিনি ছিলেন নবুওয়াতের মর্যাদা এবং নির্বাচিতদের স্তরে অধিষ্ঠিত। তাঁর অবস্থাই যদি হয় এমন, তবে তার অধঃস্তরের লোকদের কী দশা হবে! তাদের অন্তর তো প্রতিনিয়ত বাঁক নিচ্ছে এবং প্রবৃত্তির চাহিদার কাছে ধরাশয়ী হচ্ছে।
যে দুআ করতেন তিনি
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই এই দুআ করতেন—
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ.
হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহ পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপরেই অটল রাখেন!
এ হলো দ্বীন সংশোধনের দুআ। অথচ এই বিষয়টি তাঁর মাঝে পূর্ণমাত্রায়ই ছিল। তাহলে যাদের কৃতকর্মের বোঝা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে থাকা সত্ত্বেও এই দুআ থেকে উদাসীন, তাদের কী অবস্থা হবে? এমনকি কখনো যদি তাদের জবান দুআর জন্য নড়েও উঠে, তা-ও হয়ে থাকে পার্থিব কোনো স্বার্থ সিদ্ধির মতলবেই। তখনো সে দ্বীনকে ভুলেই থাকে!

টিকাঃ
২৮ সূরা ইসরা, আয়াত: ৭৪-৭৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية