📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর বৈশিষ্ট্য

📄 হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর বৈশিষ্ট্য


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
يُيَحْيَى خُذِ الْكِتَبَ بِقُوَّةٍ وَآتَيْنَهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا وَ حَنَانَا مِنْ لَدُنَّا وَ زَكوةً وَكَانَ تَقِيًّا - وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُنْ جَبَّارًا عَصِيًّا وَسَلَمٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا .
“হে ইয়াহইয়া! এই কিতাব সুদৃঢ় ভাবে গ্রহণ কর। আর আমি তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান। এবং আমার নিজের তরফ থেকেই তাকে 'দান করি কোমলতা ও পবিত্রতা আর সে ছিল পরহেযগার।
সে ছিল পিতা-মাতার অনুগত, আর সে অবাধ্য-নিষ্ঠুর ছিল না।
তাকে সালাম তার জন্ম দিনে, মৃত্যুর দিনে আর যেদিন সে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে। (সূরা মারইয়াম-১২-১৫)
মোটকথা, আল্লাহ পাক তাঁকে শৈশব কালেই ইলম এবং হেকমত দান করেছেন যেন তিনি শরীয়তের আহকাম ভালভাবে বুঝতে পারেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম বৈশিষ্ট্য।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল: তিনি কোমল অন্তরের লোক ছিলেন। যেমন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন: আমার নিজের তরফ থেকেই তাকে দান করি কোমলতা ও পবিত্রতা, অর্থাৎ তিনি মানুষের প্রতি স্নেহ প্রাণ ছিলেন এবং যখন নামায পড়তেন তখন অবিরাম ক্রন্দন করতে থাকতেন।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হল: তাঁকে পবিত্রতা এবং পবিত্র অন্তর দেয়া হয়েছিল। ্র শব্দদ্বারা এখানে অন্তরের পবিত্রতা বোঝানো হয়েছে যেন গুনাহের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া থেকে অন্তর পবিত্র থাকে। কোন কোন তত্ত্বজ্ঞানী বলেন যে, زكوة শব্দ দ্বারা নেক আমল বোঝানো হয়েছে।
তার চতুর্থ বৈশিষ্ট্য ছিল : তিনি সৃষ্টিগত এবং স্বভাবগত ভাবে পরহেযগার ছিলেন। আল্লাহর ভয় কখনও তাঁর অন্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হতো না।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য ছিল: তিনি তাঁর পিতা-মাতার খেদমত গুজার ছিলেন। আল্লাহ পাকের ইবাদতের পর পিতা-মাতার খেদমতের চেয়ে অধিক আর কোন গুণ নেই। (তাফসীরে নূরুল কোরআন-১৬/৬৯)

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত ইয়াহইয়া এবং যাকারিয়া (আঃ)-এর হত্যা

📄 হযরত ইয়াহইয়া এবং যাকারিয়া (আঃ)-এর হত্যা


বনী ইসরাঈলে ফেৎনা ফাসাদ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন বাদশাহ হিরদোস আপন ভাবীর প্রেমে আবদ্ধ ছিল এবং তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্কও মযবুত ছিল। বাদশাহ তাকে বিবাহ করতে চায়, কিন্তু মূসা (আ.)-এর শরীয়তে জায়েয না থাকায়, বাদশাহ হযরত ইয়াহইয়া (আ.) থেকে তার বৈধতার ফতোয়া চাইল, তিনি সাফ বলে দিলেন, তোমার জন্য এ বিবাহ বৈধ নয়। এই উত্তর বাদশাহ-এর নিকট পৌঁছলে, তার প্রিয়তমা প্রচন্ড ক্রুদ্ধ হল এবং দিলে দিলে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) থেকে মুক্তির দৃঢ় সংকল্প করলো।
সালোমী খুব সুন্দর নর্তকী ছিল, তার মা তাকে এই চক্রান্ত শিখালো যে, তুই বাদশার সামনে উলঙ্গের কাছাকাছি নর্তক পেশ কর, এবং তাকে খুব মদ পান করা, যখন সে তুর থেকে আপন কামভাব পুরা করতে চাইবে, তখন তুই তার কাছে ইয়াহইয়ার কল্লা কামনা করবে। সালোমী তার মার শিখানো চক্রান্তের উপর আমল করল, এবং নর্তক চলাবস্থায় একেক কাপড় খুলতে লাগলো আর বাদশাহকে মদ পান করাতে লাগল। যখন বাদশাহ তার খায়েশকে প্রকাশ করল, তখন সে তার মতলব উপস্থাপন করল। বাদশাহ তার মন রক্ষার জন্য হযরত ইয়াহ্ইয়া (আ.)-এর হত্যার আদেশ করল।
হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর মাথা মুবারককে স্বর্ণের প্লেটে করে যখন বাদশাহ-এর সামনে রাখা হল, তখন মু'জেযাহ হিসাবে কর্তৃত মাথা থেকেও এই আওয়াজ আসল যে, তর জন্য ইহা হালাল নয়, বাদশাহ এবং অন্যান্য লোকেরা তা দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো। এদিকে হযরত যাকারিয়া (আঃ)-যখন পুত্রের হত্যার কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর হত্যাকারীদের জন্য বদদু'আ শুরু করলেন।
লোকেরা যখন তার বদ দু'আর ব্যাপারে জানতে পারল, তখন তারা হযরত যাকারিয়া (আ.) থেকে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাঁকে মেহরাবে শহীদ করে দিল। এই ঘটনার পরক্ষণেই বনী ইসরাঈলের উপর মসীবতের পাহাড় নেমে আসল। আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর বখতে নাসরকে মুসাল্লাত করে দিলেন, যিনি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিলেন এবং অবশিষ্টদেরকে গ্রেফতার করলেন। স্বৈরাচারীদেরকে আল্লাহ তা'আলা এভাবেই পতন করেন।
আল্লামা ইবনে কাসীর (রাঃ) “আলবিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ” কিতাবে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর হত্যার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনার হত্যার কয়েকটি কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রশিদ্ধ ঘটনা হল এই যে, দিমাশকে তৎকালিনের বাদশাহ তার কোন মাহরাম মহিলার সাথে বিবাহ করতে ইচ্ছা পোষণ করলে হযরত ইয়াহইয়া (আ.) বাধা প্রদান করেন। এই বাধাটা ঐ মহিলার খারাপ লাগে, এমনকি একদিন যখন বাদশাহ ঐ মহিলার থেকে আপন ইচ্ছা পূরণের খায়েশ করল, তখন ঐ মহিলা দাবী জানালো আমার ইয়াহইয়ার কল্লা চাই, বাদশাহ তার দীলজয়ের জন্য তাঁর হত্যার আদেশ করে দিল।
সুতরাং হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর হত্যার পর যখন তিনার মাথা মুবারক এবং রক্ত মুবারক একটি প্লেটে রেখে সামনে আনা হলো, ঐ মহিলা প্লেটটির দিকে দৃষ্টি দিতেই সঙ্গে সঙ্গে মারা গেলো। এদিকে নবীর মাথার রক্ত উগলাইতে লাগল, এমনকি বকতে নসর আসল, এবং সে তিনার রক্তের বদলা হাজার মানুষকে হত্যা করল। অতঃপর বনী ইসরাঈলে একজন নবী আরমিয়া (আ.) তাশরিফ আনলেন, তিনি এসে বললেন, “হে রক্ত! তুমি বনী ইসরাইলকে শেষ করে দিয়েছ, আল্লাহর আদেশে থেমে যাও” ইহা শুনার পর রক্ত থেমে গেল?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00