📄 উম্মে জামিলের শাস্তি
বর্ণিত আছে, আবু লাহাবের মত তার স্ত্রীর মৃত্যুও হয়েছে অত্যন্ত শোচনীয় ভাবে। একদিন সে কাষ্ঠখন্ডের বোঝা বহন করে আসছিল। সে ক্লান্ত অবস্থায় একটি পাথরের উপর বসেছিল। একজন ফেরেশতা রশি ধরে টান দেয়, যা তার গলায় ফেঁসে যায় এবং শ্বাস রুদ্ধ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়। যেভাবে সে সত্যের কণ্ঠ রোধ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিল, তেমনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছিল।
আবু লাহাবের পুত্র ওতবাকে সিরিয়ার পথে বাঘ খেয়ে ফেলেছিল। আর আবু লাহাব বদরের যুদ্ধের সাতদিন পর বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়, তার সমস্ত দেহে পচন ধরে এবং সংক্রামক ব্যাধির কারণে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে জীবিত অবস্থায়ই নির্জনে ফেলে আসে। মৃত্যুর পর তিন দিন পর্যন্ত তার লাশ পড়ে থাকে, কেউ তার লাশ উঠায়নি। এরপর হাবশী ক্রীতদাসরা তা মাটি চাপা দেয়। এভাবে পবিত্র কোরআনের ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়। প্রিয়নবী (সাঃ)-এর দুশমন আবু লাহাব ধ্বংস হয় এবং তার অর্থ-সম্পদ তার কোন কাজে আসেনি। এতো হল দুনিয়ার শাস্তি, আর আখেরাতের শাস্তির ঘোষণা রয়েছে এই আয়াতেঃ
سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ.
"অচিরেই সে পতিত হবে লেলিহান অগ্নিতে’।
وَامْرَأَتُهُ. আর সে শুধু একাই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে না, বরং তার সঙ্গে তার স্ত্রী ও জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিকুন্ডে পতিত হবে।
حَمَّالَةَ الْحَطَبِ. সে তার মাথার উপর ইন্ধন বহন করতো, সে হযরত রাসূলে কারীম (সা.)-এর পথে কাঁটা রেখে দিত, যেন তিনি আহত হন। তাফসীরকার যাহ্যাক (র.) একথাই বলেছেন।
হযরত কাতাদা এবং সুদ্দী (রঃ)-এর মতে, حَمَّالَةَ الْحَطَبِ কথাটির অর্থ হলো চোগলখোর, কেননা আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল চোগলখুরী করতো, এখানের কথা সেখানে লাগিয়ে শত্রুতা সৃষ্টি করতো।
আর সাঈদ ইবনে জোবায়ের (র.) বলেছেন, الحطب অর্থ গুনাহ, অর্থাৎ আবু লাহাবের স্ত্রী ছিল গুনাহর বোঝা বহনকারিনী।
حَمَّالَةَ الْحَطَبِ বাক্যটির অর্থ কাঁটা বহনকারিনী বা চোগলখোর, অথবা পাপের বোঝা বহনকারিনী, যাই হোক না কেন, তার পরিণতি হলো জাহান্নামের কঠিন শাস্তি, এই শাস্তি তাকে চিরদিন ভোগ করতে হবে। কেননা সে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে শত্রুতা করেছিল, তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল।
فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ. 'তার গলায় খেজুরের ছালের তৈরী রশি রয়েছে'।
এর দ্বারা জাহান্নামের শিকলকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এই রশিটি ৭০ হাত দীর্ঘ হবে, যা মুখ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত কষে বেঁধে একত্রিত করা হবে, আর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা গলায় পেঁচানো হবে।
শা'বী এবং শোকাতেল (রঃ) বলেছেন, এর অর্থ হলো খেজুরে ছালের তৈরি মজবুত রশি। সে কাঠের বোঝা বহনের জন্য এ রশি ব্যবহার করতো। আর তা দিয়ে বেঁধেই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
সাঈদ ইবনুল মোসাইয়্যাব (রঃ) বলেছেন, আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিলের গলায় সর্বদা একটি মূল্যবান হার থাকতো, সে দম্ভ প্রকাশ করে বলতো, মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বিরোধিতা এবং শত্রুতা সাধনে আমি এই মূল্যবান হার ব্যয় করবো। হয়তো এ কারণেই জাহান্নামে তাকে এমন শাস্তি দেয়া হবে।
আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপত্তি (র.) লিখেছেন, যদি مسل শব্দটির অর্থ লৌহ নির্মিত জিঞ্জির হয়, তবে আখেরাতে এ শাস্তি হবে।
সুফিয়ান সাওরী (র.) বলেছেন, এ রশিটি প্রকৃতপক্ষে জাহান্নামের জিঞ্জির হবে। (তাফসীরে মাজহারী-১২/৫৭৭)-তাফসীরে রুহুল মাআনী ৩৯/২৬৩)