📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আয়েশার উদারতা

📄 আয়েশার উদারতা


ক্ষমা উদারতা একটি বড় গুণ। মানুষ অনেক গুণাবলীর অধিকারী হতে পারে; কিন্তু ক্ষমা ও উদারতার বেলায় হার মেনে যায়। কুস্তী লড়ে বিজয়ী হওয়া প্রকৃত বিজয় নয় বরং ক্ষমা, উদারতা, প্রতিশোধ গ্রহণে সক্ষম হয়ে ক্ষমা প্রদর্শনই হচ্ছে প্রকৃত বিজয় ও বীরত্বের পরিচায়ক। হযরত আয়েশা (রা.) স্বীয় জীবনকে ক্ষমা ও উদারতার উচ্চ আসনে সমাসীন করতে সক্ষম হন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও উদার প্রকৃতির মহিলা।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 দান-খয়রাত

📄 দান-খয়রাত


পবিত্র কুরআন ও হাদীসে দান-খয়রাতের অসংখ্য ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসে দান-খয়রাতের দ্বারা জাহান্নামের আগুন নির্বাপিত হওয়া, আর এক হাদীসে ইমানী মৃত্যু নসীব হওয়ার কথা উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু কৃপণ ও অর্থলোভীদের জন্য এরূপ নেয়ামত খুব কমই জুটে থাকে। হযরত আয়েশা ছিলেন স্বচ্ছল পরিবারের আদরের কন্যা এবং রাসূলের প্রিয়তমা স্ত্রী, তার নিকট অর্থ সম্পদের ভীড় লেগেই থাকতো, কিন্তু তিনি ছিলেন সাধাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত। পোশাক-পরিচ্ছদ ও পানাহারের বিলাসিতায় অভ্যস্ত ছিলেন না মোটেই। তাঁর না অর্থের প্রতি লোভ ছিল, না ছিল কৃপণতার লেশমাত্র। তাই সমস্ত অর্থ সম্পদ তিনি গরিব-ফকির, আত্মীয়-স্বজন ও ইয়াতীম বিধবা মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করে দিতেন। অনেক সময় অনাহার-অর্ধাহারেই দিন কাটাতেন। একবার সত্তর দেরহাম দান করতে হযরত ওরওয়া স্বয়ং দেখেছেন। হযরত মারিয়া (রাঃ) ও হযরত ইবনে যুবাইর দুজনে একলক্ষ করে দু'লক্ষ দেরহাম খেদমত পেশ করেন। হযরত আয়েশা (রা.) সঙ্গে সঙ্গে তা গরীব-মিসকীনদের মধ্যে বন্টন করেছেন। উপস্থিত এক মহিলা আরজ করলেন, আপনি রোযা আছেন ঘরে খাবার নেই। কয়েক দেরহামের বিনিময়ে ইফতারের ব্যবস্থা করা যেত। হযরত আয়েশা কৌতুক করে বললেন, পূর্বে স্মরণ করালেন না কেন? তোমার আবদার রক্ষা করা যেত। আল্লামা যাহেরী বলেন, হযরত আয়েশা কৃতদাস দাসী ক্রয় করত আর আযাদ করে দিতেন। তাঁর দান খয়রাতের অসংখ্য ঘটনাবলী রয়েছে। তিনি ছিলেন সমকালীনদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দানবীর।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আয়েশা (রা.) জান্নাতী

📄 আয়েশা (রা.) জান্নাতী


হযরত আয়েশা (রা.) জীবনের সর্বাধিক গৌরবের বিষয় এই যে, তিনি দুনিয়ার জীবনেই জান্নাতী হওয়ার এবং জান্নাতে রাসূল (স.)-এর স্ত্রী হওয়ার সুসংবাদ লাভ করেছিলেন। একবার হযরত আয়েশা (রা.) স্বয়ং রাসূল পাক (স.)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, 'তুমি জান্নাতেও আমার স্ত্রী হওয়ার মর্যাদা লাভ করবে।' হযরত ফাতেমার আলোচনা শুনে হযরত আয়েশা (রা.) একটু ভারাক্রান্ত হলে রাসূলে পাক (স.) বললেন, তুমি জান্নাতেও আমার স্ত্রী থাকবে, এতে কি তুমি আনন্দিত নও? হযরত আয়েশা (রা.) বললেন, অবশ্যই। রাসূলে পাক (স.) বলেন, আমি স্বপ্নে আয়েশাকে জান্নাতে দেখেছি। স্বপ্নেই তিনি হযরত আয়েশাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছিলেন। নবীর স্বপ্নই ওহী হয়ে থাকে। হযরত আয়েশা জান্নাতী এবং জান্নাতে তিনি রাসূলের স্ত্রী থাকবেন এ কথা সাহাবাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত আয়েশার অসীয়ত

📄 হযরত আয়েশার অসীয়ত


মৃত্যুর পূর্বে অসীয়ত করা শরিয়তসম্মত বিধান। এ সময় অসীয়ত হয় হৃদয়স্পর্শী এবং সঠিক-সুন্দর। রাসূলে পাক (স.) মৃত্যুর পূর্বে অসীয়ত করার জন্য বিশেষ করে তাগিদ করেছেন। স্বয়ং তিনি মৃত্যুর প্রাক্কালে অসীয়ত করার জন্য বিশেষ করে তাগিদ করেন। তোমরা আমার কবরকে সিজদাহ করো না, লোক সমাগমের স্থানে পরিণত কর না। হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত পর্দানশীল মহিলা ও লাজুক প্রকৃতির নারী। নিজেকে অত্যন্ত নগণ্য মনে করতেন। তাই তিনি মৃত্যুর সময় অসীয়ত করেছিলেন। তোমরা আমাকে উত্তম কাপড়ে দাফন করো না। আমার উপর উত্তম কাপড় ধারণ করো না। রাত্রিবেলায় কবরস্থানে নিয়ে যেও। যাওয়ার সময় আলো জ্বালিও না। অধিক লোকের সমাগম করো না। আমার নিচে কাপড় দিও না। আমাকে রাসূলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যান্য স্ত্রীদের সাথেই দাফন করো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00