📄 হযরত আয়েশার বৈশিষ্ট্য
অহংকার নয় কৃতজ্ঞতার স্বরূপ হযরত আয়েশা বলতেন, হে রাসূলের স্ত্রীগণ! তোমাদের তুলনায় আমার অধিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি রাসূলের স্ত্রীগণের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয়তমা স্ত্রী। আমার পিতা হযরত আবু বকর (রা.) পুরুষের মধ্যে রাসূলের সর্বাধিক প্রিয়। আমার অবিবাহিত অবস্থায় রাসূল আমাকে বিবাহ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি আমার ঘরে অবস্থান করেন। আমার চাবানো মেসওয়াকে সুন্নাত পালন করেছেন। আর আমার গৃহে দাফন করা হয়েছে। আমার গৃহে রাসূলের প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে। আমি হযরত জিব্রাইলকে স্বচক্ষে দেখেছি। এছাড়াও হযরত আয়েশার অসংখ্য বৈশিষ্ট্য ছিল। যথা-
(১) তিনি হযরত আবু বকর (রা.) এর আদরের কন্যা। তাঁর মা জননী উম্মে রুম্মান, যাকে রাসূল (স.) নিজে কবরে নামিয়েছেন। তাঁর বোন হযরত আসমা, যাকে জাতুন্নাতাকাইন বলা হয়।
(২) রাসূলে পাক তাঁর খুশি কামনা করতেন। তাঁর মন জয় করার জন্য স্বচেষ্ট থাকতেন। সাহাবায়ে কেরামও তাঁর খুশি কামনা করতেন।
(৩) রাসূলে পাক তাঁর প্রশংসা করেছেন। কেউ তাঁকে কষ্ট দিলে তিনি স্বয়ং কষ্ট অনুভব করতেন। তাঁকে কষ্ট না দেওয়ার জন্য নসীহত করতেন।
• (৪) খুলাফায়ে রাশেদীনও সাহাবায়ে কেরামগণ সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতেন।
(৫) রাসূলের অসংখ্য হাদিসের তিনি বর্ণনাকারী। তিন শতাধিক মুহাদ্দিসীন তাঁর সূত্রে হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা আড়াই হাজারের অধিক।
(৬) হাদিস, তফসীর, ফারায়েজ, ইতিহাস সহ অসংখ্য বিষয়ে তিনি মহাজ্ঞানী ছিলেন।
(৭) তিনি ছিলেন মুজতাহিদ। পবিত্র কুরআন ও হাদিস থেকে তিনি আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের সাহায্যে অসংখ্য মাসলা-মাসায়েল উদ্ভাবন করেছেন এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য আমলের পথ সুগম করেছেন।
(৮) বিশেষ করে মহিলা সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল এবং এ সম্পর্কে রাসূলের হাদীস সংরক্ষণে তাঁর প্রচেষ্টা ও অবদান অতুলনীয়।
(৯) সাহাবায়ে কেরামের ধর্মীয় ব্যাপারে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে তাঁদের মধ্যে ঐক্য স্থাপনে নজীরবিহীন অবদান রাখেন।
(১০) রাসূলের আদর্শ, আদব সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারে তাঁর ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয়।
📄 হযরত আয়েশার গুণাবলি
হযরত আয়েশা আজ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তিনি বিশ্বাসীর অন্তরের অন্তঃস্থলে অমর হয়ে আছেন। তাঁর প্রতি সকলেই শ্রদ্ধাশীল। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ইমানের নিদর্শন। তাঁর এই মহত্ব ও বড়ত্বের পেছনে রয়েছে হযরত আয়েশার অতুলনীয় গুণাবলি ও উন্নত স্বভাব-চরিত্র। ইবাদত, রিয়াজত, ভয়ভীতি, আল্লাহর প্রতি ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাস। রাসূলের প্রতি আনুগত্য, স্বামীভক্তি, সমবেদনা, দয়ামায়া, পরোপকারিতা, দানশীলতা, ক্ষমা, পর্দা, ন্যায়নিষ্ঠতা ইত্যাদি বহুগুণে গুণান্বিতা হযরত আয়েশা। এ সকল গুণাবলী তাঁকে করেছে সৌভাগ্যশীলা, জান্নাতী, বিশ্বমানবের জন্য তিনি আজ পাথেয় উজ্জ্বল প্রদীপ।
📄 ভয়ভীতি
আল্লাহ পাকের ভয়-ভীতি ইমানের পরিচায়ক। এ কারণেই পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এরূপ ভয়-ভীতিকে সফলতার উপায় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভয়-ভীতি অর্জনের জন্য বিশেষ তফীদের মূল কারণ এটাই। আর এ কারণেই হযরত আয়েশার অন্তর ছিল আল্লাহপাকের ভয়-ভীতিতে পরিপূর্ণ। কি করে আল্লাহ পাকের সম্মুখে দাঁড়াবো! কি করে তাঁকে মুখ দেখাবো। আমি তাঁর অগণিত নিয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি নি, করতে পারি নি... ইত্যাদি বাসনা হযরত আয়েশাকে অস্থির করে তুলতো।
📄 পর্দার গুরুত্ব
হযরত আয়েশা (রা.) পর্দাহীনা মহিলাদের দেখে অবাক হতেন। তিনি বলতেন, যদি রাসূল (স.) জীবিত থাকতেন আর এ অবস্থা অবলোকন করতেন, তাহলে মহিলাদের মসজিদে নামাযের ব্যাপারেও কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। বনী ইসরাইলের মহিলারা পর্দাহীনতার কারণে নিজেরাও ধ্বংস হয়েছে এবং পুরো জাতিকে ডুবিয়েছিল। এই ইতিহাস বর্ণনা করে রাসূলে পাক (স.) স্বীয় উম্মতকে সতর্ক করেছেন। উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা (রা.) একাধিকবার হজব্রত পালন করেছেন। উম্মুল মুমেনীন ছিলেন মুসলিম উম্মাহর অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্রী। অথচ তিনি হজব্রত পালনের মুহূর্তেও পর্দার বিধান কঠোরভাবে পালন করতেন। হযরত আতা বলেন, হজ্বের এক সফরে আমি ও উসাইদ ইবনে হুজাইর দুইজনেই হযরত আয়েশার দরবারে হাজির হই, তখন তিনি ছাবীর পর্বত গুহায় তাবু করে আবৃতাবস্থায় স্বীয় আমলে নিমগ্ন ছিলেন। যারাই তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য হাজির হতো সকলেরই জন্য কঠোর পর্দার হুকুম ছিল। অন্ধ তাবেয়ী ইসহাক হযরত আয়েশার দরবারে হাজির হলে হযরত আয়েশা পর্দার আড়ালে গমন করেন। ইসহাক বলেন, আমি অন্ধ, আমি তো আপনাকে দেখতে পাচ্ছি না, সুতরাং আপনার জন্য পর্দার আড়ালে গমন করার কি প্রয়োজন? হযরত আয়েশা বলেন, আপনি তো আমাকে দেখতে পান না, কিন্তু আমি তো অন্ধ নই। তাবেয়ী ইকরামা বলেন, আয়েশা হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন এর সম্মুখেও পর্দা পালন করতেন।