📄 হযরত যয়নবের মৃত্যু
ঐতিহাসিকদের মতে ৫ম হিজরিতে ৩৫ বছর বয়সে রাসূলে পাকের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। রাসূলের সাথে তাঁর জীবন অতি আনন্দেও সুখ শান্তিতে কাটে। একবার স্ত্রীগণ রাসূলকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার ওয়াফাতের পর স্ত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে আপনার সাথে মিলিত হবে? তিনি বললেন, যার হাত অধিক লম্বা ও প্রশস্ত। রাসূলে পাকের উদ্দেশ্য ছিল “অধিক দান খয়রাতে যার হাত অধিক প্রশস্ত ও লম্বা”। বাস্তবেও রাসূলের ওয়াফাতের পর হযরত যয়নব সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মতান্তরে ৫০ অথবা ৫৩।
📄 জানাযা ও দাফন
হযরত ওমর (রা.) জানাযার ইমামতী করেন। অসীয়ত মতে রাসূলের খাটে করে জান্নাতুল বাকীতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়। জানাযা ও দাফনে সাহাবায়ে কেরাম ও মদিনার অসংখ্য মুসলমান শরিক হন।
📄 শোক প্রতিক্রিয়া
হযরত যয়নবের মৃত্যুতে সকল মুসলমানের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। সাহাবায়ে কেরাম ও মদীনাবাসী অত্যন্ত শোকাতুর হয়ে পড়েন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, হযরত যয়নবের মৃত্যু একজন আল্লাহ ভীরু, ইবাদত গোজার, দানবীর ও সহনশীলা মহিলার মৃত্যু। আমার তাঁর মৃত্যুতে শোকাভিভূত। আমাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাধিক সৌভাগ্যশীলা মহিলা। তাঁর ব্যাপারে কুরআন নাযিল হয়েছে। আল্লাহপাক স্বয়ং নবীর সাথে, যয়নবের বিবাহ কার্য সম্পন্ন করেছেন। জান্নাতে নবীর সাথে সর্বপ্রথম তাঁর দেখা হওয়ার সংবাদ স্বয়ং নবী দিয়েছেন। তিনি পৃথিবীতেও নবীর প্রিয়তমা স্ত্রী ছিলেন, জান্নাতেও নবীর স্ত্রী। সত্যি হযরত যয়নব একজন ভাগ্যবতী মহিলা। আল্লাহ পাক তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন! আমীন।