📄 দানশীলতা
রাসূলে পাক (স.) বলেন, 'দান-খয়রাত ইমানী মৃত্যু লাভের বিশেষ উপায়। যারা আত্মীয়-স্বজন ও গরীব মিসকীনদের প্রতি দানশীলতার হাত প্রশস্ত রাখেন। আল্লাহ পাক তাদের প্রতি স্বীয় ভান্ডার উন্মুক্ত করে দেন এবং তাদের জন্য স্বীয় রহমত ও ইমানী মৃত্যুর সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। হযরত যয়নব রাসূলে পাকের অন্যান্য স্ত্রীদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীলা ছিলেন। আত্মীয়-স্বজন ও গরীবদের প্রতি তাঁর হাত ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত।
📄 যয়নবের অসীয়ত
হযরত যয়নব মৃত্যুর পূর্বে অসীয়ত করেন, আমাকে রাসূলে পাকের খাটে করে কবরে নিয়ে যাবে। আমি আমার কাফনের ব্যবস্থা করে রেখেছি। যদি ওমর (রা.) কাফনের কাপড় পাঠায়। তাহলে তার একটি দিয়ে আমার কাফনের কাজ সমাধা করে অপরটি খয়রাত করে দিবে। যদি তোমাদের কষ্ট না হয়, তাহলে আমার কাপড়গুলো খয়রাত করে দিবে।
📄 হযরত যয়নবের মৃত্যু
ঐতিহাসিকদের মতে ৫ম হিজরিতে ৩৫ বছর বয়সে রাসূলে পাকের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। রাসূলের সাথে তাঁর জীবন অতি আনন্দেও সুখ শান্তিতে কাটে। একবার স্ত্রীগণ রাসূলকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার ওয়াফাতের পর স্ত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম কে আপনার সাথে মিলিত হবে? তিনি বললেন, যার হাত অধিক লম্বা ও প্রশস্ত। রাসূলে পাকের উদ্দেশ্য ছিল “অধিক দান খয়রাতে যার হাত অধিক প্রশস্ত ও লম্বা”। বাস্তবেও রাসূলের ওয়াফাতের পর হযরত যয়নব সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মতান্তরে ৫০ অথবা ৫৩।
📄 জানাযা ও দাফন
হযরত ওমর (রা.) জানাযার ইমামতী করেন। অসীয়ত মতে রাসূলের খাটে করে জান্নাতুল বাকীতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়। জানাযা ও দাফনে সাহাবায়ে কেরাম ও মদিনার অসংখ্য মুসলমান শরিক হন।