📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 বিবাহ প্রস্তাব

📄 বিবাহ প্রস্তাব


মহানবি (সা.)-এর গুণাবলি, চলাফেরা হযরত খাদিজা (রা.)-কে মুগ্ধ করেছিল। যার ফলে তিনি তাঁকে বিবাহের কল্পনা করেন। ইতোমধ্যে তিনি স্বপ্নে দেখলেন আকাশ থেকে সূর্য তার ঘরে এসে ঘরকে আলোকিত করেছে। তিনি তার চাচাত ভাই আরাকার কাছে বলল। যে একজন বিজ্ঞ পণ্ডিত ছিল। তিনি বললেন, শীঘ্রই আপনার সাথে আখেরী নবির বিবাহ হবে। হযরত খাদিজা নিজের পক্ষ থেকে লোক পাঠাতে লজ্জাবোধ করছিলেন। তাছাড়া লোকেরা জানেন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন আর বিয়ে করবেন না। অবশেষে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত আত্মীয়কে গোপনে মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি নবী কারীম (সা.)-এর সাথে প্রথমে ব্যবসার আলোচনা করেন। অতঃপর তিনি নবিকে বললেন আপনি বিয়ে করেন না কেন? মহানবী (সা.) বললেন, আমার বিবাহ করার মত অর্থ নেই। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও দেন মোহর দেওয়ার মত যোগ্যতা না থাকলে তার বিয়ের নাম লওয়া অন্যায়। হযরত খাদিজার আত্মীয় বললেন, আপনাকে যদি এমন রমনী বিয়ে করতে চায় যার ধন-দৌলতের কোনো অভাব নেই। যিনি পরমা সুন্দরী ও গুণবতী। যে আপনার সমস্ত বিয়ের খরচ বহন করবে তাকে আপনি বিয়ে করতে রাজি আছেন? নবী কারীম (সা.) বলেন, এ ব্যাপারে আমার মুরুব্বীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি তাঁর চাচা হামজার সাথে আলোচনা করলে হামজা বিবাহ প্রস্তাবে রাজি হন এবং নবী (সা.)-এর হযরত খাদিজা (রা.)-এর বিবাহ সম্পন্ন হয়।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা

📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা


হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন প্রচুর বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রচুর মেধার অধিকারী ছিলেন। যে কোনো সমস্যা বুদ্ধি ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে সহজে সমাধান করতেন। মহানবী (সা.) নবুয়ত লাভের ছয় মাস পূর্বে থেকে আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখতেন। সবকিছু তিনি বিবি খাদিজার সাথে বলতেন। খাদিজা (রা.) সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন, আপনি যে সাধনা করতেছেন তার ফল অচিরেই পাবেন। মহানবী (সা.)-এর বয়স যখন চল্লিশ তখন জিব্রাঈল (আ.) মানুষের রূপ নিয়ে ডাকতেন। ইহা শুনে তিনি ভয় পেতেন। বিবি খাদিজা তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে মনে সাহস রাখতে বললেন। এভাবে যতবার মহানবী (সা.) ভয়ে পেতেন হযরত খাদিজা (রা.) ততবার দূরদর্শিতার সাথে মহানবী (সা.)-কে সাহস যোগাতেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর গুণাবলী

📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর গুণাবলী


হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন অনন্যা গুণাবলী সম্পন্ন মহিলা। তিনি ছিলেন বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সর্বপ্রথম স্ত্রী। প্রথম ইসলাম কবুলকারী নারী। মহানবী (সা.) নবুয়তপ্রাপ্ত হওয়ার পর হযরত খাদিজা (রা.)-কে বললে তিনি সাথে সাথে তা কবুল করেন। তাছাড়াও তিনি ছিলেন নবী কারীম (সা.)-এর কলিজার টুকরা, জান্নাতী মহিলাদের প্রধান হযরত ফাতেমা (রা.)-এর মা জননী। মহানবী (সা.) নিজে তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আসমান ও জমিনের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমতী রমনী হযরত খাদিজা (রা.)। তিনি নিজের সমস্ত সম্পত্তি স্বচ্ছায় মহানবী (সা.)-এর কাছে দান করেন। তিনি ইসলামের জন্য তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ দান করে দিয়েছিলেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর বিপদে ছায়ার মত থাকতেন। তিনি নিজে মহানবী (সা.)-এর জন্য হেরাগুহায় খাবার নিয়ে যেতেন। আর আল্লাহ পাক নিজে হযরত খাদিজা (রা.)-কে সালাম জানিয়েছেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকাল

📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকাল


সুদীর্ঘ পঁচিশ বৎসর যাবৎ বিবি খাদিজা (রা.) মহানবী (সা.)-এর সেবা-যত্ন করে আসছিলেন। যে কোনো বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে তিনি নবী কারীম (সা.)-এর পাশে ছিলেন। ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক সময়ে হযরত খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালেব ছিলেন। যাঁরা একই বৎসরে মারা যান। তাই এই বৎসরটিকে বলা হয় আ-মূল হুযন বা শোকের বৎসর। মৃত্যুকালে হযরত খাদিজার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি রমজান মাসের ১০ তারিখে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালে আরবে শোকের ছায়া নেমে আসে। আল্লাহ হযরত খাদিজা (রা.) ও তাঁর অনুসারীদেরকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুক। আমীন

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00