📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর বৈবাহিক জীবন

📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর বৈবাহিক জীবন


হযরত খাদিজা (রা.)-এর গুণের কথা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পরে। তখনকার সময়ে তাঁর মতো আর কেউই ছিলেন না। তাই অনেক জায়গা থেকে তাঁর বিবাহের প্রস্তাব আসত। অবশেষে তাঁর পিতা খুওয়াইলিদ একজন বুদ্ধিমান, সুদর্শন, চরিত্রবাণ যুবকের সাথে তাঁর বিবাহ দেন। তিনি স্বামীর সাথে সুখে দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর তাঁর স্বামী ইন্তেকাল করেন। বিবি খাদিজা দুটি সন্তান নিয়ে বিধবা হয়ে পিতার গৃহে চলে আসেন। পিতার গৃহে আসার পর আবার বিভিন্ন দিক থেকে তাঁর বিবাহ প্রস্তাব আসে। এবার তাঁর পিতা তাকে আতিক ইবনে আয়েজ এর সাথে বিয়ে দেন। কিছু দিন পর তাদের একটি সন্তান হয়। কিন্তু এবারও তাঁর স্বামী দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে দুনিয়ার বুক থেকে চির বিদায় নেন। হযরত খাদিজা (রা.) আবার বিধবা হয়ে পিতৃ গৃহে চলে আসেন। তাঁর দু'জন স্বামীই অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই মারা যান। কিন্তু তখনও তাঁর যৌবনের কোনো কমতি হয় নাই। এদিকে তাঁর দুবার বিধবা হওয়ার কারণে তাঁর পিতা ভেঙ্গে পড়ে। আল্লাহর লীলাখেলা বোঝা কারও সাধ্য নেই। যে খাদিজাকে তিনি বারবার বিধবা করছিলেন, তাঁকেই আবার ইহকাল ও পরকালের শ্রেষ্ঠ রমনীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসা বাণিজ্য

📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসা বাণিজ্য


হযরত খাদিজা (রা.)-এর পিতা ছিলেন মক্কার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। আর তিনি ছিলেন তার পিতার একমাত্র কন্যা। সে সূত্রে তিনি তার পিতার সমস্ত সম্পত্তির মালিক হন। তাছাড়া তাঁর দুই স্বামীর অনেক সম্পত্তি ছিল। যার মালিক হন তিনি। পিতার মৃত্যুর পর হযরত খাদিজা (রা.) ব্যবসায়ের মালিক হন। তবে তার পিতা সিরিয়া, ইয়েমেন, শামদেশে ব্যবসা বাণিজ্য করতেন। কিন্তু তিনি তো মেয়ে মানুষ তাঁর কাছে এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। তিনি কয়েক জন বিশ্বস্ত লোককে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন স্থানে পাঠাতেন। ব্যবসা যেভাবে প্রসার হতে লাগল তাতে আরও লোকের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি এমন এক লোককে খুঁজছিলেন যে তার ব্যবসার সর্বাধিনায়ক হতে পারে। তাই তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর ব্যবসার উপযুক্ত লোক মনে করে লোক পাঠালেন। এ কথা শুনে মুহাম্মদ (সা.) তাঁর চাচাকে জানালেন। চাচা খুশি হয়ে তাঁকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি ব্যবসায়ে যোগদান করলেন। আর খাদিজাও তাঁকে সব কাজ বুঝিয়ে দিলেন। মহানবি (সা.) ব্যবসার জন্য অনেক দেশে গমন করতেন। এবং ব্যবসায় অনেক লাভও করতেন। একবার তিনি ব্যবসার জন্য শামদেশে যান, সাথে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে যান। যখন তিনি শামদেশে গিয়ে পৌঁছলেন তখন তিনি একটি গাছের নিচে বসলেন। সাথে সাথে জীর্ণ গাছটি পাতা ফুলে ভরে যায়। এ দৃশ্য দেখে নাসতুরা নামক খৃষ্টান পাদ্রী অবাক হয়ে যায়। তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে গিয়ে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করলেন, নাম শুনে তিনি বললেন এই হলো আখেরী জামানার নবী মুহাম্মদ (সা.)। উপস্থিত সকলে বললেন, আপনি কীভাবে বুঝলেন? তিনি বললেন ইঞ্জিল কিতাবে আমি তার বিবরণ পেয়েছি। এ কথা শুনে সবাই খুশি হলেন এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর সকল মাল বিক্রি করে দিল। এতে ব্যবসায় দ্বিগুণ লাভ হয়। অতঃপর তিনি মক্কায় ফিরে আসেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 মহানবি (সা.)-এর প্রতি হযরত খাদিজা (রা.)-এর আকর্ষণ

📄 মহানবি (সা.)-এর প্রতি হযরত খাদিজা (রা.)-এর আকর্ষণ


হযরত খাদিজা (রা.) ব্যবসায়ে যে লাভ আশা করেছিলেন তার চেয়ে দ্বিগুণ লাভের ফলে যত না খুশি হয়েছে তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে মহানবি (সা.)-এর অলৌকিক ঘটনা শুনে। এরপর তিনি তাঁর সমস্ত ব্যবসার ভার মহানবি (সা.)-এর হাতে তুলে দেন। আর প্রতিবারই তিনি ব্যবসায় প্রচুর লাভ করেন। আর এদিকে হযরত খাদিজা (রা.)-এর মন কেমন চঞ্চল হয়ে উঠে। তাঁর মনে যেন মধুরি ভাবের উদয় হয়। বার বার মহানবি (সা.)-কে দেখার জন্য তাঁর মন চঞ্চল হয়ে উঠে। এবং মহানবি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা উদয় হয়, যা হচ্ছিল একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 বিবাহ প্রস্তাব

📄 বিবাহ প্রস্তাব


মহানবি (সা.)-এর গুণাবলি, চলাফেরা হযরত খাদিজা (রা.)-কে মুগ্ধ করেছিল। যার ফলে তিনি তাঁকে বিবাহের কল্পনা করেন। ইতোমধ্যে তিনি স্বপ্নে দেখলেন আকাশ থেকে সূর্য তার ঘরে এসে ঘরকে আলোকিত করেছে। তিনি তার চাচাত ভাই আরাকার কাছে বলল। যে একজন বিজ্ঞ পণ্ডিত ছিল। তিনি বললেন, শীঘ্রই আপনার সাথে আখেরী নবির বিবাহ হবে। হযরত খাদিজা নিজের পক্ষ থেকে লোক পাঠাতে লজ্জাবোধ করছিলেন। তাছাড়া লোকেরা জানেন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন আর বিয়ে করবেন না। অবশেষে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত আত্মীয়কে গোপনে মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি নবী কারীম (সা.)-এর সাথে প্রথমে ব্যবসার আলোচনা করেন। অতঃপর তিনি নবিকে বললেন আপনি বিয়ে করেন না কেন? মহানবী (সা.) বললেন, আমার বিবাহ করার মত অর্থ নেই। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও দেন মোহর দেওয়ার মত যোগ্যতা না থাকলে তার বিয়ের নাম লওয়া অন্যায়। হযরত খাদিজার আত্মীয় বললেন, আপনাকে যদি এমন রমনী বিয়ে করতে চায় যার ধন-দৌলতের কোনো অভাব নেই। যিনি পরমা সুন্দরী ও গুণবতী। যে আপনার সমস্ত বিয়ের খরচ বহন করবে তাকে আপনি বিয়ে করতে রাজি আছেন? নবী কারীম (সা.) বলেন, এ ব্যাপারে আমার মুরুব্বীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি তাঁর চাচা হামজার সাথে আলোচনা করলে হামজা বিবাহ প্রস্তাবে রাজি হন এবং নবী (সা.)-এর হযরত খাদিজা (রা.)-এর বিবাহ সম্পন্ন হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00