📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবন সূত্র
হযরত খাদিজা (রা.) আরবের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল খুওয়াইলিদ। তিনি ছিলেন পরমা সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী। তিনি সকলের সাথে বিনয় ও নম্রভাবে কথা বলতেন। হাদীস শরীফে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন- বেহেশতের রমনীদের মধ্যে চারজন রমনী শ্রেষ্ঠ। তাদের মধ্যে হযরত খাদিজা (রা.) অন্যতম। তিনি ছিলেন দুনিয়ার বুকে একজন মহীয়সী নারী, যিনি সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর মুখেই সর্বপ্রথম তাওহিদের বাণী উচ্চারিত হয়। হযরত খাদিজা (রা.) ইসলামের জন্য অকাতরে সম্পত্তি দান করেন। ইসলামের দূরাবস্থার জন্য তিনি তাঁর সম্পত্তি দিয়ে মহানবি (সা.)-কে সাহায্য করতেন।
📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর বৈবাহিক জীবন
হযরত খাদিজা (রা.)-এর গুণের কথা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পরে। তখনকার সময়ে তাঁর মতো আর কেউই ছিলেন না। তাই অনেক জায়গা থেকে তাঁর বিবাহের প্রস্তাব আসত। অবশেষে তাঁর পিতা খুওয়াইলিদ একজন বুদ্ধিমান, সুদর্শন, চরিত্রবাণ যুবকের সাথে তাঁর বিবাহ দেন। তিনি স্বামীর সাথে সুখে দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর তাঁর স্বামী ইন্তেকাল করেন। বিবি খাদিজা দুটি সন্তান নিয়ে বিধবা হয়ে পিতার গৃহে চলে আসেন। পিতার গৃহে আসার পর আবার বিভিন্ন দিক থেকে তাঁর বিবাহ প্রস্তাব আসে। এবার তাঁর পিতা তাকে আতিক ইবনে আয়েজ এর সাথে বিয়ে দেন। কিছু দিন পর তাদের একটি সন্তান হয়। কিন্তু এবারও তাঁর স্বামী দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে দুনিয়ার বুক থেকে চির বিদায় নেন। হযরত খাদিজা (রা.) আবার বিধবা হয়ে পিতৃ গৃহে চলে আসেন। তাঁর দু'জন স্বামীই অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই মারা যান। কিন্তু তখনও তাঁর যৌবনের কোনো কমতি হয় নাই। এদিকে তাঁর দুবার বিধবা হওয়ার কারণে তাঁর পিতা ভেঙ্গে পড়ে। আল্লাহর লীলাখেলা বোঝা কারও সাধ্য নেই। যে খাদিজাকে তিনি বারবার বিধবা করছিলেন, তাঁকেই আবার ইহকাল ও পরকালের শ্রেষ্ঠ রমনীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।
📄 হযরত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসা বাণিজ্য
হযরত খাদিজা (রা.)-এর পিতা ছিলেন মক্কার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। আর তিনি ছিলেন তার পিতার একমাত্র কন্যা। সে সূত্রে তিনি তার পিতার সমস্ত সম্পত্তির মালিক হন। তাছাড়া তাঁর দুই স্বামীর অনেক সম্পত্তি ছিল। যার মালিক হন তিনি। পিতার মৃত্যুর পর হযরত খাদিজা (রা.) ব্যবসায়ের মালিক হন। তবে তার পিতা সিরিয়া, ইয়েমেন, শামদেশে ব্যবসা বাণিজ্য করতেন। কিন্তু তিনি তো মেয়ে মানুষ তাঁর কাছে এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। তিনি কয়েক জন বিশ্বস্ত লোককে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন স্থানে পাঠাতেন। ব্যবসা যেভাবে প্রসার হতে লাগল তাতে আরও লোকের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি এমন এক লোককে খুঁজছিলেন যে তার ব্যবসার সর্বাধিনায়ক হতে পারে। তাই তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর ব্যবসার উপযুক্ত লোক মনে করে লোক পাঠালেন। এ কথা শুনে মুহাম্মদ (সা.) তাঁর চাচাকে জানালেন। চাচা খুশি হয়ে তাঁকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি ব্যবসায়ে যোগদান করলেন। আর খাদিজাও তাঁকে সব কাজ বুঝিয়ে দিলেন। মহানবি (সা.) ব্যবসার জন্য অনেক দেশে গমন করতেন। এবং ব্যবসায় অনেক লাভও করতেন। একবার তিনি ব্যবসার জন্য শামদেশে যান, সাথে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে যান। যখন তিনি শামদেশে গিয়ে পৌঁছলেন তখন তিনি একটি গাছের নিচে বসলেন। সাথে সাথে জীর্ণ গাছটি পাতা ফুলে ভরে যায়। এ দৃশ্য দেখে নাসতুরা নামক খৃষ্টান পাদ্রী অবাক হয়ে যায়। তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে গিয়ে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করলেন, নাম শুনে তিনি বললেন এই হলো আখেরী জামানার নবী মুহাম্মদ (সা.)। উপস্থিত সকলে বললেন, আপনি কীভাবে বুঝলেন? তিনি বললেন ইঞ্জিল কিতাবে আমি তার বিবরণ পেয়েছি। এ কথা শুনে সবাই খুশি হলেন এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর সকল মাল বিক্রি করে দিল। এতে ব্যবসায় দ্বিগুণ লাভ হয়। অতঃপর তিনি মক্কায় ফিরে আসেন।
📄 মহানবি (সা.)-এর প্রতি হযরত খাদিজা (রা.)-এর আকর্ষণ
হযরত খাদিজা (রা.) ব্যবসায়ে যে লাভ আশা করেছিলেন তার চেয়ে দ্বিগুণ লাভের ফলে যত না খুশি হয়েছে তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে মহানবি (সা.)-এর অলৌকিক ঘটনা শুনে। এরপর তিনি তাঁর সমস্ত ব্যবসার ভার মহানবি (সা.)-এর হাতে তুলে দেন। আর প্রতিবারই তিনি ব্যবসায় প্রচুর লাভ করেন। আর এদিকে হযরত খাদিজা (রা.)-এর মন কেমন চঞ্চল হয়ে উঠে। তাঁর মনে যেন মধুরি ভাবের উদয় হয়। বার বার মহানবি (সা.)-কে দেখার জন্য তাঁর মন চঞ্চল হয়ে উঠে। এবং মহানবি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা উদয় হয়, যা হচ্ছিল একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়।