📄 সুলাইমানের দরবারে বিলকিস
বিলকিস সর্ববিষয়ে অবগত হয়ে পরিষদের সাথে পরামর্শ ও সমর্থন করে হযরত সুলাইমান (আ.) এর দরবারে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং রওয়ানা হওয়ার পূর্বে দুটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
(ক) বিলকিস তার ঐতিহাসিক সিংহাসনটি সাতটি রাজ প্রাসাদের অভ্যন্তরে একটি সুরক্ষিত মহলে তালাবদ্ধ করতঃ অসংখ্য প্রহরী নিযুক্ত করেন এবং সবার জন্য সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
(খ) বিশ্বস্ত দূতের মাধ্যমে তাঁর আগমনের সংবাদ হযরত সুলাইমান (আ.)-কে জানিয়ে দেন এবং আগমনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে দিলেন যে, আমার লোকজনকে নিয়ে আপনার আহ্বানে হাজির হচ্ছি যাতে, আপনার এবং আপনার আদর্শ এবং ধর্মের ব্যাপারে অবগত হয়ে স্থির ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। এ সমস্ত ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করে বিলকিস তার রাজকীয় নেতৃবৃন্দ এবং অসংখ্য সেনাদক্ষদের সাথে নিয়ে হযরত সুলাইমান (আ.) এর দরবারে হাজির হন।
📄 বিলকিসের ঈমান গ্রহণ
বুদ্ধিমতী বিলকিস হযরত সুলাইমানের পত্র পাঠের পর থেকেই আনুগত্য এবং নমনীয় ভাব প্রদর্শন করতে থাকেন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বেলায় তিনি সঠিক 'তথ্যানুসন্ধানে ব্রতী হন এবং সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন। এই মহিলার ভিতরে বিদ্যমান অতুলনীয় গুণাবলীর সুবাদে হয়ত আল্লাহ পাক তাঁর ইসলাম কবুলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর হযরত সুলাইমানকে মাধ্যম করে একটি আদর্শ ইতিহাস রচনার প্রয়োজন ছিল। সময় ঘনিয়ে এসেছিল বিধায় বিলকিসের অন্তরে ইমানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠে তাই শীশ মহলে পৌঁছে বিগত জীবনের শিরক, কুফরী ও অপরাধের কথা স্মরণ করে স্বেচ্ছায় আবেগপূর্ণ মুহূর্তে আল্লাহর সম্মুখে নতশীর হন। এবং তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রকাশ্যে ইমান ও ইসলামের ঘোষণা দেন। পবিত্র কুরআন তাঁর ইমান গ্রহণ ও আল্লাহর প্রতি স্বীকৃতি ঘোষণার কথা এভাবে ব্যক্ত করেছেন: قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَنَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 'হে আমার প্রভু! আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলাইমান (আ.) এর সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর সম্মুখে আত্মসমর্পণ করলাম।' শুধু বিলকিসই নয়, তাঁর পরিষদবর্গ, সেনাবাহিনী ও সমস্ত দেশবাসীও ইমান ও ইসলামের নেয়ামত লাভে ধন্য হয়, তাদের একনিষ্ঠ প্রশাসক ও নেত্রীর সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে।
📄 বিলকিসের শেষ জীবন
বিলকিস অবিবাহিতা ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর কোনো বিবাহ হয়েছিল কিনা, হয়ে থাকলে তাঁর স্বামী কে ছিলেন। এ ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে কারো মতে সুলাইমানের সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। হযরত সুলাইমান (আ.) তাকে রাষ্ট্রীয় পদে বহাল রেখে ইয়ামেনে পাঠিয়ে দেন। সুলাইমান প্রতি মাসে ইয়ামেনে গমন করতেন। তিনি বিলকিসের জন্য সেখানে তিনটি প্রাসাদ তৈরি করেন। মৃত্যু পর্যন্ত বিলকিস সেখানে অবস্থান করেন। আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকام দান করুন। রাসূলে পাক (স.) বলেনঃ 'বিলকিস জান্নাতে হযরত সুলাইমানের স্ত্রীর মর্যাদা লাভে ধন্য হবে।'