📄 কুরআনের আলোকে মরিয়ম
হযরত মরিয়ম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে যেসব প্রশংসার বাণী নাযিল হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে 'সিদ্দিকা'। নিজে সত্যবাদী হওয়ার সাথে সাথে যে আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের অধিকারী হয়ে তাঁর হুকুম আহকামের প্রতি দ্বিধাহীন চিত্তে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং যথাযথ ভাবে আমল করে আনন্দ পায়। তাকে সিদ্দিকা বলা হয়। পবিত্র কুরআনে মাকামে নবুওতের পর পরই সিদ্দীকিয়দের স্থান নির্ধারণ করা হয়। মুজাদ্দেদে আলফে ছানী (রহ.) বলেন, মাকামে সিদ্দীকিয়দের উপরের অংশ মাকামে নবুওয়তের সাথে মিলিত হয়েছে। যারা এ স্থানে উন্নীত হতে পারে। তাদের সম্মুখে কোনো প্রকার হেজাব ও পর্দার আবরণ থাকে না। তাদের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়। তাদের যাহেন ও বাতেনে আল্লাহ পাকের নূর প্রবিষ্ট হয়। তারা সরাসরি আল্লাহর তাজাল্লী ও নূরে নবুওত পরিদর্শনের গৌরব অর্জনে ধন্য হয়। হযরত মরিয়ম এ মাকামের অধিকারী ছিলেন। তাঁর এই মাকামে লাভের কথা পবিত্র কুরআন ও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
📄 মরিয়মের কারামাত
হযরত মরিয়মের মূল অস্থিরতার কারণ ছিল অবিবাহিতাবস্থায় গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদান, কিন্তু তা আল্লাহ পাকের কুদরত। তিনি অসীম কুদরতের মালিক। মরিয়মের জন্য শুকনো ডালে খেজুর পরিবেশন ও মরুভূমিতে পানির ঝর্ণা প্রবাহিতকরণ মূলতঃ মরিয়মের হাতে কারামতের বহিঃপ্রকাশ। তাই এই কারামত তার জন্য সান্ত্বনার কারণ হতে পারে এবং হয়েছে। নিছক পানি পান করা আর খেজুর ভক্ষণের ব্যবস্থাপনা সান্ত্বনার বাণী নয়।
📄 হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম তারিখ
হযরত মরিয়মের গর্ভে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তিনিই হচ্ছেন হযরত ঈসা (আ.)। হযরত সালমান (রা.) কর্তৃক বুখারী শরীফের হাদিস মতে বিশ্ব নবীর জন্মের দুইশত বছর পূর্বে ২৪/২৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিবালোকে হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। কারো কারো মতে তখন হযরত মরিয়মের বয়স ছিল' বিশ বছর। এই পর্যন্ত তাঁর মাত্র দুবার ঋতুস্রাব হয়। কিন্তু অধিকাংশের মতে তাঁর বয়স ছিল তের বছর। নাম ঈসা এবং উপাধি মসীহ আল্লাহপাক কর্তৃক নির্ধারিত হয়।
📄 মরিয়মের মিসর গমন
আপন সন্তানকে নিয়ে স্বীয় গোত্রের সম্মুখে হাজিরি এবং নবজাত শিশুর মুখে কথা-বার্তা প্রকাশের পর হযরত মরিয়ম কি ভূমিকা পালন করেছেন এবং এরপর তার কি 'অবস্থা হয়েছিল- এই সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য জানা যায় নি। তবে এতটুকু জানা যায় যে, এই সন্তানের সাথে তাদের রাজত্বের সমাপ্তি সাধিত হবে। এ আশংকায় তারা নবজাতক শিশুকে হত্যার পায়তারা করে। এ অবস্থায় হযরত মরিয়ম তাঁর নবজাতক শিশুকে নিয়ে মিশরে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ইউসুফ নাজ্জার স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে তাঁদেরকে নিয়ে মিশরে গমন করেন বলেও কোনো কোনো ঐতিহাসিক উল্লেখ করেন। হযরত মরিয়ম তাঁর সন্তানকে নিয়ে পারস্য সম্রাটের মৃত্যু পর্যন্ত মিশরে অবস্থান করেন।