📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা

📄 যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা


হযরত মরিয়ম নারী জগতের এক অবিস্মরণীয় মহিলা, যার কারণে নারীদের ইতিহাস হয়েছে অলংকৃত, মহিমান্বিত। হযরত মরিয়ম এমন একজন আদর্শ মহিলা যার স্বর্ণময় জীবনী রচনা করে মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
اذ قالت الملائكة يامريم ان الله اصطفك وطهرك واصطفاك على نساء العالمين يا مريم اقنتي لربك واسجدي واركعي مع الراكعين.
"যখন ফেরেশতাগণ বলল, হে মরিয়ম! আল্লাহ তোমাকে নির্বাচন করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করেছেন। তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উচ্চ মর্যাদায় মনোনীত করেছেন। হে মরিয়ম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু ও সিজদা কর।" এখান থেকে মরিয়মের কয়েকটি বিশেষ মর্যাদা প্রমাণিত হয় যথা:
(ক) মরিয়মের প্রতি আল্লাহ পাকের ওহী নাযিল হয়েছে। আল্লাহ পাক তাঁকে সুসংবাদ দান করেছেন।
(খ) সরাসরি ফেরেশতাদের সাথে সাক্ষাৎ ও কথোপকথন হয়েছে। ফেরেশতাগণ আল্লাহর বাণী নিয়ে তাঁর নিকট হাজীর হয়েছে।
(গ) আল্লাহ পাক তাঁর পবিত্রতা, চারিত্রিক নিপুণতার কথা স্বয়ং ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ পাক স্বয়ং তাঁকে পবিত্র করেছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
(ঘ) পৃথিবীর সমস্ত নারী জগতের মধ্যে মরিয়ম সর্বশ্রেষ্ঠ বলে স্বয়ং আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন।
এক হাদীসে রাসূলে পাক ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের মধ্যে যারা প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে- তাদের পূর্বে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে- তাদের অন্যতম একজন হচ্ছেন হযরত মরিয়ম। হযরত জাবিরের সূত্রে তবরানীর হাদীসে রাসূলে পাক ইরশাদ করেন, مبدات نساء اهل الجنة بعد مريم ابنة عمر ان ناطمة وخديجة وأسية امرأة فرعون . 'ইমরানের কন্যা মরিয়মের পর জান্নাতী মহিলাদের নেতা হচ্ছেন ফাতিমা, খাদিজা ও ফিরাউনের স্ত্রী আছিয়া।'

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 কুরআনের আলোকে মরিয়ম

📄 কুরআনের আলোকে মরিয়ম


হযরত মরিয়ম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে যেসব প্রশংসার বাণী নাযিল হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে 'সিদ্দিকা'। নিজে সত্যবাদী হওয়ার সাথে সাথে যে আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের অধিকারী হয়ে তাঁর হুকুম আহকামের প্রতি দ্বিধাহীন চিত্তে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং যথাযথ ভাবে আমল করে আনন্দ পায়। তাকে সিদ্দিকা বলা হয়। পবিত্র কুরআনে মাকামে নবুওতের পর পরই সিদ্দীকিয়দের স্থান নির্ধারণ করা হয়। মুজাদ্দেদে আলফে ছানী (রহ.) বলেন, মাকামে সিদ্দীকিয়দের উপরের অংশ মাকামে নবুওয়তের সাথে মিলিত হয়েছে। যারা এ স্থানে উন্নীত হতে পারে। তাদের সম্মুখে কোনো প্রকার হেজাব ও পর্দার আবরণ থাকে না। তাদের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়। তাদের যাহেন ও বাতেনে আল্লাহ পাকের নূর প্রবিষ্ট হয়। তারা সরাসরি আল্লাহর তাজাল্লী ও নূরে নবুওত পরিদর্শনের গৌরব অর্জনে ধন্য হয়। হযরত মরিয়ম এ মাকামের অধিকারী ছিলেন। তাঁর এই মাকামে লাভের কথা পবিত্র কুরআন ও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 মরিয়মের কারামাত

📄 মরিয়মের কারামাত


হযরত মরিয়মের মূল অস্থিরতার কারণ ছিল অবিবাহিতাবস্থায় গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদান, কিন্তু তা আল্লাহ পাকের কুদরত। তিনি অসীম কুদরতের মালিক। মরিয়মের জন্য শুকনো ডালে খেজুর পরিবেশন ও মরুভূমিতে পানির ঝর্ণা প্রবাহিতকরণ মূলতঃ মরিয়মের হাতে কারামতের বহিঃপ্রকাশ। তাই এই কারামত তার জন্য সান্ত্বনার কারণ হতে পারে এবং হয়েছে। নিছক পানি পান করা আর খেজুর ভক্ষণের ব্যবস্থাপনা সান্ত্বনার বাণী নয়।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম তারিখ

📄 হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম তারিখ


হযরত মরিয়মের গর্ভে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তিনিই হচ্ছেন হযরত ঈসা (আ.)। হযরত সালমান (রা.) কর্তৃক বুখারী শরীফের হাদিস মতে বিশ্ব নবীর জন্মের দুইশত বছর পূর্বে ২৪/২৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিবালোকে হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। কারো কারো মতে তখন হযরত মরিয়মের বয়স ছিল' বিশ বছর। এই পর্যন্ত তাঁর মাত্র দুবার ঋতুস্রাব হয়। কিন্তু অধিকাংশের মতে তাঁর বয়স ছিল তের বছর। নাম ঈসা এবং উপাধি মসীহ আল্লাহপাক কর্তৃক নির্ধারিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00