📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 মরিয়মের ইবাদত-রিয়াজত

📄 মরিয়মের ইবাদত-রিয়াজত


স্বয়ং রাসূল (স.) বলেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই জীবন-সাধনায় পরিপূর্ণতা অর্জন করেছেন। আর মহিলাদের মধ্যে যারা সক্ষম হয়েছিলেন মরিয়ম তাদের অন্যতম। বাইতুল মুকাদ্দাসের উপযোগী খেদমত আঞ্জাম দেয়া এবং রাত-দিন ইবাদত রিয়াজতে নিমগ্ন থাকাই ছিল তাঁর জীবনের প্রাত্যহিক কর্মসূচী। ইবাদত রিয়াজত এবং মুজাহাদার দিক দিয়ে সে যুগে হযরত মরিয়মের কোনো নজীর ছিল না। ইবাদত রিয়াজত ও আল্লাহ পাকের আনুগত্যের প্রশ্নে বনী ইসরাইলের মধ্যে মরিয়মকে উপমা হিসেবে পেশ করা হত। সে যুগের বিশিষ্ট নবী হযরত যাকারিয়া (আ.) ও তাঁর প্রতি মুগ্ধ ছিলেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 মরিয়মের মাকামে মারিফাত

📄 মরিয়মের মাকামে মারিফাত


হযরত মরিয়ম ইবাদত ও রিয়াজতের মাধ্যমেই আল্লাহর মারিফাতের উচ্চ স্তরে সমাসীন হতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর মহত্ব ও মারিফাতের উচ্চ মর্যাদা লক্ষ্য করে অনেকেই তাকে নবীয়া বলে মন্তব্য করেন। কেননা একজন নবীর জন্য এত উচ্চ স্তরে উন্নতি হওয়া সম্ভব। সাধারণ লোকের জন্য তো সম্ভব নয়। তবে অধিকাংশের মতে তিনি নবী ছিলেন না। বরং আল্লাহর মারিফতের অসাধারণ উঁচু স্তরে সমাসীন হতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর প্রতি আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত নাযিল হয়।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 মরিয়মের প্রতি রহমত

📄 মরিয়মের প্রতি রহমত


মরিয়মের খালু ও তত্ত্বাবধায়ক যাকারিয়া (আ.) অনেক সময় খোঁজ খবর নেয়ার জন্য তাঁর ইবাদতগাহে প্রবেশ করতেন। তারা দেখতেন তাঁর কাছে ভিন্ন মৌসুমের তাজা সুন্দর বিভিন্ন ফল-মূল, খাদ্য-দ্রব্য রয়েছে এবং আশ্চর্য হতেন। অবশেষে তিনি মরিয়মে প্রশ্ন করলেনঃ
يا مريم انى لك هذا قالت هو من عند الله ان الله يرزق من يشاء بغیر حساب۔
'হে মরিয়ম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো? তিনি বললেন, এসব কিছু আল্লাহর কাছ থেকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বে-হিসাব রিযিক দান করেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা

📄 যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা


হযরত মরিয়ম নারী জগতের এক অবিস্মরণীয় মহিলা, যার কারণে নারীদের ইতিহাস হয়েছে অলংকৃত, মহিমান্বিত। হযরত মরিয়ম এমন একজন আদর্শ মহিলা যার স্বর্ণময় জীবনী রচনা করে মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
اذ قالت الملائكة يامريم ان الله اصطفك وطهرك واصطفاك على نساء العالمين يا مريم اقنتي لربك واسجدي واركعي مع الراكعين.
"যখন ফেরেশতাগণ বলল, হে মরিয়ম! আল্লাহ তোমাকে নির্বাচন করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করেছেন। তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উচ্চ মর্যাদায় মনোনীত করেছেন। হে মরিয়ম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু ও সিজদা কর।" এখান থেকে মরিয়মের কয়েকটি বিশেষ মর্যাদা প্রমাণিত হয় যথা:
(ক) মরিয়মের প্রতি আল্লাহ পাকের ওহী নাযিল হয়েছে। আল্লাহ পাক তাঁকে সুসংবাদ দান করেছেন।
(খ) সরাসরি ফেরেশতাদের সাথে সাক্ষাৎ ও কথোপকথন হয়েছে। ফেরেশতাগণ আল্লাহর বাণী নিয়ে তাঁর নিকট হাজীর হয়েছে।
(গ) আল্লাহ পাক তাঁর পবিত্রতা, চারিত্রিক নিপুণতার কথা স্বয়ং ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ পাক স্বয়ং তাঁকে পবিত্র করেছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
(ঘ) পৃথিবীর সমস্ত নারী জগতের মধ্যে মরিয়ম সর্বশ্রেষ্ঠ বলে স্বয়ং আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন।
এক হাদীসে রাসূলে পাক ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের মধ্যে যারা প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে- তাদের পূর্বে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে- তাদের অন্যতম একজন হচ্ছেন হযরত মরিয়ম। হযরত জাবিরের সূত্রে তবরানীর হাদীসে রাসূলে পাক ইরশাদ করেন, مبدات نساء اهل الجنة بعد مريم ابنة عمر ان ناطمة وخديجة وأسية امرأة فرعون . 'ইমরানের কন্যা মরিয়মের পর জান্নাতী মহিলাদের নেতা হচ্ছেন ফাতিমা, খাদিজা ও ফিরাউনের স্ত্রী আছিয়া।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00