📄 মরিয়মের তত্ত্বাবধায়ক
হযরত মরিয়মের তত্ত্বাবধায়ক ব্যাপারে সমস্যা দেখা দিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জন্য উর্দুনের সমুদ্রে সাতাশজনের কলম দ্বারা লটারি করা হয়। এই কলমসমূহের দ্বারা তাওরাত কিতাব লিখা হতো বলে মুফাসসির সুদ্দী ও ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এর মন্তব্য। এই লটারিতে হযরত যাকারিয়া সফলকাম হন। ফলে সর্বসম্মতভাবে তিনি মরিয়মের তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারিত হন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ও বিষয়টি উল্লেখ করে ইরশাদ করেনঃ
ذالك من انباء الغيب نوحيه اليك وماكنت لديهم اذ يلقون اقلامهم ايهم يكفل مریم و ماكنت لديهم اذ يختصمون.
এ হচ্ছে গায়েবি সংবাদ যা আমি আপনাকে ওহি করে থাকি। আর আপনি তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা কলম নিক্ষেপ করে প্রতিযোগিতা করেছিল যে কে প্রতিপালন করবে মরিয়মকে। আর আপনি তাদের কাছে, ছিলেন না যখন তারা ঝগড়া করেছিলেন।
অন্যত্র ইশরাদ করেন: وكفلها ذكرياً
'আর (আল্লাহ পাক) তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে দিলেন।'
📄 ইবাদতগাহ নির্মাণ
মরিয়ম যখন উপযুক্ত ও বয়স্কা হয়ে উঠেন তখন মহিলাসুলভ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে হযরত যাকারিয়া (আ.) তাঁর জন্য বাইতুল মুকাদ্দাসের পাশে উপযুক্ত স্থানে একটি ঘর তৈরি করে দেন। মরিয়ম সেখানে ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। হযরত যাকারিয়ার বাইরে কোথাও যেতে হলে তিনি মরিয়মকে ভিতরে রেখে তালাবদ্ধ করে যেতেন এবং স্বয়ং এসে তালা খুলে রাত্রিবেলায় বিশেষত ঋতুস্রাবের সময় স্বীয় বাড়িতে খালার নিকট নিয়ে যেতেন। সেখানে রাত্রি যাপনের পর সকালে পুনরায় ইবাদত গাহে রেখে যেতেন।
📄 মরিয়মের ইবাদত-রিয়াজত
স্বয়ং রাসূল (স.) বলেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই জীবন-সাধনায় পরিপূর্ণতা অর্জন করেছেন। আর মহিলাদের মধ্যে যারা সক্ষম হয়েছিলেন মরিয়ম তাদের অন্যতম। বাইতুল মুকাদ্দাসের উপযোগী খেদমত আঞ্জাম দেয়া এবং রাত-দিন ইবাদত রিয়াজতে নিমগ্ন থাকাই ছিল তাঁর জীবনের প্রাত্যহিক কর্মসূচী। ইবাদত রিয়াজত এবং মুজাহাদার দিক দিয়ে সে যুগে হযরত মরিয়মের কোনো নজীর ছিল না। ইবাদত রিয়াজত ও আল্লাহ পাকের আনুগত্যের প্রশ্নে বনী ইসরাইলের মধ্যে মরিয়মকে উপমা হিসেবে পেশ করা হত। সে যুগের বিশিষ্ট নবী হযরত যাকারিয়া (আ.) ও তাঁর প্রতি মুগ্ধ ছিলেন।
📄 মরিয়মের মাকামে মারিফাত
হযরত মরিয়ম ইবাদত ও রিয়াজতের মাধ্যমেই আল্লাহর মারিফাতের উচ্চ স্তরে সমাসীন হতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর মহত্ব ও মারিফাতের উচ্চ মর্যাদা লক্ষ্য করে অনেকেই তাকে নবীয়া বলে মন্তব্য করেন। কেননা একজন নবীর জন্য এত উচ্চ স্তরে উন্নতি হওয়া সম্ভব। সাধারণ লোকের জন্য তো সম্ভব নয়। তবে অধিকাংশের মতে তিনি নবী ছিলেন না। বরং আল্লাহর মারিফতের অসাধারণ উঁচু স্তরে সমাসীন হতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর প্রতি আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত নাযিল হয়।