📄 উম্মে মরিয়মের দূরদর্শিতা
উম্মে মরিয়মের সন্তান লাভের আনন্দ দীর্ঘ হতে পারেনি। কেননা ইতোমধ্যে তাঁর স্বামী ইমরানের মৃত্যুতে তিনি শোকাতর হয়ে পড়েন। আর কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণের কারণে ইয়াতীমের লালন-পালন ও মান্নতের বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে যায়। ফলে পালকের মধ্যে শান্তি ও আনন্দের জীবন অস্থির ও নিরানন্দ হয়ে যায়। তবে তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও হিম্মতের সাথে চরম বিপদ ও সমস্যার মধ্যেও স্বীয় অবস্থানকে সুসংহত করতে সক্ষম হন। এবং সমস্যা সমাধানের পথও খুঁজে পান। যিনি বিপদ মুক্তির প্রকৃত উপায়। যাঁর হাতে সমস্ত সমস্যার সমাধান। সেই আল্লাহ পাকের প্রতি ধাবিত হয়ে নতশীর হন ও মুক্তির জন্য মুনাজাত করেন।
📄 আল্লাহর সাহায্য কামনা
বালা মুসিবত ও বিপদ মুক্তির জন্য আল্লাহ পাক হচ্ছেন একমাত্র আশ্রয়স্থল। সুতরাং তাঁর নিকট সাহায্য কামনা বাঞ্চনীয়। তাই উম্মে মরিয়ম তাঁর বিপদ মুহূর্তে তাঁরই সাহায্য কামনা করেন। আল্লাহ পাক সৃষ্টির খুঁটিনাটি সবই জানেন। উম্মে মরিয়মের অবস্থা সম্পর্কেও তিনি পরিপূর্ণ অবগত ও পরিজ্ঞাত ছিলেন। এসব জেনে শুনেই উম্মে মরিয়ম স্বীয় অবস্থাকে আল্লাহর সামনে পেশ করেন ও প্রকৃত গোলামী ও দাসত্বের অবস্থানের উজ্জ্বল নিদর্শন স্থাপন করেন।
📄 মান্নাত পূরণের বিরল নজীর
নিঃসন্তান উম্মে মরিয়ম গর্ভাবস্থায় স্বামীর মৃত্যু শোকে শোকাতর ছিলেন। কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার কারণে মান্নত পূরণের ব্যাপারটি আরও জটিল হয়ে পড়ল। কারণ পুরুষদের দ্বারা মান্নত পূরণ করা যত সহজ সম্ভবত কারণেই মহিলাদের দ্বারা তা পূরণ করা তত কঠিন। উম্মে মরিয়ম এসব জটিলতা অবশ্যই অনুভব করেন। কিন্তু তিনি বিচল হন নাই এবং মান্নত পূরণের প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রশ্নে বিন্দু পরিমাণও পিছপা হন নাই। বরং সন্তানের মায়া-মমতা ও সমস্ত বাধা-বিপদ এড়িয়ে আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি রক্ষা করে বিরল নজীর স্থাপন করেন। আল্লাহ পাক উম্মে মরিয়মকে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং শ্রেষ্ঠ জান্নাতে আনন্দের জীবন দান করুন। আমীন!