📄 উম্মে মরিয়ম ও তার স্বামী
উম্মে মরিয়ম বংশীয় মর্যাদার অধিকারিনী ছিলেন। তাঁর স্বামী ইমরান বংশীয় মর্যাদা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাইতুল মুকাদ্দাসের ইমাম ও খতিবের পদে সমাসীন ছিলেন। তাঁর স্বামী ও গোটা পরিবার ছিল আল্লাহ পাকের মনোনীত ও নির্বাচিত বান্দা। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: ان الله اصطفی ادم و نوحا وال ابراهیم وال عمران على العالمين .
অর্থ : আল্লাহ পাক আদম, নূহ, ইবরাহিমের বংশধর ও ইমরানের খান্দানকে নির্বাচিত করেছেন। এ পরিবারের অন্যতম সদস্য হলেন উম্মে মরিয়ম হযরত হান্না। তার চারিত্রিক পবিত্রতা, ইবাদত-জিয়ারত ছিল সর্বজনীন স্বীকৃতি। তাই প্রচলিত নিয়ম বহির্ভূতভাবে তার কন্যা মরিয়মের গর্ভে সন্তান জন্ম নিলে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা তা সহজে মেনে নিতে চায় নি। বরং তারা তাকে ভৎর্সনা করেছিল। তারা বলেছিল :
با اخت هارون ما كان ابوك ارم سوء وما كانت امك بغيا .
'হে হারুনের ভাগিনী! তোমার পিতা অসৎ লোক ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।'
এখানে উম্মে মরিয়মের বংশীয় মর্যাদার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
📄 সন্তান কামনা ও মুনাজাত
উম্মে মরিয়ম ছিলেন নিঃসন্তান। তাই উম্মে মরিয়ম ও তাঁর স্বামী ইমরান সর্বদা সন্তান কামনায় আল্লাহর দরবারে মুনাজাতে মগ্ন থাকতেন। অধীরচিত্ত হান্না একটি পাখিকে স্বীয় বাচ্চা নিয়ে আনন্দে কৌতুকে রত দেখে কাতর ও আবেগপূর্ণ হৃদয়ে সিজদায় অবনত হয়ে এভাবে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করলেন- 'হে অসীম কুদরতের মালিক কৃপাময় আল্লাহ পাক! তুমি যদি এই পাখিটিকে সন্তানের মায়া-মমতা প্রকাশর অবকাশ করে দিতে পার, তবে কি আমি অধমকে সন্তান দান করে হৃদয়ে প্রশান্তি দানে সৌভাগ্যশীলা করতে পারো না! অবশ্যই পার। হে মহান! তুমি আমার মুনাজাত কবুল কর এবং সন্তানের নিয়ামত দানে বাধিত কর।'
📄 উম্মে মরিয়মের দূরদর্শিতা
উম্মে মরিয়মের সন্তান লাভের আনন্দ দীর্ঘ হতে পারেনি। কেননা ইতোমধ্যে তাঁর স্বামী ইমরানের মৃত্যুতে তিনি শোকাতর হয়ে পড়েন। আর কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণের কারণে ইয়াতীমের লালন-পালন ও মান্নতের বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে যায়। ফলে পালকের মধ্যে শান্তি ও আনন্দের জীবন অস্থির ও নিরানন্দ হয়ে যায়। তবে তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও হিম্মতের সাথে চরম বিপদ ও সমস্যার মধ্যেও স্বীয় অবস্থানকে সুসংহত করতে সক্ষম হন। এবং সমস্যা সমাধানের পথও খুঁজে পান। যিনি বিপদ মুক্তির প্রকৃত উপায়। যাঁর হাতে সমস্ত সমস্যার সমাধান। সেই আল্লাহ পাকের প্রতি ধাবিত হয়ে নতশীর হন ও মুক্তির জন্য মুনাজাত করেন।
📄 আল্লাহর সাহায্য কামনা
বালা মুসিবত ও বিপদ মুক্তির জন্য আল্লাহ পাক হচ্ছেন একমাত্র আশ্রয়স্থল। সুতরাং তাঁর নিকট সাহায্য কামনা বাঞ্চনীয়। তাই উম্মে মরিয়ম তাঁর বিপদ মুহূর্তে তাঁরই সাহায্য কামনা করেন। আল্লাহ পাক সৃষ্টির খুঁটিনাটি সবই জানেন। উম্মে মরিয়মের অবস্থা সম্পর্কেও তিনি পরিপূর্ণ অবগত ও পরিজ্ঞাত ছিলেন। এসব জেনে শুনেই উম্মে মরিয়ম স্বীয় অবস্থাকে আল্লাহর সামনে পেশ করেন ও প্রকৃত গোলামী ও দাসত্বের অবস্থানের উজ্জ্বল নিদর্শন স্থাপন করেন।